আজ বাদ মাগরীব ১লা রজব দোয়া কবুলের রাত।

হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ কাওছার উদ্দিন নূরী

রজব মাস মহাসম্মানিত মাস। এ মাসের অনেক গুরূত্ব ফযীলত রয়েছে। এমাসে রয়েছে ১লা রজব দোয়া কবুলের রাত্র, লাইলাতুর রগাইব, মি’রাজ শরীফ, ৬ই রজব হযরত খাজা মঈন উদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিলাদত শরীফ, ১৪ ই রজব হযরত ইমাম জাফর সাদিক আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ, ১৪ ই রজব হযরত খাজ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিছাল শরীফ।
হারাম বা সম্মানিত রজব মাস উপনীত হলে হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবাইকে পড়তে বলতেন,
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺑﺎﺭﻙ ﻟﻨﺎ ﻓﻲ ﺭﺟﺐ ﻭﺷﻌﺒﺎﻥ، ﻭﺑﻠﻐﻨﺎ ﺭﻣﻀﺎﻥ
“আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফী রজাবা ওয়া শা’বান ওয়া বাল্লিগনা রমাদ্বান।”
অর্থ: “হে আল্লাহ পাক আপনি আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং রমযান শরীফ পর্যন্ত পৌঁছে দেন।”
রজব মাস হারাম বা সম্মানিত মাসের অন্তর্ভূক্ত। এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফে এসেছে——-
হযরত সিদ্দীকে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—– “যমানা কাল-চক্রাকারে ঘুরে আসমান-জমিন সৃষ্টির প্রথম দিনের অবস্থায় ফিরে এসেছে। বারো মাসে বৎসর, তার ভেতর চারটি সম্মানিত। তিনটি একসাথে-জিলকদ, জিলহজ, মুহররম। অপরটি-মুদার সম্প্রদায়ের পঞ্জিকা মতে-জুমাদা ও শাবানের মধ্যবর্তী রজব। (বোখারি শরীফ-মুসলিম শরীফ)
রজব মাসের মর্যাদা সম্পর্কে হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,রজবে রয়েছে একটি নহর, যার পানি বরফের তুলনায় সফেদ-শুভ্র, মধুর তুলনায় মিষ্ট, রজব মাসে যে একটি রোজা রাখবে, সে তা হতে পান করবে।
হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,রজম মাসের ফজিলত অন্যসব মাসের তুলনায় তেমন, যেমন কুরআন শরীফের ফজিলত অন্যসব কালামের ওপর।
হাবীবুল্লাহ, হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
ﻻ ﺗﻐﻔﻠﻮﺍ ﻋﻦ ﺃﻭﻝ ﺟﻤﻌﺔ ﻣﻦ ﺭﺟﺐ ﻓﺈﻧﻬﺎ ﻟﻴﻠﺔ ﺗﺴﻤﻴﻬﺎ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺍﻟﺮﻏﺎﺋﺐ …..
অর্থ : রজবের প্রথম জুমার ব্যাপারে তোমরা উদাসীন থেকো না, কারণ, তা এমন একটি রাত, ফেরেশতারা যার নামকরণ করেছে রাগায়েব হিসেবে …।
রজব মাসের ফযীলত সম্পর্কে হাবীবুল্লাহ, হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
ﺭﺟﺐ ﺷﻬﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺷﻌﺒﺎﻥ ﺷﻬﺮﻱ ﻭﺭﻣﻀﺎﻥ ﺷﻬﺮ ﺃﻣﺘﻲ
অর্থ : রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস আর রমজান আমার উম্মতের মাস।
অন্য হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
– ﺭﺟﺐ ﺷﻬﺮﻋﻈﻴﻢ ، ﻳﻀﺎﻋﻒ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﺤﺴﻨﺎﺕ، ﻓﻤﻦ ﺻﺎﻡ ﻳﻮﻣﺎ ﻣﻦ ﺭﺟﺐ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﺻﺎﻡ ﺳﻨﺔ، ﻭﻣﻦ ﺻﺎﻡ ﻣﻨﻪ ﺳﺒﻌﺔ ﺃﻳﺎﻡ ﻏﻠﻘﺖ ﻋﻨﻪ ﺳﺒﻌﺔ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺟﻬﻨﻢ، ﻭﻣﻦ ﺻﺎﻡ ﻣﻨﻪ ﺧﻤﺴﺔ ﻋﺸﺮ ﻳﻮﻣﺎ ﻧﺎﺩﻯ ﻣﻨﺎﺩ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻗﺪ ﻏﻔﺮ ﻟﻚ ﻣﺎ ﻣﻀﻰ ﻓﺎﺳﺘﺄﻧﻒ ﺍﻟﻌﻤﻞ، ﻭﻣﻦ ﺯﺍﺩ ﺯﺍﺩﻩ ﺍﻟﻠﻪ .
অর্থ : রজব এক মহত ও মহান মাস। আল্লাহপাক তাতে পুণ্য দ্বিগুণ করে দেন। যে রজবের এক দিন রোজা রাখবে সে যেন পুরো বছরই রোজা পালন করল। আর যে সাত দিন রোজা রাখবে তার জন্য জাহান্নামের সাতটি দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। আর ব্যক্তি পনেরো দিন রোজা পালন করবে, আকাশের একজন ঘোষক তাকে ডেকে বলবেন-তোমার ইতিপূর্বের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, সুতরাং নতুনরূপে আমলের সূচনা কর। আর যে এরও অধিক করবে, আল্লাহপাক তাকে আরো অধিক পুরস্কারে ভূষিত করবেন।
আর কুরআন শরীফেও রজব মাসের সম্মানের কথা উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা পবিত্র কোরানে এরশাদ করেন-
ﺇِﻥَّ ﻋِﺪَّﺓَ ﺍﻟﺸُّﻬُﻮﺭِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﺛْﻨَﺎ ﻋَﺸَﺮَ ﺷَﻬْﺮًﺍ ﻓِﻲ ﻛِﺘَﺎﺏِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﻮْﻡَ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺃَﺭْﺑَﻌَﺔٌ ﺣُﺮُﻡٌ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟﺪِّﻳﻦُ ﺍﻟْﻘَﻴِّﻢُ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﻈْﻠِﻤُﻮﺍ ﻓِﻴﻬِﻦَّ ﺃَﻧْﻔُﺴَﻜُﻢْ ﻭ ﻗﺎﺗﻠﻮ ﺍﻟﻤﺸﺮﻛﻴﻦ ﻛﺎﻓﺔ ﻛﻤﺎ ﻳﻘﺎﺗﻠﻮﻧﻜﻢ ﻛﺎﻓﺔ ﻭﺍﻋﻠﻤﻮﺍ ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻊ ﺍﻟﻤﺘﻘﻴﻦ . ‏( ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ 36: )
আসমান-জমিনের সৃষ্টি ও সূচনা লগ্ন হতেই আল্লাহর বিধান মতে মাসের নিশ্চিত সংখ্যা বারটি। তার মাঝে চারটি সম্মানিত। এ অমোঘ ও শাশ্বত বিধান ; সুতরাং এর মাঝে তোমরা (অত্যাচার-পাপাচারে লিপ্ত হয়ে) নিজেদের ক্ষতি সাধন করো না। তোমরা সম্মিলিতভাবে মুশরিকদেরকে প্রতিহত কর, যেভাবে তারা সম্মিলিতভাবে তোমাদের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন।
১লা রজব: ১লা রজব দোয়া কবুলের রাত্র।হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, ‘রজবুল হারাম মাস মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মাস। যে ব্যক্তি রজব মাসকে সম্মান করবে সে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত হবে।’ হাদীছ শরীফ-এ আর ও ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে (বিশেষভাবে) দোয়া কবুল হয়। ১. রজব মাসের পহেলা রাত ২. শবে বরাত বা বরাতের রাত ৩. শবে ক্বদর বা ক্বদরের রাত ৪. ঈদুল ফিতরের রাত ও ৫. ঈদুল আদ্বহার রাত।” পাঁচটি রাত্র মুবারক-এর মধ্যে রজব মাসের পহেলা তারিখের মর্যাদা-মর্তবা অন্যতম। ১লা রজব রাতের প্রতিটা মূহুর্তকে আমাদের প্রত্যেকের উচিত কাজে লাগানো।
পহেলা রজব রাত্রে যিকির, ফিকির, দরূদ শরীফ, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার, দোয়া-কালামের মাধ্যমে সারা রাত জাগ্রত থাকা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জিন-ইনসান সকলের জন্য অবশ্য কর্তব্য। এতে করে মানুষ ইতমিনানের সাথে উক্ত রাত্রে ইবাদত-বন্দিগী, দোয়া-কালাম করতে পারবে।আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য এদিনের ফযীলতকে কাজে লাগিয়ে কামিয়াবী অর্জন করা। তথা আল্লাহ পাক এবং হুযূর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি অর্জন করা।

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -