advertisement

এবারও কি বিশ্বকাপ জিতবে বাংলাদেশ?

স্পোর্টস ডেস্ক

কয়েক দিন পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে বসতে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। এর আগে হবে যুবাদের এশিয়া কাপও। এই দুই টুর্নামেন্টের দল ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যাবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। এবারে দল নিয়ে নিজের ভাবনা, প্রত্যাশা, আগের দলের সঙ্গে পার্থক্য সবকিছু নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ নাভিদ নেওয়াজ।

এবারের বিশ্বকাপে ভালো করার জন্য বাংলাদেশের কী দরকার?

আমাদের মাথায় আছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভালো করার জন্য কেমন স্ট্যান্ডার্ড দরকার। ওই রকমভাবেই আমরা এক বছর ধরে দলটাকে তৈরি করেছি। বিশ্বকাপ জেতার কথা ভাবার আগে এটা ভাবা উচিত যে বিশ্বকাপে ভালো করতে আপনার কেমন স্কিল প্রয়োজন। অনুশীলনেও সেটার প্রয়োগ করা, আমরা এক বছর ধরে সেভাবেই দল গড়েছি। খেলোয়াড়দেরও সেভাবে তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যারা গিয়ে পারফর্ম করতে পারে। ভেন্যুর দিক থেকেও কম্বিনেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেভাবেই খেলোয়াড়দের বাছাই করেছি, যারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে পারবে। আমরা যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাবো, সবকিছু নির্ভর করবে নির্দিষ্ট দিনে কেমন পারফর্ম করলাম তার ওপর। আমি যেটা চাই, ১১ জনই অবদান রাখুক, একসঙ্গে দলের অনেকে অবদান রাখুক। যদি আমরা ওই দিনটা ভালো করি, অবশ্যই আমরা উপরে থাকবো। এটাই পরিকল্পনা। যদি আপনার প্রস্তুতি ও ব্যাক আপ না থাকে ওই কন্ডিশনে ভালো করার এটা বলা খুব কঠিন বিশ্বকাপ জিতবেন।

আগেরবারের সঙ্গে এবারের দলের পার্থক্য কেমন দেখেন?

এটা সম্পূর্ণ আলাদা দুটা দল। কিন্তু আপনি যদি শেষবারেরটা দেখেন, দু বছর ধরে আমরা খুব ভালো ব্যাটিং ইউনিট তৈরি করেছি। বোলিং ইউনিটও ভালো ছিল। কিন্তু খুব বেশি অলরাউন্ডার ছিল না শুধু শামীম পাটোয়ারী ছাড়া। এবারের দিকে যদি তাকান, আমাদের ভালো ব্যাটিং ইউনিট আছে, কিন্তু করোনার কারণে কিছুটা অনভিজ্ঞ রয়ে গেছে তারা। এটা একটা সমস্যা প্যান্ডামিকের যেটা ফেস করছি। কিন্তু আমাদের খুব ভালো বোলিং ইউনিট আছে। দলে কয়েক জন অলরাউন্ডার আছে, যেটা অনেক বড় এডভান্টেজ। ব্যাটিং ইউনিট থেকেই বিশ ওভারের মতো পাওয়া যাবে। টিম কম্বিনেশন সাজাতে কাজটা সহজ করে দেয় এটা, খুব বড় এডভান্টেজও হবে। আমার মনে হয় শক্তির জায়গা আলাদা দু দলের।

বিশ্বকাপজয়ী দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার রাকিবুল হাসান ও তানজিম হাসান সাকিব আছেন এবারের দলেও। তাদের নিয়ে কী ভাবনা?

দুজনকে পাওয়া বড় এডভান্টেজ। তারা দুজন দু বছর ধরে আছে। তারা জানে কী করেছে আগের দুবছরে যেটা আমাদের সাফল্য এনে দিয়েছে। ভালো ব্যাপার হচ্ছে তারা অন্যদের অনুপ্রাণিত করছে। তারা পরিকল্পনায়ও অবদান রাখছে, তারা জানে আগে কী হয়েছে।

করোনার কারণে প্রস্তুতি কম হয়ে গেল?

আমরা গত বছরটা হারিয়েছি, এ বছরও অর্ধেকটা করোনার কারণে গেছে। আমাদের প্রস্তুতি খুব সংক্ষিপ্ত ছিল এবার। ক্যাম্পে বেশি সময় কাটাতে পারিনি। আমার মনে হয় বিসিবি ত্রিদলীয় সিরিজ আয়োজন করে ভালো করেছে এশিয়া কাপের আগে। আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারতের বিপক্ষে খেলেছে ছেলেরা। বেশির ভাগই ১২-১৫ টি যুব ওয়ানডে খেলেছে। এই সময়ে এশিয়া কাপ শেষ করলে ২০ টা হয়ে যাবে। এটাই করার ছিল বর্তমান পরিস্থিতি। আমার মনে হয় সব দেশের জন্যই সমান। এটা নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তিত না। এখনও ভাবছি কীভাবে সময়টাকে কাজে লাগানো যায়। যেন খেলোয়াড়রা সেরা অবস্থানে থাকে।

বিশ্বকাপ দল নিয়ে প্রত্যাশা?

দুটা লক্ষ্যই থাকতে পারে অনূর্ধ্ব-১৯ দল নিয়ে। মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য খেলোয়াড় প্রডিউস করা, যেকোনো বোর্ডই এই লক্ষ্যে দল গড়ে। দ্বিতীয় ও স্বল্প মেয়াদী লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বকাপ জেতার চেষ্টা করা। আমরা স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদ দুই ধরনের লক্ষ্যের দিকেই তাকিয়ে আছি।

জাতীয় দলে এসে পারফর্ম করতে পারছেন না শামীম পাটোয়ারী ও মাহমুদুল হাসান জয়। কেন?

আন্ডার নাইন্টিন বা ঘরোয়া থেকে জাতীয় দলে যাওয়া। আমরা সবাই জানি এই দুই জায়গায় বড় পার্থক্য আছে। অবশ্যই যখন শক্ত ঘরোয়া ক্রিকেট থাকবে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গেলে ব্যর্থ হবেই। কারণ তারা ওই লেভেলের প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য তৈরি না। কিন্তু অন্যদিকে তাদের দিকে যদি তাকান, যদি মনে করেন তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হওয়ার স্কিল আছে। তাহলে নির্বাচকদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং খেলতে দিতে হবে। আমার মনে হয় এরপর ৬ মাস বা ১ বছরের মধ্যেই তারা পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাবে।

সৌরভ গাঙ্গুলী কি বাংলাদেশ দল নিয়ে কিছু বলেছেন?

নির্দিষ্ট কিছু না। কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়দের প্রশংসা হয়েছে ভারতে, বিশেষত কলকাতায়। তারা আমাদের ব্র্যান্ড অব ক্রিকেটে আগ্রহী। সবাই যেটা বলেছে, দলটাকে খুব পরিকল্পনার মধ্যে থাকা মনে হয়েছে। এটা দেখাটা খুব ভালো যে, আমরা লক্ষ্যের দিকে যাচ্ছি। হয়তো শতভাগ না, কিন্তু ৭০-৮০ ভাগ যেতে পারলেও হয়।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -spot_img

সর্বাধিক পঠিত