কাবুল দখলের এক মাস, বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি

0
29

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গত ১৫ আগস্ট কাবুলে প্রবেশের মধ্য দিয়ে গোটা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। রাষ্ট্রক্ষমতায় তালেবানের আসীন হওয়ার একমাস পেরিয়ে গেছে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, খাদ্য ও মেধা সংকটে বিপর্যস্ত আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারও মারাত্মক এক আর্থিক সংকটে পড়েছে।

তড়িৎগতিতে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে অর্জিত সামরিক সাফল্যকে স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সরকার ব্যবস্থায় রূপান্তরের চেষ্টা চালাচ্ছে তালেবান নেতৃত্বাধীন নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে কাজটি তালেবানের জন্য সহজ হচ্ছে না। নানামুখী সংকটের মধ্যে পড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত এক দেশের সরকার চালাতে গিয়ে তালেবান হিমশিম খাচ্ছে।

ADVERTISEMENT


রয়টার্স লিখেছে, চার দশকের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ধকল এবং যুদ্ধ-সংঘাতে লাখো মানুষের প্রাণহানির পর মার্কিন সেনার বিদায়ের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ঠিকই কিন্ত গত দুই দশকে উন্নয়ন খাতে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেও আফগানিস্তানের অর্থনীতি এখন খাঁদের কিনারে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধ-সংঘাতের মধ্যে খরা ও দুর্ভিক্ষ দেশটির হাজার হাজার মানুষকে গ্রাম থেকে শহরে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপির) আশঙ্কা, দেশটিতে যে খাদ্য মজুত আছে চলতি মাসের শেষদিকেই তা ফুরিয়ে যেতে পারে। এতে করে এক কোটি ৪০ লাখের বেশি আফগান পড়তে পারেন অনহারের মুখে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ এখন শুধু আফগানিস্তানে তালেবানের নতুন সরকার নারীদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে কিনা বা আল-কায়েদার মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে তা নিয়ে। কিন্তু দেশটির সাধারণ মানুষের বেশিরভাগের কাছে অধিকার নয় বরং অগ্রাধিকার পাচ্ছে কোনোমতে টিকে থাকা।

কাবুলের বাসিন্দা আবদুল্লাহ যেমন বলছিলেন, ‘শিশুরাসহ আফগানিস্তানের প্রতিটি মানুষ এখন ক্ষুধার্থ। তাদের কাছে এক ব্যাগ ময়দা কিংবা রান্না করার মতো তেল নেই।’ ব্যাংকের সামনে এখনো দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। কাউন্টারে যেতে পারলেও দেশের রিজার্ভ জব্দ হওয়ায় এক সপ্তাহের জন্য ২০০ ডলারের বেশি তোলা যাচ্ছে না।