আর্থিকভাবে ভঙ্গুর ১০ ব্যাংক রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন পদক্ষেপ, বসবে সমন্বয়ক

 

আফজাল হোসাইন, স্বাধীন নিউজ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের দশটি ব্যাংককে দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছিলেন। দেশের পতনমুখী এসব ব্যাংক গুলোকে রক্ষায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তার সমন্বয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যেই দুর্বল তিন ব্যাংকে কো-অর্ডিনেটর (সমন্বয়ক) বসিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক তিনটি হলো-বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক। পর্যায়ক্রমে বাকি সাত ব্যাংকে বসানো হবে সমন্বয়ক।

এই সব ব্যাংকগুলোকে উচ্চ খেলাপি ঋণ, মূলধন সংকট, প্রভিশন ঘাটতি এবং আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণের সীমা লঙ্ঘন করায় আর্থিকভাবে দুর্বল বা ভঙ্গুর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিলো। সে কারণেই মূলত সমন্বয়ক বসানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জিএম আবুল কালাম আজাদ স্বাধীন নিউজকে বলেন, এরমধ্যেই তিনটি ব্যাংকে সমন্বয়ক দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও যেসব দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিত হয়েছে সেগুলোতে সমন্বয়ক দেওয়া হবে।

জানা গেছে, আর্থিক সূচকে দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাদের (সিএফও) সঙ্গে দফায় দফায় সভা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সভার পর এসব ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড (এনবিএল), বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ও বিদেশি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের সঙ্গে সভা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো কোনোটির সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি এমওইউ সই হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব ব্যাংকের সঙ্গে সভা করছে, তার সব কটিই ডুবতে থাকা ব্যাংক।

ব্যাংক এবং আর্থিকখাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যেসব ব্যাংকের অবস্থা খারাপ, সেগুলোকে বিশেষ তদারকিতে রাখা প্রয়োজন। এজন্য ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের পরিবর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়মগুলোকে বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ পরিদর্শনে অনেক ব্যাংকের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণখেলাপিযোগ্য বলে ধরা পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার যোগ দিয়েই দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পৃথকভাবে তদারকির উদ্যোগ নেন। এরপর ৩ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ১০টি দুর্বল ব্যাংককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করা হবে।

সেদিন জানানো হয়, খেলাপি ঋণের মাত্রা, মূলধন পর্যাপ্ততা, ঋণ-আমানত অনুপাত ও প্রভিশন তথা সঞ্চিতির পরিমাণ-এই চার সূচকের ভিত্তিতে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকের অগ্রগতি বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ আগে রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রধান চার ব্যাংকসহ বেসিক ব্যাংক, বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি করেছে। এর মধ্যে ২০১৫ ও ১৭ সালে রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাপক লুটপাটের স্বীকার বেসিক ব্যাংকে পর্যবেক্ষক দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে এখন আর তা কার্যকর নেই। এর বাইরে ১৯৯৪ সালে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে এবং ২০২০ সালে ওয়ান ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসানো হয়। তা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি ঘটছে না।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ১০ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, এখন থেকে পর্যবেক্ষকের পরিবর্তে সমন্বয়ক দেওয়া হবে। অর্থাৎ পর্যবেক্ষক ফর্মুলা তুলে দেওয়া হচ্ছে। যদিও ব্যাংক কোম্পানি আইনে সমন্বয়কের বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। সেখানে পর্যবেক্ষকের কথা উল্লেখ রয়েছে।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -