তেলাপিয়া মাছকে কেন বলা হয় গারবেজ ফিশ বা আস্তাকুঁড়ের মাছ?

স্বাধীন নিউজ প্রতিবেদন:

মাছ ভাত ছাড়া বাঙালির খাওয়া সম্পূর্ণ হয় না। ইলিশ, ভেটকি, রুই হোক বা কাতলা, মাছের ঝোল ছাড়া যেন আমাদের জীবনটাই পানসে। এরকমই একটি সুস্বাদু মাছ হল তেলাপিয়া।

কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে এই মাছ খাওয়া ঠিক কতটা ঝুঁকির? কেনই বা এই মাছকে বিশ্ববাজারে বলা হয় গারবেজ ফিশ বা আস্তাকুঁড়ের মাছ? এটি বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশে সবচেয়ে বেশি চাষ করা মাছের মধ্যে একটি, জনপ্রিয় তো বটেই। কিন্তু স্বাস্থ্য ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা একে আস্তাকুঁড়ের মাছ বা আবর্জনার মাছ বলে অভিহিত করেছেন।

তেলাপিয়া মাছ আদতে কী?

তেলাপিয়া মাছকে আস্তাকুঁড়ের মাছ বা আবর্জনার মাছ বলার কারণ আছে অবশ্য। আসলে এটি জলের মধ্যে থাকার দরুন মূলত শ্যাওলা খায় এবং অন্যান্য অনেক নোংরা জিনিসও খেয়ে নেয়। তাছাড়া এই মাছ দামে খুব কম এবং ভীষণভাবে সহজলভ্য।

নিয়ম মেনে গড়ে ওঠা মাছের ভেড়িতে যে মাছ চাষ হয়, সেখানে যদি তেলাপিয়া চাষ হয়, তাহলে ঠিক আছে। স্বাস্থ্যসম্মত তেলাপিয়া খেলে দোষের কিছু নেই। কিন্তু দেখা গিয়েছে যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তেলাপিয়া খুবই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পালন করা হয়। সেক্ষেত্রে এই সব মাছকে পোলট্রির বর্জ্য এবং হাঁস-মুরগির মল খাওয়ানো হয়।

কেন একে বলা হয় আবর্জনা মাছ?

একে আবর্জনা মাছ বলার মূল কারণ হচ্ছে এটি সব খায় এবং যে কোনও পরিবেশে এই মাছের চাষ করা সম্ভব হয়। সঠিকভাবে চাষ করা তেলাপিয়াকে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর করার জন্য সয়াবিন এবং ভুট্টা জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয়। তবে সঠিক এবং স্বাস্থ্যকর চাষের অনুপস্থিতিতে, এই মাছ শ্যাওলা, পোকামাকড় এবং এমনকী হাঁস বা মুরগির মলও খেয়ে থাকে।

তাহলে কি তেলাপিয়া মাছ খেলে বিপদের আশঙ্কা আছে?

সব তেলাপিয়া মোটেই খারাপ নয়। বিশেষ করে খামারে স্বাস্থ্যকরভাবে চাষ করা তেলাপিয়া শুধুমাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নই নয়, একই সঙ্গে তা স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ। কারণ এই মাছে আছে প্রোটিন, ভিটামিন বি১২ এবং ভিটামিন ডি-এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

যাঁরা গর্ভবতী বা যে সব মহিলারা শিশুদের স্তন্যপান করাচ্ছেন তাঁদের জন্য তেলাপিয়া মাছ খুবই উপকারী। এছাড়াও যে সব বাচ্চাদের দুই বছরের বেশি বয়স তাঁদেরও এই মাছ খেতে খুব ভাল লাগে। এর মূল কারণ হল এই মাছে পারদের পরিমাণ খুব কম থাকে এবং এই মাছ অনেক কম দূষিত হয়।

কীভাবে তাহলে এই মাছ খেতে হবে?

এই মাছ খাওয়ার আগে প্রথমে নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভাবতে হবে। এমনভাবে এই মাছ খেতে হবে যাতে এই মাছ খাওয়ার পর কোনও শারীরিক সমস্যা না হয়। তাই বিশ্বস্ত এবং চেনা জায়গা ছাড়া এই মাছ কেনা উচিত নয়। মাছ কেনার পরে গরম জল দিয়ে এই মাছ ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর নুন ও হলুদ দিয়ে ম্যারিনেট করতে হবে।

নুন ও হলুদ দিয়ে ম্যারিনেট করলে মাছে রোগ-জীবাণু থাকলে সেটা দূর হবে। হলুদে অ্যান্টিসেপটিক গুণ আছে, তাই হলুদ দিতেই হবে। এই মাছ ভাজা, প্যান ফ্রায়েড বা বেক করা যেতে পারে। তবে স্বাস্থ্য ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে খাওয়ার আগে এই মাছ ভাল করে রান্না করে নিতে হবে।

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -