advertisement

অপরিষ্কার জাবির লেক, আবাস সংকটে পরিযায়ী পাখি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

শীতের বার্তা নিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আসতে শুরু করে পরিযায়ী পাখি। তবে আবাসন সংকটে সুদূর সাইবেরিয়ান অঞ্চল থেকে আসা ভিনদেশি এসব পাখির সংখ্যা প্রতিবারের তুলনায় অনেক কম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছর পরিযায়ী পাখিদের থাকার জন্য উপযোগী করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলো প্রস্তুত করা হয়। যেন পাখি অবাধে চলাচল ও খাবার সংগ্রহ করতে পারে। সাধারণত আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই লেকগুলো পরিষ্কার করা হয়ে থাকে।

এছাড়া লেকের পাশে দর্শনার্থীদের জন্য নির্দেশনা সম্বলিত বিলবোর্ড টাঙানো হয়। দর্শনার্থীরা যেন অতিথি পাখিকে বিরক্ত করতে না পারে, এজন্য লেকের পাশে দেওয়া হয় কাঁটাতারের বেড়া।

এ বছর এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে পরিযায়ী পাখির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়নি। ফলে আবাসন সংকটে মাত্র দুটি লেকে অল্প কিছু পাখি দেখা যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখানে ছোট-বড় ডজন খানেক লেক আছে। এর মধ্যে বিগত বছরগুলোতে ছয়টি লেকে পরিযায়ী পাখি দেখা যেতো। এগুলো হলো, ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের অভ্যন্তরের লেক, সুইমিংপুল সংলগ্ন লেক, পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের পেছনের লেক, নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের পেছনের লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভেতরের লেক ও পরিবহন চত্বরের পেছনের লেক

তবে এসব লেকের কোনোটি ভরাট হয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে। আবার কোনটি সংরক্ষণের অভাবে কচুরিপানা ও আগাছায় ভরে গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দৃষ্টিগোচর জায়গা ছাড়া বাকি লেকের আগাছা পরিষ্কার করা হয়নি। এবার শুধু বিশমাইল ও পরিবহন চত্বরের পাশের লেক পরিষ্কার করা হয়েছে। আবার এ লেকের পাশ দিয়ে রাস্তা হওয়ার কারণে অল্পসংখ্যক পাখি এখানে বিচরণ করছে। পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক ভরাট হয়ে ছোট হয়ে গেছে। এ লেকের প্রায় চার পাশেই পাড় থেকে গভীর পর্যন্ত ক্রমেই ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া বাকি জায়গা আগাছায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে এখানে এবার কোনো পাখিই আসেনি।

সুইমিংপুল সংলগ্ন লেক কচুরিপানা ও আগাছায় ভরে গেছে। যে কারণে ওই লেকটিতে অতিথি পাখির বিচরণের পরিবেশ নেই।

এছাড়া আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের সামনে ও নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের পেছনের লেক অপরিষ্কার ও লোকজনের অধিক সমাগম হওয়ায় এই লেকেও পাখি নামেনি।

বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরের লেকের চার ভাগের তিন ভাগেই কচুরিপানা দখল করে নিয়েছে। বাকি একভাগে অল্পসংখ্যক পাখি বিচরণ করতে দেখা যায়। এছাড়া পাখির বিচরণের লেকগুলোতে ভেলায় করে গোপনে মাছ শিকার করতেও দেখা যায়।

অতিথি পাখির বিচরণস্থল কমে যাওয়ার পেছনে সংরক্ষণের উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করেছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পরিযায়ী পাখি আসা শুরু করে। নভেম্বরের শেষের দিক থেকে পাখির পরিমাণ বাড়তে থাকে। ডিসেম্বরের শেষে গিয়ে পিক টাইমটা। এবারও ঠিক সময়ে পাখি আসা শুরু করেছে। এবার যেহেতু ভর্তি পরীক্ষা পড়েছে নভেম্বরে। তাই এ সময়টায় লেকে মানুষের ভিড় বেশি ছিল। ফলে খুব বেশি পাখি বসছে না। এক-দুসপ্তাহ পর হয়তো পাখির সংখ্যা বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, বড় যে লেকটা আছে, সেখানে এখনো কচুরিপানা। এস্টেট শাখার সেটা পরিষ্কার করা দরকার ছিল। কেন না ওপেন ওয়াটারের পরিমাণ বেশি থাকলে পাখি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (এস্টেট) আ. রহমান বলেন, সময়ের সংক্ষিপ্ততায় আমরা নতুন কলা ভবনের লেকে পরিষ্কার কাজে হাত দিতে পারিনি। করোনার সময় তো আমরা বাইরের লোক আনতেই পারিনি, ফলে বাকি লেকগুলো পরিষ্কার সম্ভব হয়নি। কিছু লেকে মাটি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ওখানে ভাসমান পানি নেই। কচুরিপানা মাটির সঙ্গে লেগে গেছে। লেক সংস্কার করা ছাড়া এগুলো ঠিক করার উপায় নেই।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পরিযায়ী পাখির আনাগোনা দেখা যায় ১৯৮৬ সালে। সে বছর শীতে পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেকে পাখিরা এসে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে একটা সময় পর্যন্ত ক্রমেই ক্যাম্পাসে আসা পরিযায়ী পাখির সংখ্যা বাড়ে। তেমনি বাড়ে বিচরণক্ষেত্রও। প্রথমে একটি লেক থেকে এক পর্যায়ে চারটি লেকে অতিথি পাখি বিচরণ বেড়ে যায়। মূলত যেসব লেকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিদ্যমান ও খাবারের প্রাচুর্য আছে সেসব লেকেই অতিথি পাখি থাকে। যা বর্তমানে সংকটাপন্ন।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -spot_img

সর্বাধিক পঠিত