জন্মদিন-মৃত্যু দিন নয়, প্রতিটি দিনই হুমায়ূন আহমেদকে মনে পড়ে’

0
12

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুলাই ২০১২। পরলোকে পাড়ি জমান নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। এই কথা সাহিত্যিক নির্মাতার নাটক, টেলিফিল্মে কাজ করেছেন অভিনেতা ডা. এজাজ। হুমায়ূনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন তিনি।

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল জানতে চাইলে ডা. এজাজ বলেন, ‘ হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করার সময় প্রচুর সহযোগিতা পেতাম। ওনার মমতা পেয়েছি। দেখা যায় অনেক নির্মাতার মধ্যেই আন্তরিকতাটুকু থাকে না। কিন্তু ওনার মধ্যে আন্তরিকতা পেয়েছি। ওনার শুটিংয়ে কোনো রকম বৈষম্য ছিল না। অনেক শুটিংয়ে দেখা যায় প্রধান শিল্পীরা যা খায় তা সাধারণ শিল্পীদের দেয়া হয় না। কিন্তু ওনার সেটে এই বৈষম্য ছিল না। সবাইকে সমান চোখে দেখতেন তিনি। ’

দরিদ্র ও অসহায়ের পাশে হ‌ুমায়ূন দাঁড়াতেন উল্লেখ করে এজাজ বলেন, ‘তিনি দরিদ্র শিল্পীদের সহায়তাও করছেন।

নাম বলব না। এক শিল্পীর অসুস্থতার সময় ১০ লাখ টাকা দিলেন। বলেছিলেন বেঁচে থাকলে সুদরে দিয়ো। বেঁচে না থাকলে দরকার নাই। অনেক অর্থশালী ব্যক্তি আছেন কিন্তু ক’জন মানুষের উপকার করে, কজন সাহায্য করে। হুমায়ূন আহমেদ মানুষকে সাহায্য করতেন। ’
হ‌ুমায়ূন ছিলেন তুলনাহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে তুলনা করার মতো কাউকে খুঁজে পাই না। নাটকের অঙ্গন বলেন, সাহিত্যের অঙ্গন বলেন, তার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বলতে গেলে অনেক কিছুই বলতে হয়। উনি কোন সেক্টরে কাজ করেননি। উনি নিজ এলাকায় স্কুল নির্মাণ করেছেন। ওনার স্কুলে মেডিকেল ক্যাম্প হতো। আমরা গিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিয়ে আসতাম। প্রত্যেক সেক্টরে ওনার যে মানবিক অবদান তা বলে শেষ করে যাবে না। আরও ১৫/২০ বছর যদি তিনি বেঁচে থাকতেন তাহলে আরও অনেক কিছু করতেন। ’

কাজের সময় কখনো হ‌ুমায়ূন রাগ করলেও সেই রাগের ভেতর মমতা ছিল উল্লেখ করে ডা. এজাজ বলেন, ‘অনেক সময় কাজের সময় তিনি রাগ করতেন। কিন্তু তার সেই রাগ ছিল মায়ার বহিঃপ্রকাশ। উনি ওনার কাজটা আদায় করার জন্য কখনো কখনো রাগ করতেন । তবে সেটা মায়ার ভঙ্গিতে। ’

এখনো হ‌ুমায়ূন ভাবিয়ে তোলে ডা. এজাজকে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই ওনার কথা মনে পড়ে। অভিনয় করার সময় বা নানা কাজে ওনাকে মনে পড়ে। শুধু জন্মদিন বা মৃত্যু দিন নয়, আমার প্রতিটি দিনই হুমায়ূন আহমেদকে মনে পড়ে। ’