খাবার পানির জন্য হাহাকার

0
28

খ.ম. নাজাকাত হোসেন সবুজ।
ব্যুরো প্রধান খুলনাঃ

লবন অধ্যুষিত মোংলাবন্দর শহরসহ আশপাশের এলাকায় বর্তমানে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের খুব কাছে পশুর ও মোংলা নদীর সংযোগস্থলে মোংলা পোর্ট পৌরসভা অবস্থিত। ৬৪ হাজার পৌরবাসী চারদিকে থৈ থৈ পানির মধ্যে বাস করলেও কোথাও পর্যন্ত বিশুদ্ধ খাবার পানি নেই। অধিকাংশ লবনমিশ্রিত দূষিত পানি।পৌরসভার পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে যে পানি দেয়া হচ্ছে তাতে চাহিদা মিটছেনা পৌরবাসীর।

পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে পৌরবাসীর চাহিদা মিটাতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। পানির সরবরাহ প্রকল্পের তৃতীয় ফেইসের অনুমোদন ও দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এ সংকটের নিরসন হবে।১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মোংলা পোর্ট পৌরসভা মাত্র কয়েক বছর আগে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। উপকূল লাগোয়া এ পৌরসভার দুই পাশ লোনা পানির আধার মোংলা ও পশুর নদীতে ঘেরা।

এরপরও প্রাকৃতিক দুযোর্গসহ নানা কারণে এখানকার সুপেয় পানির উৎস নষ্ট হয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে। তাই এখানকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে গেল কয়েক বছর পূর্বে পৌরসভার মাছমারা এলাকায় নির্মিত হয়েছে পানি সরবরাহ প্রকল্প। প্রথমে একটি পুকুর দিয়ে প্রকল্পের কাজ চললেও পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় আরো একটি পুকুর খনন করা হয়েছে। তাতেও মিটছে না পৌরবাসীর পানির চাহিদা। পৌরসভার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হোল্ডিং মালিকদের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখন পাচ্ছেন সুপেয় পানি। বর্তমানে পৌরবাসীর মাঝে প্রতিদিন ১৯ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ লিটারের। চাহিদায় ঘাটতি থাকায় পৌরবাসীর যেন অভিযোগের শেষ নেই।

পৌরসভার জয়বাংলা, মিয়াপাড়া, কলেজমোড়, সিগনাল টাওয়ার, কবরস্থান রোডসহ বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা আবুল বসার, হাফিজুর রহমান, কুলসুম বেগম, মহিদুল ইসলাম জানান, মোংলা পৌরসভার পক্ষ থেকে শহরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এক কলস পানির জন্য ২-৩ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। সকালে ও বিকেলে সামান্য সময়ের জন্য পানি সরবরাহ চালু হলেও এর কয়েক ঘন্টা আগে ভুক্তভোগীদের সিরিয়াল দিতে হয়। এক কলস পানির জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় তাদের।

বিশুদ্ধ পানির সংকট থাকায় জনসাধারনের দূর্ভোগ চরমে স্বীকার করে পৌরসভার মেয়র শেখ আব্দুর রহমান বলেন, চাহিদা মিটাতে পানির প্রকল্পের আওতায় নতুন করে তৃতীয় ফেইসের কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রায় ৫০ কোটি টাকার নতুন এই ফেইসের অনুমোদন হলে পানির চাহিদা মিটানো সম্ভব হবে। এ প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আর্কষণের পাশাপাশি হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।

এদিকে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক শুরু হওয়ার পর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষই তাদের সংশ্লিষ্টদের জন্য খুলনা থেকে বার্জের (নৌযান) মাধ্যমে ও পরবর্তী সময়ে ফয়লা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে শহরে খাবার পানি সরবরাহ করে আসছে। এ পাইপলাইনের পানি নতুন ও পুরাতন বন্দরে বসবাসকারীদের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করা হতো। এরপর পুরাতন মোংলায় বসবাসকারী জনসাধারনের পানির প্রয়োজন মেটাতে শহরতলীর কুমারখালী এলাকায় জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে একটি পানি শোধনাগার ও সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যায়ে এ প্রকল্প থেকে প্রথম দফায় পৌরসভার ২৫ কিলোমিটার এলাকায় সরবরাহ লাইন স্থাপন করে দুই হাজার পরিবারের মধ্যে পানি সরবরাহ করার কথা। কিন্তু সে প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ আছে বাসিন্দাদের।