ঝরা পাতার শূণ্যতা, সবুজ কুঁড়িতে পেলো পূর্ণতা

0
286

আশিক ইসলাম,

রাবির প্যারিস রোডের পাশে ভিসির বাসভবনের সামনের রাস্তা

রাস্তার দুপাশে দেবদারু গাছগুলো পাতা শূণ্য। জীর্ণশীর্ণ কংকালসার গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে। গাছের নিচে ঝরাপাতা গুলো সৃষ্টি করেছে বাদামী গালিচা। রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় পায়ের নিচে পড়া পাতাগুলো মর্মর ধ্বনি শুনাতো বিষাদের বাণী। এটা ছিলো বসন্তের শুরুর দিকে চিত্র। তবে কয়েক দিনের ব্যবধানে পাল্টে গেছে সে পরিবেশ। রাস্তার ধারে প্রাণহীনভাবে যে গাছগুলো দাঁড়িয়েছিল এখন সেখানে ভরে গেছে সবুজ কচি পাতায়। পত্রপল্লবে ভরে উঠছে নতুন ফুলে। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পাতাঝরা বসন্তের পরে সবুজের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা।

ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। এ যেনো বসন্তের পূর্ণ প্রতিচ্ছবি। কয়েকদিন আগেও যেখানে প্রকৃতিতে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। সেখানেই ফাগুনের শেষভাগে এসে প্রকৃতি যেনও একেবারে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এ যেনো ঝরাপাতার শূণ্যতা, সবুজ কুঁড়িতে পূর্ণতা পেয়েছে।

চারদিকে পাখিদের কলতান। ফুলে ফুলে পুষ্পরস সংগ্রহ করতে প্রজাপতি আর মৌ-মাছিদের আপন গতিতে ছুটে চলা। কচি পাতার ফাঁক থেকে লাজুক কোকিলের মন ভুলানো কুহু কুহু ডাক আর ঘুঘু পাখির কুরু কুরু শব্দে রঙিন হয়ে ওঠেছে ক্যাম্পাসের স্বপ্ন হাওয়া। একটু দূর থেকে ভেসে আসছে ঝিঝি পোকার ডাক। এক চিলতে বসন্তের রোদ পড়ে গাছের কচিপাতা চিকচিক করছে। যেনো পাতাগুলো দুর্লভ হীরা টুকরোর চেয়েও দামি। ব্যাকরণের কোনো উপমা দিয়ে এই সৌন্দর্য লিখে বোঝানো সম্ভব নয়।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর, লিপু চত্বর, প্রেমবঞ্চিত চত্বর, আমতলা, শেখ রাসেল চত্বর (ইবলিশ), বধ্যভূমি, পশ্চিমপাড়া আবাসিক এলাকাসহ আশেপাশের মেহগনি বাগানের গাছগুলো সবুজ কচিপাতায় ভরে গেছে। প্যারিস রোডের সুউচ্চ গগণশিরিষ গাছগুলোর চিরল কচিপাতা অপরূপ ভাবে সেজেছে। বধ্যভূমির পাশে বিস্তৃত ধানক্ষেত হালকা বাতাসে সবুজের দোলা দিচ্ছে। জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, গগণ শিরিষ, আকাশমণি, বহেরা, আমলকি, বন কাঠালি, তমাল, হিজল, কামরাঙা, জলপাই, পলাশ, জামরুল, কামিনী, নাশপাতি, আমড়া, শিশু গাছ, দেবদারু, আকন্দ, অশ্বত্থসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলো নতুন কুঁড়িতে পূর্ণ। আবার কোন কোন গাছে শোভা পাচ্ছে নানান রঙের ফুল।