টিকা প্রদানে অনন্য নজির ভুটানের

0
251

এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের প্রায় সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে টিকা দেয়ার অনন্য নজির গড়েছে ভুটান। অথচ, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের কাছ থেকে করোনার ভ্যাকসিন উপহার হিসাবে পাওয়ার পরেও টিকা প্রদান শুরু করতে ভুটান দুইমাস বিলম্ব করেছিল।

জানুয়ারিতে ৮ লাখ নাগরিককে টিকা প্রদান শুরু করার পরিবর্তে ভুটানের সরকার বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একটি সংগঠন ঝুং দ্রাটশংয়ের কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছিল। সে সময় তারা জানায়, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান শুভ নয়। দু’ মাস অপেক্ষা করলে ভাল হবে এবং ভ্যাকসিন যে দেবে ও যে নেবে উভয়কেই বানরের বছরে জন্ম নেয়া নারী হতে হবে।

এ কারণে ভুটান ২ মার্চ অবধি অপেক্ষা করেছিল শেরিং জাংমো নিনদা ডেমা নামে এক নারীকে প্রথম টিকা দেয়ার আগে। এর পরে আর দেরি করেনি সরকার। এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৮৫ শতাংশকে টিকা দেয়া হয়। কেবলমাত্র দুটি দেশ, ইসরায়েল এবং সেশেলস তাদের থেকে শতকরা হিসাবে বেশি টিকা দিয়েছে। তবে উভয় দেশের ক্ষেত্রেই এ জন্য কয়েক মাস সময় লেগেছে।

ক্রেডিট কেবল ভুটানের জ্যোতিষীদেরই নয়, রাজনৈতিক নেতাদেরও। ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক গার্ডিয়ানস অফ পিস গঠন করেন, যারা সারা দেশে ১ হাজার ২০০টিরও বেশি টিকা কেন্দ্র স্থাপন ও কর্মীদের সহায়তা করেছে। প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং নিজে একজন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেকেন ওয়াংমো নামকরা আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কার্ডিওলজি এবং এপিডেমিওলজি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

জনস্বাস্থ্যের উপর জোর দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৮ সালে ভুটানে ক্ষমতায় সরকার মহামারী নিয়ন্ত্রণে জোরালো ভূমিকা রেখেছে। দেশটির কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা কঠোর ছিল। মার্চ মাসে রাজা নিজেই দক্ষিণ প্রদেশে সফর শেষে থিম্পু ফিরে আসার পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক সপ্তাহ বাধ্যতামূলকভাবে আইশোলসনে কাটিয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও বাংলাদেশ সফর থেকে ফিরে ২১ দিনের জন্য আইশোলসনে ছিলেন। সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট।