খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কার্পেট ঘাস লাগিয়ে দিল দুই যুবক

0
10

জসিম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্য অঞ্চল প্রতিনিধিঃ

পাহাড়ী জনপদ পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্হিত সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্টান খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে খেলাধূলার অনুপোযোগী
হওয়ায় এ মাঠে সবুজ কার্পেট ঘাস লাগিয়ে দিলেন খাগড়াছড়ি জেলার দুই তরুন মেধাবী যুবক।
পরিবেশ প্রেমী মেধাবী যুবক খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ও খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাএ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ চাকমা বলেন, নতুন প্রজন্মকে ইন্টারনেট আসক্তি থেকে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে আমরা দুইজন এ উদ্যোগ গ্রহন করি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে কার্পেট ঘাস লাগানোর পরে উচ্চ বিদ্যালয়ের নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

খাগড়াছড়ি জেলার প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্টান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠটি জেলাবাসীর কাছে সুপরিচিত। খেলাধুলা, হাঁটাহাঁট ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, শরিরচর্চা ছাড়াও ঐতিহ্যবাহী মাঠটি এক সময় আন্তঃস্কুল প্রতিযোগীতা, শেরে বাংলা ফুটবল কাপসহ জাতীয় পর্যায়ের বহু খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হতো।

কিন্তু দীর্ঘদিন মাঠটি খেলাধুলাসহ অন্যান্য ব্যবহারের জন্য অনুপযোগী ছিল। এবড়ো-থেবড়ো মাটি, পর্যাপ্ত ঘাসের অনুপস্থিতি প্রভৃতি কারণে মাঠে খেলতে ও শরীরচর্চা করতে গিয়ে অনেকেই বারবার আঘাত পেলেও মাঠটি সংস্কারে কোন উদ্যোগ দেখা হয়নি একারণে মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেন পরিবেশ প্রেমী মেধাবী যুবক খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ও খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাএ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন ।

এপ্রসঙ্গে সাজ্জাদ বলেন, র্দীঘদিন আমার স্বপ্ন ছিলো মাঠটি সংস্কার করার। মাঠে ঘাস লাগানোর। কিন্তু আমার একার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। তাই খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমার সহযোগীতায় এটি করা হয়।

সবুজ চাকমা জানান, বর্তমান প্রজন্ম মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাই তাদেরকে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করে মাঠে ফিরে আনার জন্য মাঠটি সংস্কার করে কার্পেট ঘাস লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিলে ছেলেমেয়েরা খেলার মাঠে ফিরে আসবে।

সম্প্রতি মাঠটি রোলার দিয়ে সমান করে ঘাস লাগিয়ে খেলার উপযোগী করার উদ্যোগ নেন। তাদের এ মহৎ উদ্যোগকে জেলাবাসী সাধুবাদ জানিয়ছেন।

এবিষয়ে ফুটবলার ও রেফারী তপন দাশ বলেন, এই মাঠে দীর্ঘদিন যাবৎ খেলা প্র্যাকটিস করি আমি। কিন্তু মাঠে ঘাস না থাকার কারণে প্র্যাকটিস করতে নানা ধরনের ইনজুরি হয়। এখন মাঠে ঘাস লাগানোর কারণে তা আর হবে না।

সাবেক ফুটবলার ও খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থা সহ-সভাপতি নুরুল আজম বলেন, এই মাঠে আন্তঃ স্কুল প্রতিযোগীতাসহ জাতীয় পর্যায়ের অনেক খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই জেলার জন্য এই মাঠটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

পার্বত্য ফুটবল একাডেমির সাবেক খেলোয়ার পুলক কান্তি দে বলেন, একাডেমির ফুটবলাররা এই মাঠে প্র্যাকটিস করেন। এছাড়া অনেকে ব্যায়াম করেন। অনেকদিন যাবৎ মাঠটি খেলার অনুপোযোগী ছিলো। যারা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তাদের কারণে মাঠটি খেলার উপযোগী হচ্ছে এই জন্য তাদের তিনি ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানান।

সাজ্জাদ হোসেন ও সবুজ চাকমার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খাগড়াছড়ি ইউনিটের সহ-সভাপতি অ্যাড. জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, ছেলেমেয়েদের মাঠে ফেরাতে এই দুই যুবক যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা অত্যান্ত প্রশংসনীয়। বর্তমানে যুব সমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে খেলাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলার কোন বিকল্প নেই বলে জানান,রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খাগড়াছড়ি ইউনিটের সহ-সভাপতি অ্যাড. জসিম উদ্দিন মজুমদার