কাপ্তাইয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা যেন আজ উৎসব আনন্দে মেতে উঠেছে।

0
64

 

অনিন্দ পাল অনি, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি

প্রায় ১৮ মাস পর আজ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং রোজ রবিবার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করেছে। আজ সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, তারা যেন ঈদ এবং পুজোর আনন্দ থেকেও বেশি আনন্দ পেয়েছেন।

আজ কাপ্তাইয়ের সকল শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সকাল থেকে স্কুলে যাওয়ার প্রবনতা দেখা যায়। সকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ কাপ্তাই এর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্কুল বাসে করে স্কুলে যাওয়ার সময় অনেকটা আনন্দিত দেখা যায়।

স্কুল বাসে উঠার সময় তাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজ করে উঠানো হয়। এসময় এই স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদ ও অনন্যা জানাই, তারা অনেক দিন পর স্কুলে যেতে পেরে আনন্দিত।

কারন, তারা অনেক দিন পর বন্ধুবান্ধবী এবং শিক্ষকদের সাথে দোখা করবে। এই স্কুলের উপার্ধ্যক্ষ জনাব জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের অর্ধ্যক্ষ কমান্ডার এম. নরুল আলম সিদ্দিকি স্যারের সার্বিক নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে আমরা আজ থেকে ক্লাসরুমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছি।

এরপর এই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিবাবক চিংলাউ মারমা (উপ- সহকারী অফিসার, প্রণীসম্পদ বিভাগ) জানান, করোনা মহামারির কারণে এত দিন শিক্ষা প্রতিষ্টান চালু হচ্ছে এতে আমরা খুশি।

তাই আমরা অভিবাবক হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।

এরপর যাওয়া হয় নরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয়ে। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব জয়সীম বড়ুয়া জানাই, মনে হয় যেন আমাদের স্বপ্নের দুয়ার খুলে গেছে, নতুন করে আমরা জেগে উঠেছি।

তিনি আরো বলেন মহামারীকে অতিক্রম করে আমাদের শিক্ষা বিভাগের যে নতুন পথ চলা সেখানে আমারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করব এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিব। আমারা সরকারি নির্দেশনা মেনে আজ থেকে আমাদের ক্লাস শুরু করেছি।

তারপর পাহাড় ও সৌন্দর্যময় কর্ণফুলী নদীর পাশে অবস্থিত কর্ণফুলী সরকারি কলেজ এ যাওয়া হয়।

উক্ত কলেজের অর্ধ্যক্ষ এএইচএম বেলাল চৌধুরী বলেন, আজ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের বহুল কাঙ্ক্ষিত এই দিনটি উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মোতাবেক আমরা শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং সকলের উপস্থিতি শতভাগ ছিল।

এই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ মল্লিক বলেন, আজ আমরা অনেক দিন পর কলেজে যাচ্ছি মনের মধ্যে অন্য রকম আনন্দ অনুভব হচ্ছে যেন পুজোর আনন্দ থেকে বেশি।

পুরাতন বন্ধুদের সাথে দেখা হবে এবং খুবই মজা করব। সামনে আমাদের পরীক্ষা ক্লাসেরও প্রয়োজন ছিল তাই শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

এরপর বারোঘোনিয়া মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা অতি আনন্দের সহিত ক্লাস করছে। প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি দে জানান, আজ দীর্ঘদিন বিদ্যালয় চালু হওয়ায় স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পেয়েছি আমরা খুবই আনন্দিত।

এরপর কে আর সি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ নরুল আলম জানান আজ অনেক দিন পর শিক্ষার্থীদের কাছে পেয়ে আমরা যেন ঈদ ও পুজোর আনন্দ একসাথে পেয়েছি। সাথে এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত স্বপ্নময় মল্লিকের বাবা কাপ্তাইয়ের নন্দিত বাউল শিল্পী বসুদেব মল্লিক বলেন, খুবই ভালো লাগছে আমার ছেলেকে স্কুলে দিতে এসে। তাই কৃতজ্ঞতা জানাই শিক্ষা মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে।
তারপর কেপিএম স্কুল এন্ড কলেজে দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীরা অতি আনন্দের সাথে ক্লাস করে বাড়িতে ফিরছে। এই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অর্ধ্যক্ষ রহিমা আক্তার বেগম জানান, আজ দীর্ঘ দেড় বছর পর শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাতে আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা চাই, আমরা যেন এভাবে ক্লাস করাতে পারি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।

সবশেষে যায় বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মদ খালেদা আক্তার বলেন ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া আমরা অসম্পূর্ণ।

এই কোমলমতি শিশুদের পড়াতে এবং তাদের সাথে সময় কাটাতে আমাদের খুবই ভালো লাগে। তাই আজ স্কুলের কার্যক্রম আবার চালু হওয়ায় আমরা এবং কোমলমতি বাচ্চারা খুবই খুশি।