অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণ, স্বামীকে বলাৎকারের চেষ্টা

0
12

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণ ও তার স্বামীকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ জুলাই) বিকেলে চার যুবককে আসামি করে ওই গৃহবধূ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং তার স্বামী পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে সদর থানায় মামলা করছেন। এ ঘটনায় গ্রেফতার অভিযুক্ত চার যুবককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত রোববার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ গোয়ালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই গৃহবধূ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গ্রেফতাররা হলেন- সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের জগদল দক্ষিণ গোয়ালপাড়া এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে জয়নুল হক (২৫), একই এলাকার এন্তাজুল ইসলামের ছেলে রনি ইসলাম (২৪), শহিদুল ইসলামের ছেলে নুর হোসেন (২১) ও আব্দুল মালেকের ছেলে শাহীন হোসেন (২১)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তিকে তার বাড়ি থেকে মুঠোফোনে ডেকে বাড়ির বাইরে চাওয়াই নদীর ধারে নিয়ে যান প্রতিবেশী জয়নুল হক ও তার তিন সহযোগী। পরে ওই ব্যক্তিকে জয়নুলসহ চারজন বলাৎকারের চেষ্টা করেন। পরে সেই দৃশ্য তারা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জয়নুল তার সহযোগীদের কাছে ওই ব্যক্তিকে রেখে তার (ভুক্তভোগী) বাড়িতে গিয়ে তার শয়ন ঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে টাকাপয়সা খুঁজতে থাকেন।

এ সময় জয়নুলের জিনিসপত্র সড়ানোর শব্দে ওই ব্যক্তির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেলে তিনি চিৎকার করার চেষ্টা করেন। এ সময় জয়নুল তার মুখ চেপে ধরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। পরে ওই ব্যক্তি জয়নুলের সহযোগীদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখেন তার স্ত্রী কান্নাকাটি করছেন। তার কাছে কান্নার কারণ জানতে চাইলে তার স্ত্রী জানায় তাকে ধর্ষণ করে জয়নুল পালিয়ে গেছেন। পরে সোমবার সকালে ওই ব্যক্তি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই চার যুবককে তাদের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সদর থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ কবির বলেন, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ও তার স্বামী বাদী হয়ে থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে চার যুবককে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ওই গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাছ আহম্মদ জানান, এ ঘটনায় ওই চার যুবকের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। তিনজনের নামে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ও একজনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।