অবাক করা একটি গ্রামের সন্ধান,সাহারা মরুভূমির বুকে

0
8

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যেখানে শুধু ধু ধু চারিদিকে বালু আর বালুর গড়াগড়ি সেই মরুভূমিতে একটি একটি গ্রামের উৎপত্তি। যতদূর চোখ যায় শুধু বালু আর বালু। উত্তপ্ত রোদের তেজে পুড়ে যায় শরীর। এই সময় একটু শীতল বাতাসের সঙ্গে এক ফোঁটা পানির যেন বড়ই প্রয়োজন।

মরীচিকার কথা হয়তো সবাই হয়তো কম বেশি জানে। যে সময়টা পানির খুব হাহাকার তখনই যেন দূরে কোথাও পানির মতো দেখা যায়। আর সেই পানির পেছনে দিগ্বিদিক ছুটতে হতে হয় অনেককেই। কিন্তু পানি আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আর এটাকেই মূলত মরীচিকা নাম দেওয়া হয়েছে।

তবে মরীচিকার বদলে যদি সেই খাঁ খাঁ মরুভূমিতেই দেখা যায় বিশাল এক গ্রাম, যেখানে রয়েছে সুপ্ত পানির ভাণ্ডার, তাহলে বিষয়টা কেমন হয়? অবাক করা অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনা সত্য,এমন রহস্যময় সাহারা মরুভূমিতেই রয়েছেন এমন এক গ্রাম। যার নাম হুয়াকাচিনা বা মরুভূমির মাঝখানে একখণ্ড স্বর্গও বলা যায়।

মরুভূমির মাঝখানে এতে চমৎকার একটি গ্রাম, অথচ এর তেমন পরিচিতি নেই, এসব পর্যবেক্ষণ করলেই বিস্ময় জাগে। মরুভূমিপ্রেমী মানুষেরা পৃথিবীর যেসব স্থানে অন্তত জীবনে একবার হলেও ভ্রমণ করতে চান, সেই স্থানগুলোর তালিকায় উপরের দিকে থাকার যোগ্য দাবিদার পেরুর হুয়াকাচিনা।

হুয়াকাচিনা হচ্ছে- পেরুর উপকূলীয় সেচুরা মরুভূমির মাঝখানে অবস্থিত একটি গ্রাম, যেখানে অনায়াসে কয়েকদিন সময় কাটিয়ে দেওয়া যাবে। এই গ্রামে দেড় শ’রও কম সংখ্যক অধিবাসী বসবাস করে, যারা প্রায় সবাই পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। মরুভূমির মাঝখানে হলেও আবাসন নিয়ে কোনো চিন্তা নেই এখানে, কারণ পর্যটকদের থাকার জন্য চমৎকার কিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। তবে মরুভূমিতে অবস্থানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে পানি, আর হুয়াকাচিনা গড়ে উঠেছে মূলত একটি ছোট প্রাকৃতিক জলাধারকে কেন্দ্র করে।

তাই এখানে পানি নিয়ে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না। চাইলে সেই জলাধারে সাঁতার কাটা বা নৌকা নিয়েও ঘুরে বেরোনো যাবে। সেচুরা মরুভূমির তপ্ত বালুপথ পাড়ি দিয়ে আসার পর যখন বিভিন্ন গাছের ছায়াঘেরা এই লেগুন (হ্রদ) চোখের সামনে আসলে এর সৌন্দর্যে বিমোহিত হবে যে কেউই। আসলে সেই ছোট্ট লেগুনই হুয়াকাচিনা গ্রামের প্রাণ, এটিই পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।

তবে মরুভূমির মাঝে এমন অনিন্দ্যসুন্দর জলাধার তৈরি নিয়ে বিভিন্ন লোকশ্রুতি প্রচলিত আছে। ‘হুয়াকাচিনা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘ক্রন্দনরত তরুণী’। পেরুর বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, বহু বছর আগে একজন ইনকা রাজকন্যা মরুভূমির মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঘটনাক্রমে সেই রাজকন্যা একজন শিকারির হাতে ধরা পড়েন। শিকারি তার দিকে খারাপ নজরে তাকালে রাজকন্যা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং তার হাতে থাকা আয়না মাটিতে পড়ে যায়।

স্থানীয় লোকশ্রুতি অনুযায়ী, আয়না মাটিতে পড়ে ভেঙে যায় এবং কাঁচের টুকরা থেকেই পরবর্তীকালে সৃষ্টি হয় এই জলাধার। আবার অনেকের মতে, এক ইনকা রাজকন্যা একজন সুদর্শন যুবককে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন, কিন্তু পরবর্তীকালে হঠাৎ করে সেই যুবক মারা যান। রাজকন্যা তার ভালোবাসার মানুষের মৃত্যুতে এত বেশি কাঁদেন যে তার চোখের পানি থেকেই পরবর্তীকালে সেই জলাধার সৃষ্টি হয়। এগুলো ছাড়াও আরও বেশকিছু জনশ্রুতি রয়েছে। সবখানেই ইনকা রাজকন্যার কথা বলা হয়েছে।

এরকম একটি গ্রাম আসলে আশ্চর্যের বিষয়। প্রকৃতি আমাদের সামনে এতসব অনিন্দ্যসুন্দর সৃষ্টি তৈরি করে রেখেছে যে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই।