চাঁদপুরে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে

0
23

মোঃ রিফাত পাটোয়ারী চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

মেঘনার পানি জোয়ারের সময় আমাবস্যার কারণে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে এ চাঁদপুর জেলা সদর, হাইমচর ও মতলবের চরাঞ্চলসহ নদী উপকূলীয় শহরের নিচু এলাকা এবং বহু গ্রামের রাস্তাঘাট, মাছের খামার, পানের বোরজ, বোনা আমনসহ ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। তবে জোয়ারে পানি কয়েকঘন্টা স্থায়ী হলেও পরবর্তীতে ভাটায় কমে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে এসব তথ্য জানাগেছে।

জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে চাঁদপুর হরিনা ও শরিয়তপুর আলুবাজার ফেরিঘাটের র‌্যাম ও রাস্তা ডুবে গেছে। এতে ওই ঘাট দুটি দিয়ে গত দুইদিন যানবাহন ফেরিতে উঠা নামায় সমস্যা হচ্ছে। যার ফলে যানবাহন নিয়ে চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

হরিনাঘাটে গিয়ে দেখা যায়, হাঁটু পরিমান পানি ডিঙ্গিয়ে চরম দূর্ভোগের মধ্যে গাড়িগুলোকে ফেরিতে উঠানামা করতে হচ্ছে ঝুঁকির মধ্যে। এ পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে যানবাহন বিকল হয়ে ফেরি পারাপার বন্ধ হবার আশঙ্কা দেখা দেওয়ার পরিস্থিতি বিরাজমান অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি বিআইডব্লিটিএ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখা দরকার বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানিয়েছে।

বিআইডব্লিটিটিসি চাঁদপুর হরিণাঘাট ম্যানেজার (বাণিজ্য) আব্দুন নূর তুষার বলেন, জোয়ারের সময় মেঘনার পানি বৃদ্ধি পেলে এ ধরনের কিছু সময়ের জন্য সমস্যা দেখা দেয় প্রতিনিয়ত। তবে সবসময় জন্য নয়।

তিনি বলেন, এখনো ঘাটে যানবাহনের চাপ বেশি রয়েছে। চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌরুটে সাতটি ফেরি চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, হাইমচরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বেড়ি বাধের বাহিরের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেক স্থানে পাকা রাস্তার উপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নীল কমল ও গাজীপুর ইউনিয়নের চরের বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ পানি বন্ধি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয়ের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোশারফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার জোয়ারে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আজ মেঘনায় জোয়ারের পানি সর্বোচ্চ ৪.৫২ সে. মি. ও ভাটায় সর্বনিম্ন ৩.৩১ সে.মি. রেকর্ড করা হয়। এতে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প বাঁধের বাইরের নিচু এলাকা এবং চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।