করোনার থাবা, না ফেরার দেশে কবি নুরুল হক

0
11

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা

করোনায় আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কবি ও অধ্যাপক নুরুল হক। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় তিনি রাজধানী ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের আইসিইউতে ৭৭ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে কবি নুরুল হকের মেয়ে চরু হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। চরু হক জানান, আমরা ঢাকা থেকে বাবার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার মদন উপজেলার বালালী গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছি।

জানা যায়, শুক্রবার (২৩ জুলাই) বালালী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হবে। এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৪ জুলাই শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন গুণী কবি নুরুল হক।

কবি নুরুল হকের মৃত্যুতে নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নেত্রকোনার কবি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিককর্মী এবং কবির ভক্তসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

১৯৪৪ সালে নেত্রকোনার মদন উপজেলার বালালী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন কবি নুরুল হক। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে একটি বামপন্থী গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রাখেন। কর্মজীবনে কবি নুরুল হক পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন।

১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি এবং দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা শেষে ২০০৫ সালে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

ষাটের দশকের প্রতিভাবান কবি নুরুল হকের উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হল ‘সব আঘাত ছড়িয়ে পড়েছে রক্তদানায়,’ ‘একটি গাছের পদপ্রান্তে,’ ‘মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত গল্প,’ ‘শাহবাগ থেকে মালোপাড়া,’ ‘এ জীবন খসড়া জীবন’ এবং ‘কবিতাসমগ্র’ ও ‘কবিতার দিকে একজন: শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়’।