কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাওয়াই মিঠাই

0
33

নড়াইল থেকে মিশকাতুজ্জামান:

হাওয়াই মিঠাই বাংলার ঐতিহ্যবাহী, একটি মিঠাইয়ের নাম এটি। এখনো এটি গ্রামের মানুষের কাছে জনপ্রিয়। একসময় ‘হাওয়াই মিঠাই’ গ্রামাঞ্চলে বেশি পাওয়া যেতো। কিন্তু,কালের বিবর্তনে আর আধুনিকতার কারণে এটি এখন আর খুব বেশি দেখতে পাওয়া যায় না নড়াইলে। তবে তা একেবারে বিলীনও হয়ে যায়নি।
হাওয়ার সঙ্গে এই মিঠাই নিমিষে বিলীন হয়ে যায় বলেই এর নাম ‘হাওয়াই মিঠাই’। বানানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখে দিয়ে খেতে হয় এটি। পেট ভরে না এ মিঠাইয়ে, তবে খেতে মিষ্টি। মুখের স্বাদ মেটায় শুধু। দেখতে অনেক বড়সড় মনে হলেও নিমিষেই এটি মুখের ভেতর এসে গলে যায়। বিশেষ করে গ্রামের শিশুরা এই মিঠায়ে বেশি আনন্দ পায়। বড়রাও এর স্বাদ থেকে পিছিয়ে থাকেন না। দাম কম হওয়ায় সবার আগ্রহ থাকে এই মিঠাইয়ের প্রতি।
ঐতিহ্যগতভাবে বাংলার বিভিন্ন মেলা এবং গ্রামের পথে ঘাটে বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে দেখা পাওয়া যায় হাওয়াই মিঠাই ফেরিওয়ালাদের।
পিতল বা কাঁসার ঘন্টায় টিং টিং শব্দ তুলে শিশু-কিশোরদের দৃষ্টি কাড়ে তারা। হুমড়ি খেয়ে পড়ে তাদের ঘিরে ধরে শিশু কিশোরের দল।
নড়াইল উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের মো:মুরাদ হোসেন, তিনি আজো ভুলতে পারেন না ‘হাওয়াই মিঠাই’র স্বাদ। এখনো গ্রামে গ্রামে হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতা আসলে তিনি তা কিনে শিশুদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজা করে খান।
“দুই টাকা দিয়ে ‘হাওয়াই মিঠাই’ কিনে খাওয়ার” কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে ছোটবেলায় যখন বাবা-চাচাদের সঙ্গে গ্রামের মেলায় যেতাম, তখন প্রথম বায়নাটি ছিলো ‘হাওয়াই মিঠাই’ খাওয়ার। আর বেশিরভাগ সময় হাতের কাছে পেয়েও যেতাম এটি।”
একই গ্রামের মো:ফিরোজ কাজী বলে, হাওয়াই মিঠাই খেতে অনেক মজা। আমাদের গ্রামে কেউ হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রি করতে আসলে আমি ছুটে যাই। মিঠাই কিনে খাই।”
“একটা-দুইটায় মন ভরে না, আমি চার-পাঁচটা খাই,” লাজুক মুখে যোগ করে সে।
শুধুমাত্র চিনিকে তাপ দিয়ে গলিয়ে তা একটি হাতে ঘুরানো ‘যাতা’য় পিষে অল্প সময়ে তৈরি করা হয় এই ‘হাওয়াই মিঠাই।
দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার সাংবাদিক মো:তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘খাবারটি খুবই লোভনীয়। এটি দেখলেই শৈশবের কথা মনে পড়ে যায়। বিশেষ করে বাচ্চারা এটি বেশি পছন্দ করে।
মাগুরা জেলার মহাম্মদপুর উপজেলার হতে নড়াইলে আসা ‘হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রেতা আজাদ জানান, তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে ‘হাওয়াই মিঠাই’ বিক্রি করছেন। আগে সারা বছরই এ ব্যবসা করে সংসার চালাতেন কিন্তু, এখন বছরে তিন থেকে চার মাস তিনি এ ব্যবসা করতে পারেন। মাঝে-মধ্যে গ্রামে মেলা বসলে এই ব্যবসা করেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, “হাওয়াই মিঠাই একটি বিশুদ্ধ সামগ্রী, ভেজালমুক্ত হওয়ায় এটি খেতে শিশুদের কোনো ঝুঁকি নেই। শিশুরা আনন্দ সহকারে এটি খেতে পছন্দ করে আর আমরাও আনন্দের সঙ্গে তা বিক্রি করি।”
“শুধু শিশুরাই নয় বড়রাও আমার কাছ থেকে হাওয়াই মিঠাই কিনে খায়,
আমি গ্রামে গ্রামে সারাদিন ঘুরে দুই থেকে দেড়শোর মত হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করতে পারি। এতে আমার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়।