ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অভিষেক

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পথিকৃৎ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আংশিক কমিটি গঠিত হয়েছে। নবগঠিত কমিটির অভিষেক প্রোগ্রাম গতকাল রাজধানীর পল্টনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

পরে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এর সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়।

গতকাল ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভা আজ সকাল ১০ টায় কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল,ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ভিসি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম , বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দুই বারের সাবেক মহাসচিব নইম জাহাঙ্গীর,ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুলহক নুর, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিন ইয়ামিন মোল্লা এবং নবগঠিত কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন
সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্যা রহমাতুল্লাহ এর সঞ্চালনায় নবগঠিত কমিটির বিভিন্ন সদস্য ও অতিথিরা বক্তব্য রাখেন।

অতিথিদের বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা এবং ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে নুরুলহক নুর ভিপি নির্বাচিত হয়ে মুকুটহীন সম্রাটে পরিণতি হয়ছে।১৮ সালে নুরদের ছাত্রআন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার মসনদ কেঁপে উঠে ছিল। যে কারণে প্রধানমন্ত্রীও হতাশ হয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে তাদের দাবি মানতে বাধ্য হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই তরুণদের মাধ্যমেই মানুষের অধিকার আদায় সম্ভব। তাই আপনাদেরকে উৎসাহ দিতেই এখানে এসেছি।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার ৫৫ বছর বয়সে এতটা হতাশার সময় পার করিনি, সেখানে হতাশার মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে গণঅধিকার পরিষদ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন কমন সেন্সের অভাব। ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন করতে না পারলেও ‘ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুন’ যুক্তিতে বিনা ভোটের সরকারকেই মেনে নিয়েছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশে যত দল আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কমনসেন্সের দল নুর, রাশেদ,রেজা ভাইদের সংগঠন গণ অধিকার পরিষদ।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুলহক নুর বলেন, ছাত্রআন্দোলনের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতেই হামলা-মামলার,নির্যাতন-নিপীড়নের পরও ৮ মাসের লড়াই-সংগ্রামের পর কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল করেছি। ডাকসু নির্বাচনে ভোট দিয়ে ছাত্ররাও তার প্রতিদান দিয়েছে।’
চলমান আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে নুর বলেন, ‘ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেশকে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণেও ছাত্রসমাজকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত ও সচেতন করতে ছাত্র অধিকার পরিষদকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি বলেন, তোদেরকে ( ছাত্র অধিকার পরিষদ) দেশের জন্য বিলিয়ে দিতে হবে, এক্ষেত্রে সিংহ সাবকের ন্যায় সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধ সংসদের সাবেক মহাসচিব বলেন তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধারণ করতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামীন মোল্লা বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের প্রতিটি সদস্য এক একটি তারকার মতো সারা দেশে আলো ছড়াবে। পড়াশোনা ও দেশপ্রেমের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আদর্শ ছাত্র হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান। চলমান হাফ পাস আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রজ্ঞাপন দিয়ে হাফ পাস নিশ্চিতের দাবি জানান।

বার্তাপ্রেরক-
মোহাম্মদ সানাউল্লাহ
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -