চরম দুর্ভোগে সিংগাইর উপজেলাবাসী

0
24

শাহীন তারেক, মানিকগঞ্জ থেকে

জনগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০১৮ সালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় চান্দহর নদীর ওপর ৩১৫ মিটার দৈর্ঘ্য একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু নির্মাণাধীন ব্রিজের দু’দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ালেও এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। ব্রিজটির কাজ বন্ধ থাকায় চান্দহর এলাকায় আশপাশের হাজার হাজার মানুষকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের শুরু থেকেই ব্রিজের কাজ চলছে ঢিমেতালে। অধিকাংশ সময়ই কাজ বন্ধ রাখেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি অর্থায়নে পল্লী সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চান্দহর নদীর ওপর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ৩১৫ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রিজের কাজ শুরু হয়। কাজটি পান মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। যার ব্যয় ধরা হয় ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩০ টাকা। ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি মাসে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। এরমধ্যে কর্তৃপক্ষ দু’দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ালেও এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়নি।

চান্দহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন বাদল জানান, এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি ছিল। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে ব্রিজ নির্মাণ শুরু হলেও তা চলে খুব ধীরগতিতে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফলতির কারণে ৩ বছেরও ব্রিজটি পূর্ণাঙ্গ রুপ পায়নি। ফলে, বর্ষা মাসে নৌকা করে পারাপার হতে হয়। তিনি আরো জানান, ব্রিজটি নির্মাণ হলে ঢাকা মোহাম্মদপুরে সাথে যাতায়াত অনেক সহজ হবে। অল্প সময়ে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকায় যেতে পারবে। জনগণের দুভোর্গ লাগবে ব্রিজের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার দাবি জানান তিনি। স্থানীয় ইমরান হোসেন জানান, অনেকের আশা ছিল ব্রিজটি খুব দ্রæত নির্মাণ হবে। কিন্ত তিন বছর হলেও ব্রিজটি এখনো নির্মাণ কাজ শেষ হলো না।

নির্মাণাধীন ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তে বাজার সংলগ্ন সাইট অফিসের সহকারি প্রকল্প প্রকৌশলী মো. মোহসীন জানান, চান্দহর নদীটির প্রবেশ পথ পার্শ্ববর্তী ইটভাড়া এলাকায় নদীর মুখ বন্ধ থাকায় পন্টুন আনা সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়া সরকারি রেট অনুযায়ী বালু ধরা হয়েছে প্রতি ঘনফুট ৫ টাকা। অথচ এখানে খরচ পড়ে ১২ টাকা। কোনোভাবেই নদী থেকে বালু তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ব্রিজ স্থানে পন্টুন আনার ব্যবস্থা না থাকায় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন জানান, নদীতে ড্রেজার না চলায় বালুর অভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে। ঈদের পর কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আছে। চুক্তি বাতিল সম্পর্কে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না বলে জানান।

সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান জানান, বর্ষা মওসুমে লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য চিঠি দিয়ে পন্টুন আনার রিমেন্ডার দেয়াসহ দু’দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। এ অবস্থায় চুক্তি বাতিলের দিকে এগুচ্ছে এলজিইডি।