1. smdsagor24@gmail.com : 01815334574 :
  2. habiburrahmansujon@gmail.com : হাবিবুর রহমান সুজন : হাবিবুর সুজন
  3. : স্বাধীন নিউজ আমাদের : স্বাধীন আমাদের
  4. abdishan123@gmail.com : Abdur Rahman Ishan : Abdur Rahman Ishan
  5. arif.kfj333@gmail.com : Ariful islam :
  6. kmazim1995@gmail.com : Azim Hossen Imran Khan : Azim Hossen Khan
  7. mdsujan458@gmail.com : অ্যাডমিন : Habibur Rahman
  8. hmnaiemsurma@gmail.com : hmnaiem7510 :
  9. holysiamsrabon@gmail.com : Holy Siam Srabon :
  10. mintu9250@gmail.com : kishor01875 :
  11. md.khairuzzamantaifur@gmail.com : Khairuzzaman Taifur : Khairuzzaman Taifur
  12. liakatali870a@Gmail.com : Liakat :
  13. liakatali880a@Gmail.com : Liakat ali :
  14. mirajshakil34@gmail.com : Mahadi Miraj : Mahadi Miraj
  15. niazkhan.tazim@gmail.com : Md. Mehedi Hasan Niaz :
  16. mdnazmulhasanofficial7@gmail.com : Md.Nazmul Hasan :
  17. mdnazmulofficial10@gmail.com : Md Nazmul Hasan : Md Nazmul Hasan
  18. mdtowkiruddinanis@gmail.com : Md Towkir Uddin Anis : Md Towkir Uddin Anis
  19. : Meharab Hossin Opy : Meharab Opy
  20. eng.minto@live.com : Mintu Kanti Nath : Mintu Nath
  21. insmonzur5567@gmail.com : Monzur Liton : Monzur Liton
  22. robiulhasanctg5@gmail.com : Rabiul Hasan :
  23. : Rabiul Hasan : Rabiul Hasan
  24. : Rabiul Hasan : Rabiul Hasan
  25. rubelsheke@gmail.com : Rubel Sk : Rubel Sk
  26. smhasan872@gmail.com : S.M. Mehedi Hasan :
  27. sayedtamimhasan@gmail.com : sayedtamimhasan@gmail.com :
  28. sheikhshouravoriginal@gmail.com : Sheikh Shourav : Sheikh Shourav
  29. admin@swadhinnews.com : নিউজ রুম :
  30. h.m.tawhidulislam@gmail.com : tawhidul : tawhidul
  31. wadudhassan503@gmail.com : Wadud hassan :
  32. Wadudtkg@gmail.com : Wadud khn :
ইসলামের তাত্ত্বিকতা-বাস্তবতা ও অলৌকিকত্ব প্রসঙ্গে। - স্বাধীন নিউজ
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালপুরে ৪কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক  খাগড়াছড়িতে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে এক টাকার বাজার ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র গোসাইরহাট ধীপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। দুই জমজভাই কে ইয়াবা সহ আটক করে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ।  ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ বাংলাদেশী বুড্ডিস্টস এর সভায় দুর্গাপূজায় হামলার গভীর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন। সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে জবিতে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মানববন্ধন সাভারে আওয়ামী লীগের শান্তিমিছিল বাঁচার আকুতি বীর মুক্তিযোদ্ধা  আকবর আলীর ইউপি সদস্য পদে বিজয়ী হতে সকলের দোয়া প্রার্থনা 

ইসলামের তাত্ত্বিকতা-বাস্তবতা ও অলৌকিকত্ব প্রসঙ্গে।

প্রতিবেদক
  • আপডেট : শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে।

— নাইম ইসলাম নিবির।

আজকের এই নিবন্ধটি লিখার উদ্দেশ্যে ইসলাম ধর্মের মধ্যে কী কী অলৌকিকত্ব রয়েছে তা খুঁজতে গিয়ে আমি পেরেশান হয়ে পড়ি। ইসলামের রীতিনীতি, ধর্মীয়বোধ এবং নিয়মকানুন সেই বাল্যকাল থেকেই অনুসরণ করে চলার চেষ্টা করি। ধর্ম যাদের সম্মান করতে বলেছে তাদের কোনো প্রশ্ন ছাড়াই সম্মান করি। আর যেসব বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে সেসব বিষয় এড়িয়ে চলার সাধ্যমতো চেষ্টা করি। আমার জীবনাচরণে ইসলামের খুঁটিনাটি অনুসরণ যেমন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে তেমনি অপরিহার্যও হয়ে পড়েছে। অভ্যাসের কার্যকারণ সম্পর্কে আমি কমবেশি জানি কিন্তু মানবজীবনে ধর্মের অপরিহার্যতা বিশেষত আমার জীবনে ইসলামের অপরিহার্যতা কেন এমনতরো প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য আমি অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

মানবজীবনে ইসলামের অপরিহার্যতা বুঝতে হলে সবার আগে পরিষ্কার করতে হবে ধর্মকর্ম করলে আমার কী লাভ অথবা কী প্রাপ্তি! এই প্রশ্নের উত্তরে বেশির ভাগ ইসলামবেত্তা সাধারণত মরণের পরে জান্নাত এবং দুনিয়াতে আল্লাহর নৈকট্যের কথা বলেন। আবার সেই জান্নাতপ্রাপ্তি এবং আল্লাহর নৈকট্যের বিষয়ে যেসব ব্যাখ্যা বিবৃতি দেন তা কোনো যুক্তির বিচারে বিশ্বাস করা কষ্টকর। তারা বহু অতীত অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা যেভাবে দেন অমনটি কোনো মানুষ জীবৎকালে স্বচক্ষে দেখেছেন বলে জানা যায়নি। ফলে দেওয়ানবাগী-কতুববাগী-আটরশীপন্থীদের বহু অলৌকিক ঘটনার কাহিনী যখন প্রকাশ্যে আলোচনায় আসে তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

ইসলাম সম্পর্কে হাল আমলের প্রচারকদের দায়িত্বহীনতা, ক্ষেত্র বিশেষ একপেশে জ্ঞান এবং নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ, ক্রোধ-হিংসা ইত্যাদিকে ধর্মের লেবাস চাপিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে রীতি চালু হয়েছে তার ফলে জীবনে ধর্মের অপরিহার্যতা প্রমাণ রীতিমতো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অথচ এই ধর্মমতের মৌলিক নীতিমালা, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সবই কুরআন-হাদিসে লিখিত রয়েছে এবং গত চৌদ্দশত বছর ধরে অবিকৃত অবস্থাতেই রয়েছে। এসব লিখিত পবিত্র দলিলাদির ওপর ভিত্তি করে সফলতম পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গঠিত হয়ে পৃথিবীর বুকে কিংবদন্তির ইতিহাস রচনা করেছে। সুতরাং আমরা যদি সেসব ইতিহাস পর্যালোচনার এবং অনুধাবনের দক্ষতা অর্জন করতে পারি তবে বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং সমাজনীতির যেকোনো সূত্রের মাধ্যমে ইসলামের নীতি-আদর্শ এমনকি অলৌকিকত্ব প্রমাণ করা সম্ভব।

ইসলামকে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সর্বপ্রথম যে রাষ্ট্রশক্তি বিচার বিশ্লেষণ শুরু করে তাদের মধ্যে আব্বাসীয় খলিফা হারুন আল রশিদ এবং তার পুত্র খলিফা আল মামুন প্রধানতম ব্যক্তিত্ব। তারা প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের মূল্যবান গ্রন্থগুলো আরবিতে অনুবাদ করান এবং পরিচিত দুনিয়ার নামকরা দার্শনিক, ধর্ম প্রচারক, ইতিহাসবিদ, অঙ্কশাস্ত্রবিদ এবং বিজ্ঞানীদের জড়ো করে মুসলিম পণ্ডিতদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং নিয়মতান্ত্রিক বিতর্কের আয়োজন করেন। ফলে জাজিরাতুল আরবের তলোয়ারধারী বিজয়ী বীর থেকে শুরু করে অহঙ্কারী ইসলামপন্থী নেতারা এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক চাপের মধ্যে পড়েন। ফলে তারা নিজেদের প্রচলিত যুক্তিহীন অলৌকিক বিশ্বাস, নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে অহমবোধ এবং গোঁড়ামি পরিহার করে চলমান বিশ্ব এবং অতীত দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে বাধ্য হন। তারা পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, অঙ্কশাস্ত্র, জ্যামিতি, মনোবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা অর্থাৎ মহাকাশ গবেষণাসহ জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কে গবেষণা করতে আরম্ভ করেন। এ ছাড়া স্থাপত্যবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, সমুদ্রবিজ্ঞান, নৌচলাচল, পরিবহনবিদ্যা ছাড়াও ভ‚গোল নিয়ে বিস্তর গবেষণা শুরু করেন। ফলে জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলিম পণ্ডিতরা এতটাই ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন যার কারণে পরবর্তী এক হাজার বছর ধরে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব, অপরিহার্যতা এবং অলৌকিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগই ছিল না।
খলিফা হারুনের শাসনকাল ছিল মাত্র বিশ বছর। অন্য দিকে তার পুত্র আলামিনের চার বছরের শাসনের পর অন্য পুত্র মামুন খলিফা হন ৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে। তিনিও তার পিতার মতো বিশ বছর শাসন করেন। খলিফা হারুন এবং তার পুুত্রদের ৪৪ বছরের শাসনকালে কী এমন ঘটেছিল যার তেজে জ্ঞান-বিজ্ঞান-ক্ষমতা-বিত্ত ও বৈভবের অসংখ্য সুউচ্চ পিরামিড মুসলিমরা দুনিয়াব্যাপী নির্মাণ করতে পেরেছিলেন, যেগুলোর উচ্চতা স্পর্শ করার মতো সাহস পৃথিবীর অন্য কোনো জাতিগোষ্ঠী পরবর্তী হাজার বছরেও অর্জন করতে পারেনি?

আপনি যদি উপরিউক্ত প্রশ্নের জবাব খুঁজতে যান তবে প্রথমেই আপনাকে খলিফা, খিলাফত এবং শাসকের মনোভাব সম্পর্কে জানতে হবে। খলিফা হারুন এবং তার পুত্ররা নিজেকে মনেপ্রাণে খলিফা বলে বিশ্বাস করতেন। তারা খলিফা শব্দের অর্থ প্রতিনিধির দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন এবং খলিফার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য যে দক্ষতা-অভিজ্ঞতা এবং চরিত্র দরকার তা অর্জন করেছিলেন। তাদের চরিত্র যাতে নষ্ট হয়ে না যায় এ জন্য তাদের সমপর্যায়ের লোক দ্বারা সর্বদা পরিবেষ্টিত থাকতেন। জ্ঞানে ও গুণে যারা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর ছিল তাদের কাছে তারা ছাত্র হিসেবে মাঝে মধ্যে উপস্থিত হতেন প্রয়োজনীয় বিষয়াদি জেনে আসতেন। তারা মন্দ লোকদের শাস্তি দিতেন এবং বদস্বভাবের লোকদের রাজদরবার থেকে তাড়িয়ে দিতেন। তারা সঙ্গী নির্বাচনে অতীব সতর্কতা অবলম্বন করতেন এবং পরিবারের নিকটজনও মন্দ স্বভাবের হলে তাদের নির্বাসনে পাঠাতেন।

খলিফারা নিজেদের মনে করতেন আল্লাহর প্রতিনিধি এবং একই সাথে জনগণের প্রতিনিধি। ফলে তারা আল্লাহ এবং জনগণ উভয়ের প্রতি দায়িত্ববান, কর্তব্যপরায়ণ এবং অনুগত থাকতেন। তাদের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, তারা প্রতিটি মানুষকে আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফা মনে করতেন। তারা শিখেছিলেন যে, আল্লাহ এই জমিনের জন্য মানুষকে তার খলিফা মনোনীত করেছেন তার প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচালন এবং সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য। প্রকৃতির সব প্রাণী, উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ, পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল থেকে শুরু করে মরুভূমি, বরফের স্তর, আলোবাতাস ইত্যাদি সব কিছু সংরক্ষণ, ব্যবহার উপযোগী করা এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে ভাগ বাটোয়ারা করা আল্লাহর খলিফাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কাজেই মানুষের মধ্যে যদি মানবতা বোধ, বিবেক বুদ্ধি এবং শিক্ষার সমন্বয় না থাকে তবে কেউ আল্লাহর খলিফা হতে পারে না।

খলিফা হারুন আল রশিদ এবং তার সন্তানেরা শিখেছিলেন যে, মানবতাকে প্রশ্রয় না দিলে এবং মানুষকে সম্মান না করলে তার ভিতরে লুকায়িত আল্লাহ প্রদত্ত খিলাফতের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বিকশিত হয় না। তারা আরো শিখেছিলেন যে, সাধারণ মানুষজন নিজেদের যত বেশি আল্লাহর খলিফারূপে ভাববে এবং প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর দায়িত্বশীল এবং কর্তব্যপরায়ণ হবে ততই তাদের খিলাফত অর্থাৎ জনগণের প্রতিনিধিরূপে যে সিংহাসনে তারা বসেন তা নিরাপদ হয়ে উঠবে। এ কারণে তারা সর্বশক্তি দিয়ে তাদের রাজ্যের জনসাধারণকে আল্লাহর খলিফা বানানোর জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করে গেছেন।

উল্লিখিত অবস্থায় রাষ্ট্রীয় মদদে মানবসম্পদ উন্নয়নের এক মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। সর্বস্তরে ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং সুষম বণ্টনের পাশাপাশি ট্যালেন্ট হান্ট অর্থাৎ মেধাবী লোকদেরকে খুঁজে বের করার জন্য যে পরাকাষ্ঠা খলিফা হারুন এবং তার সন্তানেরা দেখিয়েছেন তা অন্য কেউ দেখাতে পারেননি। একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী জাবির আল হাইয়ান বাস করতেন রাজধানী বাগদাদ থেকে শতমাইল দূরে পারস্যের নিশাপুরের একটি গ্রামে। খলিফা হারুন বড় বড় রাজকর্মচারী পাঠিয়েও তাকে রাজধানীতে আনতে পারলেন না। ফলে তিনি সেই জমানার শত শত মাইল দুর্গম পথ ভ্রমণের কষ্ট ভোগ করে ছদ্মবেশে জাবির আল হাইয়ানের বাড়িতে চলে গেলেন। খলিফা বিভিন্ন কৌশলে তাকে রাজি করিয়ে রাজধানীতে নিয়ে এলেন এবং রাষ্ট্রীয় মদদে তাকে গবেষণার কাজে নিয়োজিত করলেন। ফলে বিজ্ঞানী জাবির আল হাইয়ানের আবিষ্কার আজও বিশ্বকে চমকিত করতে পারছে।

খলিফা হারুন এবং তার সন্তানদের সময়ে ধর্মকর্ম এবং বিজ্ঞান পরস্পরের পরিপূরক হয়ে গিয়েছিল। তাদের সময়ে ধর্ম নিয়ে যুক্তিতর্ক এমনকি মারামারিতে পর্যন্ত রাষ্ট্রশক্তি হস্তক্ষেপ করত না, এমনকি নাক গলাত না। ইসলামের চারটি মাজহাব মূলত তাদের সময়ে প্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত হয়। প্রথাগত ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু মতাদর্শও চালু হয়। কিন্তু ওসব বিষয় নিয়ে রাষ্ট্র মাথা ঘামাত না। রাষ্ট্র সব শ্রেণীপেশার আলেম ওলামাদের সম্মান করত এবং রাষ্ট্রের সব মেহমানখানা তাদের জন্য অবারিত ছিল। খলিফা স্বয়ং তাদের নিমন্ত্রণ করে শাহী ভোজের আয়োজন করতেন। ইসলামী জ্ঞানে পাণ্ডিত্য রয়েছে অথচ নিতান্ত দরিদ্র আলেমরাও শাহী নিমন্ত্রণ থেকে বঞ্চিত হতো না। বাগদাদের রাস্তায় যারা কেরামতি হুজুররূপী মারেফতি তত্ত্ব প্রচার করত এবং অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় বোহেমিয়ান জীবনযাপন করত তারা শরিয়তি হুজুরদের সাথে একই দস্তরখানে বসে খাবার গ্রহণ করতেন খলিফার উপস্থিতিতে।

পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলাম, আধুনিকতা, যুক্তিতর্ক এবং রাজকর্মের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে এমনভাবে সমন্বয় করা হতো যার ফলে ইসলামের অন্তর্নিহিত মর্মবাণী প্রচারের জন্য কোনো অলৌকিক গল্পগুজবের দরকার পড়ত না। থিউরিটিক্যাল ইসলাম এবং প্রাকটিক্যাল ইসলামের নিয়মকানুন পরিবার সমাজ সংসার এবং রাষ্ট্রে এত নিখুঁতভাবে প্রতিপালিত হতো যার কারণে ধর্মকর্মের রুহানি বরকত, আর্থিক লাভ, সামাজিক-রাজনৈতিক সুবিধা এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার নিয়ামক প্রমাণের জন্য গালগল্প ওয়াজ নসিয়তের দরকার পড়ত না। মানুষ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারত যে, ইসলামের অলৌকিকত্বের বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত। মানুষ তার আত্মিক অনুভূতি, দিব্যদৃষ্টি এবং সুখানুভ‚তির মধ্যেই নিজের সুকর্মের অলৌকিকত্বের প্রমাণ পায়। এটা এতটাই ব্যক্তিগত, গোপনীয় এবং প্রমাণহীন যে, একজনের জীবনে ঘটে যাওয়া অলৌকিকত্ব অন্যজনের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করা যায় না।

ইসলামের প্র্যাকটিক্যাল এবং থিওরিটিক্যাল বিষয়সমূহের সঙ্গে ব্যক্তিগত সফলতা, সুনাম-সুখ্যাতি ও সুস্থতার যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে তা তখনই স্পষ্টরূপে বোঝা যায় যখন দেশের জনগণ নিজেকে আল্লাহর খলিফারূপে ধ্যানজ্ঞান করে এবং শাসক সম্প্রদায়ও নিজেদের জনগণ ও আল্লাহর প্রতিনিধিরূপে প্রতিষ্ঠিত করে। অর্থাৎ রাষ্ট্র ও জনগণ যখন পরস্পরের পরিপূরকরূপে আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে ধর্মকর্ম শুরু করে তখন ধর্মের মধ্যে অলৌকিকত্ব খোঁজার দরকার পড়ে না। যখন মানবাধিকার, মানবতার জয়গান, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সংবেদনশীল মন রাষ্ট্রের প্রধানতম নিয়ামক হয় তখন ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মনে কোনো হতাশা সন্দেহ ইত্যাদি কাজ করে না। বরং পরিবার সমাজ রাষ্ট্র ইসলামী ভাবধারার ভিত্তিতে এমন একটি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে যায় যা কি না পরবর্তী শত শত বছর ধরে জীবনজীবিকা এবং মৃত্যু সম্পর্কে অনাহূত বিতর্ক, ভয়ভীতি এবং অনাসৃষ্টি থেকে মুসলমানদের হেফাজত করে।

নাইম ইসলাম নিবির : রাজনীতিক ও কলামিস্ট।
nayemulislamnayem148@gmail.com

নিউজটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

আলোচিত সংবাদ

© All rights reserved © 2021 Swadhin News
Design & Developed By : PIPILIKA BD