আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতির গুরুত্ব ধারাবাহিক কলাম-(১)

 

শেখ ফরহাদ রহমান

মানুষ সামাজিক বা রাজনৈতিক জীব যেটাই বলিনা কেন প্রতিটা মানুষই কোন না কোন আদর্শ গ্রহন করে।যে আদর্শ ব্যক্তি গ্রহন করে সেই আদর্শের আলোকে সে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই, চর্চা করে,গবেষণা করে একটা পর্যায়ে সেই আদর্শকে অন্যান্নদের মাঝে বিকশিত করতে সর্বাত্বক চেষ্টা করে যায়। ব্যক্তি কি ধরণের আদর্শ গ্রহন করলো ভালো না মন্দ তার উপর ব্যক্তির চরিত্রের প্রকাশ ঘটে থাকে এর প্রভাব ব্যক্তি পর্যায় থেকে সমাজ তথা রাষ্ট্রের উপর এসে পড়ে। তার মানে হচ্ছে আদর্শ গ্রহনের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেহেতু আদর্শ গ্রহনের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি ভালো – মন্দের প্রভাব বিস্তার করে।বিগত বহুবছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা তেখতে পাই মানুষ অঞ্চলভেদে দেশ ভেদে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের আদর্শ গ্রহন করেছে এবং সেই আদর্শ চর্চা করেছে একটা পর্যায়ে সর্বময় প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে ভিন্ন আদর্শের ধারকদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে মানব জাতির জন্য বিপর্ষয় ডেকে এনেছে। সেই জন্য আমি মনে করি এমন একটি আদর্শে বেছে নেওয়া উচিৎ যে আদর্শের সর্বজনীন আহবান আছে এবং সর্বজন গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। যেহেতু জোর করে কোন আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা যায় না সেহেতু আদর্শ গ্রহনের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি করা ঠিক নয়।….(চলবে…..
( ২)
আপনি যদি নতুন ধারার রাজনীতির প্রবর্তন করতে চান তবে সর্ব প্রথম আপনাকে, আপনার মন মানুষিকতা, আপনার আচার-আচরণ, আপনার কর্মপদ্ধতীর মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। একটি আদর্শকে এবং নিদিষ্ট লক্ষ্য- উদ্দেশ্য সামনে রেখে আপনাকে অগ্রসর হতে হবে। যখন আপনার মাধুর্যতা, আপনার আদর্শ এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জনমনে আস্থার স্থান দখল করবে তখন আপনাকে প্রচুর সতর্ক হতে হবে। বারংবার নিজেকে এডিট করতে হবে, আপনার অনুসারীদের চাহিদা আপনাকে অনুধাবন করতে হবে। আপনরর অনুসারীদের মধ্যে প্রকৃত আদর্শের বিচ রোপণ করার মাধ্যমে, পরিচর্চার মাধ্যমে আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বিষয়টি অত্যন্ত জটিল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তা সকলকে বুঝাতে হবে। একটি শক্তিকে কেন্দ্র করে যখন সকলে একত্রিত হতে শুরু করবে তখন স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়বে আপনি যদি সঠিক ভাবে প্রকৃত কারণ দর্শাতে না পারেন বা ব্যাখ্যা দিতে অপছন্দ করেন তখন আপনার জন্য বিপদ আসতে পারে আপনার প্রতি আঙুল তুলতে জনগণ দ্বিধা করবেনা। স্বাভাবিক ভাবে প্রাচীন জরাজীর্ণ রাজনীতি যদি আপনি প্রয়োগ করতে চান তবে চরমভাবে আপনি হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবেন। স্বচ্ছতা আসে সঠিক জবাবদিহিতা থেকে আর সেই স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয় নীতির উপর বা আইনের মাধ্যমে। অবশ্যই আপনাকে এমন নিতীমালা প্রনয়ন করতে হবে যেখানে সকল অনুসারী যেন সেই নিতীমালা সহজে গ্রহন করতে পারে। আপনাকে নিতীমালার গুরুত্ব বুঝাতে ব্যপক কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। (চলবে——)
(৩)
একটি সমাজে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ বসবাস করে সেই সমস্ত শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে আপনার সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাদের চাহিদা, তাদের আবেগ অনুভূতির প্রতি আপনাকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি আপনার দরদ থাকবে সাথে সাথে বিরাট কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ন করতে হবে যেন তাদেরকে অগ্রগামি করা যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্ম সংস্থান এবং প্রকৃত মূল্যায়নের প্রতি যখন আপনি দ্বায়িত্বশীলতার পরিচয় দিবেন তখন আপনার আদর্শের একটা চিত্র ফুটে উঠবে তখন আপননার আদর্শের প্রতি জনগন আস্থা রাখতে শুরু করবে। পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব ন্যায়বিচারকে প্রশ্ন বিদ্ধ করে াপনাকে দূর্বল করে তুলতে পারে, সেই কারনে পক্ষপাতিত্বকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া থেকে দুরে থাকতে হবে। অর্থাৎ ন্যায় বিচারের পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে। আপনার প্রতিটা পদক্ষেপ জনগণের কল্যানে হতে হবে, আপনাকে বুঝতে হবে সাধারণ জনগন আপনাকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে। মনে রাখতে হবে জনগণের নেতা হলে জনগনের হৃৎস্পন্দনের কাছাকাছি আপনার অবস্থান থাকা জরুরি। হঠকারিতা, অহংকার থেকে নিজেকে সংশোধন করতে হবে। মজলুম জনগনের কাছে মুক্তির বার্তা পৌছে দিতে হব, তারা যেন ভাবতে শেখে যে আপনি তাদেরই একজন। (চলবে……)

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -