এবারের কোরবানীর ঈদে কেমন আছেন সিলেটের কামাররা

0
10

রুবেল আহমদ সিলেট প্রতিনিধিঃ
প্রতিবার কুরবানির ঈদ আসলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় সিলেটের কামার পট্টির কর্মজীবী মানুষগুলোর। তবে এবারের চিত্র একটু ভিন্ন করোনার প্রভাব ব্যবসায়।

ব্যস্ততা বাড়লেও অন্যান্য বারের তুলনায় এবার তাদের কাজ কম। বিক্রিও নেই চাহিদামতো।

১৭ জুলাই শনিবার সিলেটের আম্বরখানা ও মদিনা মার্কেটের কামারপট্টি, কাজিরবাজার,টোকরবাজার, ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

অন্য সময় এখানে হাপরের টানে কয়লা পোড়ে, জ্বলে লোহা; হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হয় দৈনন্দিন জীবনে কাজের উপযুক্ত দ্রব্য সামগ্রী।

হাসুয়া, কাস্তে, দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো সব যন্ত্রপাতি। তবে এবার সে চিত্র ঠিক থাকলেও কমেছে ব্যস্ততা, বেড়েছে হাহাকার।

ঈদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে এই সময়টাতে কামার শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করলেও এবার তাদের আগের পণ্যগুলো নতুন করে বিক্রি করতেই বেশি সময় যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদ সামনে রেখে কিছু বিক্রি হচ্ছে। তবে সেটা আসলে খুব কম। ঈদের আগে এই ব্যবসাটা অনেকটাই কোরবানির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এবার তো করোনার জন্য মানুষের হাতেই টাকা পয়সা নেই, কোরবানিও অনেক কম। ফলে বিক্রিও কমেছে।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে বছরের এ সময় লোহার যন্ত্রগুলোর চাহিদা বেশি থাকায় কামাররা ভালো উপার্জন করে থাকেন। তবে এবার হতাশা ঘিরে ধরেছে তাদের। করোনা পরিস্থিতির কারণে একেবারেই বেচাকেনা নেই বলে জানালেন আম্বরখানা কামারপড়ার আরেক ব্যবসায়ী ।

তিনি বলেন, কয়েক দিন পর ঈদ। অন্যবার এই সময়ে জমে উঠে দা-বঁটির বাজার, অথচ এবার বিক্রি নেই। ক্রেতারা আসছে না। সারাদিনে দুই তিনটা দা-বটিও বিক্রি হয় না। অন্য সময় যেসব পণ্য ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন তা ২০০ টাকাতেও বিক্রি করতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, বছরের এই ঈদ মৌসুমই আমাদের মূল টার্গেট থাকে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন একেবারেই ভিন্ন।

তবে আক্ষেপের সুর থাকলেও একটা সময় পণ্য বিক্রি হবে, এই আশাতেই পশরা সাজিয়ে বসেছেন সিলেটের বিভিন্ন বাজারের কামারপট্টির এই ব্যবসায়ীরা। তাদের কাছে মিলবে দৈনন্দিন জীবনে কাজের উপযুক্ত দ্রব্য সামগ্রী হাসুয়া, কাস্তে, দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো সব যন্ত্রপাতি। লোহার মান এবং পণ্যের আকার ভেদে এগুলোর দাম পড়বে ২০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে