আশুলিয়ায় মুঠোফোনে জানিয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

0
43

মোঃ শান্ত খান ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

ঢাকা জেলা ধামরাইয়ে মুঠোফোনে জানিয়ে তিন ঘন্টার মধ্যে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে জামাতার বিরুদ্ধে। ঘরে মরদেহ রেখে ওই ঘাতক স্বামীসহ বাড়ীর সকলেই পালিয়ে গেছে বাড়ী ছেড়ে।

সোমবার (১৭ মে) বিকেলে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার চাকলগ্রাম মধ্যপাড়া এলাাকায়। পুলিশ খুন হওয়া ওই মরদেহটি উদ্ধার করেছে। মরদেহের ছুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডেক্যিাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশি সুত্র।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, ১১বছর পূর্বে ধামরাই উপজেলার বরাটিয়া গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে রোকসানা আক্তারের (৩২) সঙ্গে সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার চাকলগ্রাম মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আওলাদ হোসেনের ছেলে ইয়ার হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছর পর দম্পত্য জীবনে তাদের এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে তার বয়স ৮ বছর। সন্তান জন্মের কিছু দিন তাদের বেশ সুখ স্বাচ্ছন্দে কাটলেও ইয়ার হোসেনের দুই বোন স্বামী সন্তান নিয়ে ওই বাড়ীতেই স্থায়ী বসবাসের ফলে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে তাদের সংসারে সর্বদা ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকে। মাঝে মধ্যেই পরিবারের সবাই মিলে অমানুষিক জুলুম নির্যাতন চালাতো ওই গৃহবধুর ওপর।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার সকাল থেকে ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারিবারিক ফের ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। পরে আজ বিকেলের দিকে ঘাতক স্বামী ইয়ার হোসেন তার ব্যবহৃত মুঠোফোন দিয়ে তার শ্বশুর চাঁন মিয়াকে হুমকী দিয়ে জানায়, আপনার মেয়েকে একেবারে বিদায় করে দেব। তাড়াতাড়ি নিয়ে যান। নাহলে মেয়ে নয় মেয়ের লাশ উপহার দেব আপনাকে।

শ্বশুরের আসতে বিলম্ব হলে এরই জের ধরে ঘাতক স্বামীসহ পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে আজ সোমবার ওই গৃহবধুর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।

একপর্যায়ে ওই গৃহবধুর মৃত্যু হলে পরিবারের সবাই বাড়ীঘর ছেয়ে পালিয়ে যায়। পরে মেয়ের হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে পিতা চাঁন মিয়া বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে ভাতিজা বাবু মিয়া ও আমিনুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন ওই বাড়ীতে যান। তারা ওই বাড়ীতে গিয়ে দেখেন আশুলিয়া থানা পুলিশ মরদেহের ছুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে। মরদেহের হাত-পা ও গলাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের এবং নির্যাতনের স্বরচিহ্ন রয়েছে।

এব্যাপারে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে খুন হওয়া ওই গৃহবধুর স্বামী ও স্বামীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ময়নাা তদন্তের জন্য মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। গৃহবধুর হত্যাকারীরা সকলেই পলাতক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুন হওয়া গৃহবধুর পারিবারিক ও আশুলিয়া থানা পুলিশি সূত্র।

এব্যাপারে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক এসএম কামরুজ্জামান বলেন, ওই গৃহবধুর পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় সন্দেহ ঘণীভুত। তাই ওই গৃহবধুর মরদেহের ময়না তদন্তের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে, সাভারে রফিকুল ইসলাম নামের এক পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।