ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুরে ৬০ হাজার কোরবানির গরু প্রস্তুত

0
12

সেলিম রেজা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদর সহ ১৩টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের বাড়িতে কোরবানি উপলক্ষে ২/৪টি করে ষাড় বা বলদ গরু লালন পালন করে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়। ঐরাকার চাহিদা মিটিয়ে এ সিংহ ভাগ গরু ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফতুল্লা, মাওয়াসহ বিভিন্ন বড় বড় কোরবানির পশুর হাটে নিয়ে বিক্রি করা হয়। ফলে কোরবানির গরু লালন পালন করে এ উপজেলার যমুনা নদী বেষ্টিত ৪টি ইউনিয়নের চর এলাকার হাজার হাজার হতদরিদ্র কৃষক স্বচ্ছল হয়ে উঠেছে। ইউনিয়ন গুলি হল, খুকনি, জালালপুর, কৈজুরি, সোনাতনী ও গালা। অন্যান্য ইউনিয়নের হতদরিদ্র ও স্বচ্ছল কৃষক এই গরু পালন করে আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হয়ে উঠেছে,
এ জন্য শাহজাদপুরে সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি ৫ হাজার মোটাতাজা করণ খামার গড়ে উঠেছে। এ সব খামার ও কৃষকের বাড়িতে এ বছর ঈদুল আজাহা উপলক্ষে ৬০ হাজার ষাড় ও বলদ গরু মোটাতাজা করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এর সিংহ ভাগ গরু দেশের বিভিন্ন বড় বড় হাটে নিয়ে বিক্রি করা হবে। ট্রাক যোগে এ সব গরু পরিবহণে পুলিশী হয়রানি ও পরিবহণ সেক্টরের চাঁদাবাজি এ বছর কম হলেও নৌপথে গরু পরিবহণে কৃষকেরা ডাকাত আতংকের মধ্যে রয়েছে। তারা এ নৌরুটে ব্যাপক নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধির জোর দাবী জানিয়েছে,
এ বিষয়ে সোনাতনী গ্রামের ভোলা মোল্লা ফকির চান, শহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, সেলিম হোসেন,ছোট চানতারা গ্রামের এনামুল হক, আমিরুল ইসলাম, আরশেদ আলী মোল্লা, জগতলা গ্রামের আলেফ আলী, আব্দুস সাত্তার, জামিরতা গ্রামের নাজমুল হক, চরকৈজুরি গ্রামের হাসেম আলী, উল্টাডাব গ্রামের আলমাস আলী ও অমিরুল ইসলাম বলেন,আমরা নিজের সন্তানের মত করে আমাদের গরু গুলোকে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন পালন করে মোটাতাজা করেছি, এ গরু বিক্রির আয়ে আমাদের সংসার চলে। আমরা স্বচ্ছল জীবন যাপন করি। নৌপথে এ গরু হাটে নিতে আমরা ডাকাত আতংকে শংকার মধ্যে আছি। তাই নদী পথে নৌ পুলিশের টহল আরো জোরদার করার জোর দাবী জানাচ্ছি,
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মিজানুর রহমান বলেন,শাহজাদপুর উপজেলায় সুষম খাদ্য ও প্রাকৃতিক উপায়ে উৎকৃষ্টমানের বড় বড় ষাড় ও বলদ গরু লালন পালন করা হয়। ফলে দেশের বড় বড় হাট গুলিতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে এলাকার ২০ হাজার গরুর চাহিদা পূরণ কওে প্রয় ৪০ হাজার গরু এ বছর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফতুল্লা, মাওয়াসহ বিভিন্ন বড় বড় কোরবানির পশুর হাটে নিয়ে বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশাকরছি তারা এ বছরও ভাল দাম পাবে, তিনি আরো বলেন, কৃষকদের শংকার কোন কারণ নেই। নৌপথে যাতে তারা নির্ভিঘ্নে গরু নিয়ে যেতে পারে সে জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শাহজাদপুর-নারায়ণগঞ্জ নৌপথের সকল থানা ও নৌথানা পুলিশকে এ ব্যাপাওে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। আশাকরি তারাও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন,
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো: শামসুজ্জোহা বলেন, নৌপথে যাতে কোরবানির গরু নির্বিঘ্নে যেতে পারে সে জন্য সকল পদক্ষেক নেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে কৃষকদের আতংকিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।