এক পুলিশের গল্প (প্রথম পর্ব)

0
24

লেখক,মোঃ শহিদুল্লাহ
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা

রাত জেগে আমার ক্লাসের বই পড়ার অভ্যাস৷ পড়ার ফাঁকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নাটকে আমাকে দেয়া গোলাম হোসেন চরিত্র-এর ডায়লগগুলি মুখস্ত করে নেই৷ পড়তে পড়তে কখন ঘুমিয়ে গেছি জানিনা৷ ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখছি নবাব সিরাজ যেন তাকে দেয়া কণ্টকাকীর্ণ আসনের সামনে দাঁড়িয়ে বলছেন ‘ভাইসব তোমাদের এই পরিহাস নির্মম, কিন্তু নিরর্থক নয়৷ সত্যিই আজ আমি তোমাদের উপহাসের পাত্র৷ প্রজা প্রতিপালনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সিংহাসনটি আমি পেয়েছিলাম৷ প্রজার স্বার্থরক্ষা করবার দায়িত্বও আমি নিয়েছিলাম৷ কিন্তু আমি তার কিছুই করতে পারিনি৷ আর পারিনি বলেই আজ আমি তোমাদের কাছে উপহাসের পাত্র৷’ স্বপ্ন দেখতে দেখতে ‘বাবা শেলী, বাবা শেলী ওঠ কলেজে যাবি না৷ আজ না কলেজে তোর পুরস্কার নেওয়ার দিন৷’ মায়ের কন্ঠের এই মমতা মাখানো কথাগুলো শুনে ঘুম ভেঙে গেলো৷ দেওয়ালে টাঙানো ওয়াল ক্লক-এর দিকে তাকিয়ে দেখি সকাল আটটা বেজে গেছে৷ লক্ষীপাশা খেয়াঘাট পার হয়ে ওপারে লোহাগাড়া কলেজে দশটা বাজার ১৫ মিনিট আগে পৌঁছতে হবে৷ আজ লোহাগাড়া আদর্শ কলেজের এক বিশেষ দিন৷ আজকের দিনে কলেজের মেধাবী ছাত্র এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথম স্থান অধিকারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে৷ পুরস্কার বিতরণ করবেন লোহাগাড়া আদর্শ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খুলনা সুন্দরবন কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মহোদয় ৷ বিজয়ীদের মধ্যে উপস্থিত বক্তৃতা, পর্যায়ক্রমে গল্প বলা, কবিতা পাঠ প্রভৃতি বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকারের তালিকায় তিনটি ক্ষেত্রেই অামার নাম রয়েছে৷ ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ সহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষে নাস্তা করে শরীরে পোশাক চড়িয়ে আমি হাঁটাপথে লক্ষীপাশা খেয়া ঘাটের দিকে রওনা হলাম৷ এ পথের যাত্রী আমি একাই৷ লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয় থেকে আমার যে ক্লাসমেট গুলো মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েছি তাদের মধ্যে কেউই লোহাগাড়া আদর্শ কলেজ ভর্তি হয়নি৷ পরিবারের সাথে থাকার জন্য একমাত্র আমিই লোহাগড়া অাদর্শ কলেজে ভর্তি হয়েছি৷ তাই এ পথে ‘অামি একা, বড় একা; আমার সাথে কেউ নেই’।