ডিমলায় স্বপ্নের ঘরের পিলারে ধস

0
8

সাকিব জাহান (মিশু), নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ ঘরহীন মানুষের বসবাসের জন্য একটি করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষে এসব বাড়ি ভূমিহীনদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। উপহারের সেই বাড়ির অবস্থা এমন হয়েছে যে, বাড়ি পাওয়া ব্যক্তিরা আর সেখানে থাকতে চান না। কোন বাড়িতে বসবাস শুরুর আগে, কোনটা বসবাস শুরুর পর ধসে পড়ছে। কোনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে আবার  বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্বপ্নের এই প্রকল্পের অনিয়ম, দুর্নীতি আর নিম্নমানের কাজের কথা শুনে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন এলাকাবাসী। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় ডিমলা পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বান্নিরডাঙ্গা নামক স্থানে ১৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ১৫টি ঘরের মধ্যে বর্তমানে ৫টি ঘরে মানুষ বসবাস করিতেছে।

এ ব্যাপারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়া ব্যক্তি রাসেদ ইসলাম, শাবলু, মোকছেদ, আমেনা খাতুন ও হাবিবুর ফকিরের সাথে কথা বললে তারা জানান ঘর নির্মাণের ৫ মাসের মাথায় পিলারে ভাঙ্গন সৃষ্টি হওয়ায় আমরা সকলেই আতঙ্কের মধ্যে জীবন-যাপন করছি, ইতিমধ্যে ভাঙ্গনে আতঙ্কিত হয়ে ১০টি পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। এসব বাড়িতে অনেকে থাকতে চাইছেন না এবং প্রত্যেক পরিবারের জন্য একটি করে নলকূল বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে ৫টি পরিবারে মিলে ১টি নলকূল ব্যবহার করে আসছেন।

তারা আরও বলেন ঘরগুলি তৈরীতে নিম্ন মানের ইট, বালু, সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে এতে করে  মেঝে, দেয়ালে ফাটল ধরেছে এবং টানা এক সপ্তাহ বৃষ্টি হলে ঘরগুলি মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। স্থানীয় অছিমুদ্দিন বলেছেন গরিব মানুষকে দেওয়ার নামে যাচ্ছে তাই ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘর নির্মাণের নামে এরা দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এ প্রসঙ্গে অত্র ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ঘর ফাটল সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে সত্যতা এড়িয়ে যান।