ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকের হাতে মার খেয়ে অভিমানে মায়ের আত্মহত্যা

0
18

রায়হান কবির জেলা প্রতিনিধি নওগাঁঃ

নওগাঁ জেলার রাণীনগরে ছেলের দোষে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে মার খেয়ে অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন মা। শুক্রবার রাতে ওই উপজেলার মিরাট চরকানাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জেসমিন আক্তার ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল বারিকের স্ত্রী এবং মিরাট মোল্লাপাড়ার বাদেশ আলীর মেয়ে। শনিবার দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, ১৫-১৬ বছর আগে আব্দুল বারিকের সঙ্গে বিয়ে হয় জেসমিন আক্তারের। বিয়ের পর তাদের একটি ছেলে হয়। এরই মধ্যে বারিক সৌদিআরবে চলে যান। এরপর থেকে জেসমিন ছেলে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। শ্বশুড়-শাশুড়ি, ভাসুরসহ পরিবারের লোকজন নানা কারণে তার ওপর নির্যাতন চালাতো। এক মাস আগে ভাসুর জয়বুলসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন জেসমিন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্যরা বিষয়টির সমাধান করে দেন।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার দুপুরে প্রতিবেশীর বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছিলেন জেসমিন ও তার ছেলে জিহাদ। রাতে জেসমিন তাড়াতাড়ি ফিরলেও জিহাদ দেরি করে বাড়ি ফেরে। ছেলের দোষ মায়ের ঘাড়ে চাপিয়ে নির্যাতন করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে নির্যাতনের বিষয়টি মোবাইলে স্বামী আব্দুল বারিককে জানান জেসমিন। স্বামীর সঙ্গে কথা শেষ করেই নিজ ঘরে ঢুকে বিষপান করেন তিনি। এরপর গুরুতর অবস্থায় তাকে নওগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে রাজশাহী নেয়ার পথে মারা যান জেসমিন আক্তার।

নিহতের মামা আজাহর আলী বলেন, আমার ভাগ্নির মৃত্যুর খবর তার শ্বশুরবাড়ির আমাদের জানায়নি। আমরা লোকমুখে শুনে সেখানে গিয়েছি। শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাসুরের নির্যাতনেই জেসমিনের মৃত্যু হতে পারে। আপাতত আমরা অপমৃত্যু মামলা করেছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব।

রাণীনগর থানার ওসি শাহিন আকন্দ বলেন, ময়নাতদন্ত করার জন্য জেসমিনের মা অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।