চট্টগ্রামে বিএনপির গণমিছিলে ড.খন্দকার মোশারফ হোসেন

ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশের মানুষের রায় হচ্ছে এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই ১০ দফা আমাদের যে দাবি তা পূরণ করতে হবে। এই স্বৈরাচারী সরকার আপোষে তা মেনে নিবে না। তাই আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন ফয়সালা হবে রাজপথে।
বীর চট্টলার মানুষ ফয়সালা রাজপথে করার জন্য প্রস্তুত। এই কর্মসূচীকে অনুসরন করে সারা বাংলাদেশ রাস্তায় নেমে পড়বে এবং এই সরকারকে বিদায় করে দিয়ে রাস্তা থেকে ফিরে যাবে । তাই তাদেরকে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে, সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের গঠনে বাধ্য করতে হবে। এই বাধ্য করার আন্দোলনের সূচনা হচ্ছে গণমিছিল। এই সরকারের হাত থেকে দেশেকে রক্ষা করতে না পারলে দেশের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে। তাই দেশ ও জনগনকে রক্ষা করতে হলে , এই সরকারকে বিদায় করতে হবে ।
তিনি শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ সংলগ্ন ওয়াসা মোড়ে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির গণমিছিলের পূর্ববর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এর আগে দুপুর একটা থেকে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে যোগ দেন। গনমিছিলটি ওয়াসা মোড় থেকে শুরু হয়ে আলমাস, কাজীর দেউরী, নুর আহমেদ সড়ক, লাভলেন, জুবলী রোড় হয়ে তিন পুলের মাথায় গিয়ে শেষ হয়।
ড. মোশারফ বলেন, এই সরকার জনগনের সরকার নয়, জনগনের ভোট দিয়ে নির্বাচিত নয়। তাই এই সরকারের দেশের জনগনের প্রতি কোন দায়বদ্ধতা নেই । সেই জন্য আজকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে, গণতন্ত্র, অর্থনীতি, বিচার ব্যবস্থা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে আমরা ১০ দফা দিয়েছে। বিভাগীয় সমাবেশ থেকে জনগন আমাদেরকে রায় দিয়েছে। যারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে, অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে তারা এদেশে গণতন্ত্র আসতে দিবে না। অর্থনীতি মেরামত করতে পারবে না, তারা বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে পারবে না । অতএব আমারা এদেশের মানুষের ১০ দফা দাবি উথাপন করেছি। এই দাবি উথাপন করার পর, যারা সরকারকে পছন্দ করে না, যারা গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক, সকল দল, গোষ্টী, ব্যক্তি এই ১০ দফার পক্ষ নিয়ে সেগুলোকে সমর্থন করেছে। আজকে যুগপৎ আন্দোলনের জন্য তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমরা এই যুগপৎ আন্দোলনের ১০ দফা দাবি আদায়ের জন্য প্রথম কর্মসূচী পালন করছি গণমিছিল।
ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল এবং নির্দলীয় তত্ত্ববধায়ক সরকারের মাধ্যমে এই দেশে নির্বাচন, খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাদের মুক্তির দাবিতে আমরা ১০ দফা প্রদান করেছি। এই ১০ দফা দাবি আদায়ের জন্য সারাদেশে প্রথম কর্মসূচী গণমিছিল। আপনারা যেভাবে বিভাগীয় গণসমাবেশ চট্টগ্রাম থেকে সফলভাবে শুরু করেছিলেন, তেমনিভাবে এই গণমিছিল গণসমুদ্রে রূপান্তর করেছেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই সরকার লুটেরা সরকার, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি এবং দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই সরকার কারনে আজকে অর্থনীতির এমন অবস্থা হয়েছে যে, আমদানিকরাকরা এলসি খুলতে পারে না । তার জন্য আজকে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ অবস্থা।দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতির কারনে গরিব মানুষ না খেয়ে থাকছে, মধ্যবিত্ত মানুষ আরো গরীব হয়ে গেছে। আগে যেখানে দারিদ্রের সীমা ২০ শতাংশের নিচে ছিলো, এই সরকারের দুর্নীীতি ও অর্থনীতি ধ্বংস করার কারনে সেই দারিদ্রের সীমা ৪০ শতাংশে উঠে গেছে। সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার জন্য বিচার বিভাগকে দলীয় করণ করে ধ্বংস করে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কিছু দিনের মধ্যে একটা হুইসেল দিবে। সেই হুইসেল মানে সরকার পতনের হুইসেল। তখন লাখ লাখ জনতার রাজপথ দখল করতে হবে ।
মীর নাসির আরো বলেন, ওবায়দুল কাদের বলে নির্বাচন নাকি করতে দিবে না। আমরা নির্বাচন করবো, সেই নির্বাচনে জয়ী হবো । সেই ভয়ে আজকে সরকারের হৃদকম্পদ শুরু হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম বিএনপির চট্টগ্রাম। আগামী হুইসেলের জন্য অপেক্ষা করেন, দেখবেন সকালে উঠে তারা সবাই পালিয়ে গেছে। আবার জনতা ক্ষমতায় আসবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, সারাদেশে ১০ টি গণসমাবেশ নানা বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে জনগন সফল করেছিলো। আজকের এই গণমিছিলের একটি শ্লোগান ওঠেছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। বিএনপি ঘোষিত ১০ দফার মাধ্যমে অবিরাম সংগ্রাম শুরু হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক বলেন, আওয়ামিলীগ গায়ের জোরে সরকারে আছে। এই ফ্যাসিবাদি সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এই দেশের মানুষের ভোটের অধিকার তারা ছিনতাই করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আওয়ামীলীগ এখন প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব করে আওয়ামীলীগের শেষ রক্ষা হবেনা। গায়েবী মামলা দিয়ে পতন ঠেকানো যাবেনা। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন হতে হবে। যদি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে, বিএনপি সে নির্বাচন মেনে নেবে না।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকের গণমিছিল প্রমাণ করেছে জনগণ এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আমরা জনগণ নিয়ে সমাবেশ করও। আর আওয়ামিলীগ বিরানির পেকেট দিয়ে সমাবেশে মানুষ আনে। এই হচ্ছে বিএনপি আর আওয়ামিলীগোর মধ্যে পার্থক্য। আমরা মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। সরকারের জেল জুলুম হুলিয়ার বিরুদ্ধে জনগণ জেগে ওঠেছে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে ফেলেছে। এই রাষ্ট্রকে মেরামত ও পুনর্গঠন করতে হবে। সরকার বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা’ তুলে ধরেছে বিএনপি। এই রুপরেখায় হবে মানুষের মুক্তির সনদ।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপাসেনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মীর হেলাল উদ্দীন, সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া।
উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, বিএনপি নেতা এম এ হালিম, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এড. আবদুস সাত্তার, এস এম সাইফুল আলম, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, এরশাদ উল্লাহ, এনামুল হক এনাম, নুরুল আমিন, অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, আলহাজ্ব সালাউদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, ইঞ্জি. বেলায়েত হোসেন, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, সরওয়ার আলমগীর, কাজী সালাউদ্দিন, এড. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল মোস্তফা আমিন, এস এম মামুন মিয়া, মুজিবুর রহমান, জামাল হোসেন সহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -