ঘামছি, ভিজছি, গরুর সাথেই ঘুমাচ্ছি

0
9

মাহফুজুল ইসলাম
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

রাজধানীর আফতাব নগর হাটের ছবি

২১টি গরু নিয়ে ৬ দিন হলো হাটে এসেছি। এখন পর্যন্ত ১৪টি গরু বিক্রি হয়েছে। ৬টি গরুতে লাভ হয়েছে। বাকিগুলোতে কোনো রকম চালান উঠেছে। এখন শরীর আর চলে না। গরমে ঘামছি, বৃষ্টিতে ভিজছি। গরুর সাথেই ঘুমাচ্ছি আবার জেগে উঠছি।

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) ঢাকা পোস্টকে একথা বলছিলেন রাজধানীর আফতাব নগর হাটের গরু বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, আজ ৬ দিন হলো আমরা হাটে এসেছি। একসঙ্গে ছয়জন। আমাদের ঘুম নেই। খাওয়াদাওয়ার ঠিক নেই। সারাক্ষণ চেষ্টা করি, গরুর যেন কষ্ট না হয়। বৃষ্টিতে ভিজে না যায়। গরু যেন সুস্থ থাকে সেই চেষ্টা করি।

কুষ্টিয়া থেকে আসা গরু বিক্রেতা নুর উদ্দিন বলেন, গরুর গোবর ও চেনার গন্ধের মধ্যেই খাচ্ছি-দাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি। গরু বিক্রি করে যদি লাভ হয় তাহলে পরিবারের সঙ্গে ঈদটা আনন্দের হবে। এই কষ্ট আর মনে থাকবে না।

মঙ্গলবার রাজধানীর হাটগুলোতে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে একদিকে কাদা, অন্যদিকে গরুর গোবর ও চোরার গন্ধে দম ফেলা দায়। এর মধ্যেই বিক্রেতারা দিন কাটাচ্ছেন। পরিশ্রান্ত হলে ঘুমিয়ে নিচ্ছেন।

দেশের গ্রামাঞ্চল থেকে রাজধানীতে আসা ক্রেতারা বলছেন, গরম সহ্য করি, মানুষের বিভিন্ন ধরনের কথা শুনি, দিনরাত গরুর সঙ্গে থাকি হালাল উপায়ে কয়টা টাকার জন্য। যাতে পরিবার নিয়ে আনন্দে ঈদ করতে পারি। কিন্তু সেটাওতো এবার হচ্ছে না। এবার কোনো মত ‘চালান লিয়ে বাড়ি যাইবার পালি হয়’।

গত বৃহস্পতিবার আফতাব নগরে ৯টি গরু নিয়ে আসা জামালপুরের ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন মোল্লা ঢাকা পোস্টকে বলেন, থাকা-খাওয়ার কষ্ট তো আছেই। তবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট টয়লেটের জন্য। এখানে এলে গোসল-টয়লেট করা যায় না। গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে যায়। ঘুমানোর জন্যও জায়গা পাওয়া যায় না।

রহিম বলেন, গত চারদিন হলো গোসল করতে পারিনি। শরীর জ্বলছে, কাছাকাছি টয়লেট নেই। বিস্কুট, রুটি-কলা খেয়ে থাকছি। আমাদের এসব কষ্ট কী কেউ দেখে। আমাদের সবাই দেখে গরু ব্যবসায়ী হিসেবে। কেউ দুই টাকা বেশি দিতে চায় না, বরং সবাই কম দিতে চায়। আমাদের কষ্টের কথা কারও চোখে পড়ে না।

শাহজানপুর হাটের কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী রিপন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গরিবের কষ্টের জীবন। দু-বেলা পেটে ভাত দেওয়ার জন্য এই কাজ করি। তিনি বলেন, লাভ হলে কষ্ট আর গায়ে লাগে না। কিন্তু লোকসান হলে আবার একটা বছর অপেক্ষা করি এই টাকা তোলার জন্য।