1. hridoy@pipilikabd.com : হৃদয় কৃষ্ণ দাস : Hridoy Krisna Das
  2. support@pipilikabd.com : pipilikabd :
  3. md.khairuzzamantaifur@gmail.com : তাইফুর রহমান : Taifur Bhuiyan
  4. admin@swadhinnews.com : নিউজ রুম :
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

কখনো তিনি দ্বিতীয় হননি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২০
  • ১৭১ বার পঠিত
কখনো তিনি দ্বিতীয় হননি

মানুষ মাত্রই স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। জেগে কিংবা ঘুমিয়ে স্বপ্নে বিভোর থাকাই যেন মানুষের অভ্যাস। তবে, স্বপ্ন দেখা মানুষগুলোর মাঝেও এমন কিছু স্বপ্নবাজ রয়েছে, যারা শুধু স্বপ্নে বিভোর না থেকে বরং স্বপ্ন বাস্তবায়নে তৎপর হয়। স্বপ্নকে লক্ষ্যবস্তু করে অদম্য সাহসে ছুটে চলে। চলনে-বলনে-পঠনে স্বপ্নের চর্চা করে মন-মগজে স্বপ্নকে আকাঙ্ক্ষায় রূপ দেয়। তারা অদূর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করে বর্তমানকে সর্বোচ্চ কাজে লাগায়।

এমনি এক স্বপ্নবাজ তরুণ প্রকৌশলী ইমরান মাসুদ। তার বিস্তৃত স্বপ্নরাজ্যে সফলতার পারদ যেমন ঊর্ধ্বগামী, একই সাথে অর্জনের ঝুলিটাও বেশ ভারী। ডুয়েট থেকে পাস করে এই তরুণ প্রকৌশলী জীবনে চলার পথে প্রতি কদমেই যেন এঁকেছেন সফলতার চিহ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক, টানা ৪ বার ডিনস অ্যাওয়ার্ড কিংবা ইউজিসি মেরিট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের মুকুটে কী নেই? সম্প্রতি সাফল্যের পালক খচিত স্বর্ণমুকুটে যুক্ত হলো প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮।

ছাত্রজীবনে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে এবার প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। ইউজিসি প্রবর্তিত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮ তে ডুয়েট থেকে মনোনীত তিন শিক্ষার্থীর একজন হলেন তড়িৎ কৌশল অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান মাসুদ। তিনি ডুয়েটে তড়িৎ কৌশল অনুষদ থেকে ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অধিকার করে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে সকল বিভাগের সকল অনুষদের মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

ডুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে তিনি উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ডুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। এছাড়াও তিনি ডুয়েট শিক্ষক সমিতির বর্তমান সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ইমরান মাসুদ ফেনীর দাগনভূঞা থানার ছায়া সুনিবিড় আমিরগাও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার চাকরির সুবাদে কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে। খুব ছোটবেলায় বাবা তার মাথায় এক পোকা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন, ‘ব্যাটা, তোকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার ‘শিক্ষক বাবার সেই শেষ শব্দটাই যেন ইমরান মাসুদ কে আগা গোঁড়া পেয়ে বসে। ইঞ্জিনিয়ার হতে হলেতো ভালোভাবে পড়াশুনা করতে হবে। তাই খেলাধুলা, আড্ডা, ঘুরাঘুরি সকল কিছুর সাথে পড়াশুনাটাও ষোল আনা উসুল করা চাই। নিয়মিত পড়াশুনার ফলাফল স্বরূপ এসএসসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ণ হন ইমরান মাসুদ।

বাবার স্বপ্নপূরণের অগ্রযাত্রায় ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটে ‘ডাটা টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ডিএনটি)-টেকনোলজি’তে ভর্তি হন। ইমরান মাসুদ ২০১২ সালে কৃতিত্বের সাথে ১ম স্থান অধিকার করে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন।

কিন্ত উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ ছিল তখনও অন্ধকারাচ্ছন্ন। আদৌ কি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন? কারণ, ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য একমাত্র বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ডুয়েটে তখনও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ডিএনটি শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। যখন সকল ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়, তখন ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণের সময় ছিল মাত্র ২ মাস ৭ দিন।

আশেপাশের অনেকেই বলেছিল এই অল্প সময়ে এত বিশাল সিলেবাস পড়ে চান্স পাওয়া আদৌ সম্ভব নয়। তুমি বরং দ্বিতীয়বারের জন্য প্রস্তুতি নাও। কিন্ত হার না মানা যোদ্ধাতো ময়দানে লড়াই না করে থামবেন না, তাকে তো জিততে হবেই। তার শব্দভাণ্ডারেতো অসম্ভব বলে কিছু নেই। তাই মাত্র দুই মাস ৭ দিনের নিরলস শ্রম আর কঠোর অধ্যাবসায়ের ফলস্বরূপ প্রথমবারেই ডুয়েটে চান্স পান ইমরান মাসুদ।

এক মহামনিষী বলেছিলেন, যে স্বপ্ন দেখতে পারে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেও পারে। এই উক্তির সাথে শতভাগ সহমত পোষণ করলেন প্রকৌশলী ইমরান মাসুদ। তিনি বলেন, জীবন একটা ক্রমবর্ধমান জটিল প্রক্রিয়া, এই প্রক্রিয়ায় বেঁচে থাকতে হলে চাই অর্থবহ স্বপ্ন। যে স্বপ্ন বাস্তবায়ন যোগ্য, যে স্বপ্নের পানে তাকিয়ে অদেখা ভবিষ্যৎ দেখা যায়।

সকল কাজের কাজী ইমরান মাসুদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাও ছিল বর্ণাঢ্য। ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখ ইমরান ছিলেন ভার্সিটির সকল কো-কারিকুলার এক্টিবিটিসের অন্তঃপ্রাণ। সভা-সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাগ-ডে বা বিভাগের ফেয়ারওয়েলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সকল জায়গায় সমান পদচারণা ছিল সবসময়। পড়াশুনার পাশাপাশি ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটি, বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম ডুয়েট চ্যাপ্টারের মতো দায়িত্বশীল সংগঠন পরিচালনা করেছেন দক্ষ হাতে।

উত্তরা ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক প্রকৌশলী ইমরান মাসুদের কাছে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আর অপূর্ণ স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাই। সদা হাস্যজ্জল ইমরান মাসুদ মৃদু হেসে অকপটে বলেন, ‘গবেষণা। আমার একমাত্র লক্ষ্যই উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতির জন্য অবদান রাখা। কারণ, ১৭ কোটি বাঙালির কষ্টে অর্জিত অর্থে আমি স্নাতক সম্পন্ন করেছি। সাধারণ জনগণের অর্থায়নেই এখনো ডুয়েটে স্নাতকোত্তর পড়ছি তাই, এই জাতির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা অনেকটাই বেশি।’

শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত প্রকৌশলী ইমরান মাসুদের কথাগুলো যেন বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ছে এখনো। আমরা কি এভাবে ভেবেছি কখনো? যে দেশের জনগণের অর্থে আমরা স্নাতক পড়ছি, স্নাতকোত্তর পড়ছি, সেই দেশের জনগণের কথা আমরা কতটুকু ভেবেছি। আমরা কি আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করছি?

এখনও আমরা অনেকেই অধিক বেতনের চাকরির লোভে বিদেশে পাড়ি জমাই, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের নামে বিদেশ বিভূঁই হই। বিদেশের মাটিতে অনেকেই আমরা যে অনন্য কীর্তির নজির স্থাপন করছি, তার শুরুটা কিন্ত এই বাংলার মাটি, জল আর বাঙালির কষ্টার্জিত অর্থেই। আমরা যেন শেকড় ভুলে না যাই। আমরাও যেন প্রকৌশলী ইমরান মাসুদের মতোই ভাবতে শিখি, এই দেশ ও জাতির প্রতি আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে, দায়বদ্ধতা রয়েছে অনেক।

লেখক: আশরাফুল অ্যাস্ট্রো,  শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ডুয়েট।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

সাহরি ও ইফতারের সময় সূচি

সাহরি ও ইফতারের সময়সূচী
( শুক্রবার,২৯ মে ২০২০ )
 বিভাগ
 সাহরি শেষ
 ইফতার
 ঢাকা
 ০৬:০০ মিঃ
 ০৬:০০ মিঃ
 চট্টগ্রাম
 ০৫:৫৮ মিঃ
 ০৫:৫২ মিঃ
 সিলেট
 ০৫:৫১ মিঃ
 ০৫:৫৬ মিঃ
 রাজশাহী
 ০৬:০৫ মিঃ
 ০৬:০৮ মিঃ
 বরিশাল
 ০৬:০২ মিঃ
 ০৫:৫৮ মিঃ
 খুলনা
 ০৬:০৬ মিঃ
 ০৬:০২ মিঃ
 রংপুর
 ০৫:৫৯ মিঃ
 ০৬:০৬ মিঃ
 ময়মনসিংহ
 ০৫:৫৭ মিঃ
 ০৬:০১ মিঃ

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2020 SwadhinNews.com
Design & Developed By : PIPILIKA BD
error: Content is protected !!