advertisement

ধর্ষণে জন্ম হওয়া শিশুর মৃত্যু ও চেয়ারম্যানের ৩ সহচরের অর্থ বানিজ্য

মোঃ মিজানুর রহমান কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

হাতিয়া ইউনিয়নের সদ্য বিদায়ী লগ্নে অপ্রতিকর ও নেক্কার জনক ঘটনায় জড়িয়ে গেলেন দুই ইউপি সদস্য।দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ধর্ষণ ও মৃত্যু নবজাতক আরিফ বাবুর মূল্য নির্ধারণ করেন ৭০ হাজার টাকা। চেয়াম্যানের নিজস্ব পকেট বলে আলোচিত সেই দুই ইউপি সদস্যের পকেটে। এমন নেক্কার জনক ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য বলে ঘোষণা করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল সহ মানবাধিকার কর্মীরা। ঘটনাটি জুড়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এমন নেক্কার জনক ঘটনাটি ঘটে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরে হাতিয়া ইউনিয়নের ৬-৭ নং ওয়ার্ডে সীমান্ত বর্তি এলাকা বকশিপাড়া গ্রামে।সরেজমিনে তদন্ত করে জানা যায় আম্বার আলীর শারীরিক প্রতিবন্ধি মেয়ে আর্জিনা( ১৯) কে ৭- নং ওয়ার্ডের খবির মিয়ার লম্পট পুত্র রফিকুল ইসলাম (৫০) দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষন করে আসছেন।ফলে অন্তসত্তা হন আর্জিনা। লজ্জা ও ভয়ে লিভার জনিত কথা বলে সমাজের কাছে এড়িয়ে যান পরিবারের লোকজন।বেশিদিন চাদরের আড়ালে ঢাকতে পারেনি গর্ভের সেই সন্তানকে। গত বুধবার ভোর ৫ টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। নাম দেয়া হয় আরিফ বাবু। সন্তান প্রসবের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।ওঠে আসে ধর্ষকের নাম। ধর্ষককে খুঁজতে মড়িয়া হয়ে ওঠে সকলে। ধর্ষককে নিয়ে যখন সকলে ব্যস্ত সময় পাড়ি দিচ্ছিলেন ঠিক তখনেই সকল জল্পনা কল্পনাকে বিদায় জানিয়ে মৃত্যু হয় সদ্য জন্ম হওয়া সেই আরিফ বাবুর।আর এই মৃত্যুকে পুঁজি করে বানিজ্যে নামেন চেয়ারম্যানের বিশ্বস্ত দুই পকেট খ্যাত দুই ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সহচর। ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের জয়নাল মেম্বার, ৭নং ওয়ার্ডের মোন্নাফ ও চেয়ারম্যানের বার্তাবাহক বলে এলাকায় আলোচিত বাবলু। ধর্ষকের পরিবার থেকে আপোষ মিমাংসার কথা বলে ৭০ হাজার টাকা গ্রহন করে বলে জানান স্থানীয় জনতা। টাকা নিয়ে আর্জিনার পরিবার কে পাত্তা না দিয়ে চেয়ারম্যানের ফোনের কথা বলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এই তিন ব্যাক্ত। এমন সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার ১১টারদিকে ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখা যায় আরিফের মৃত্যু দেহটাকে নিয়ে বসে আছে পরিবারের লোকজন। মেম্বার ও বাবলু কথা দিয়েছে আপোষ করবে বলে। এমন মুমূর্ষু বর্ণনা দিলেন উপস্থিত স্থানীয় জনতা। আর্জিনার বড়মা জানান মঙ্গলবার রাতে প্রসবের ব্যথা ওঠলে কুড়িগ্রামের হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং ভোরের দিকে ছেলে বাচ্চার জন্ম হয়। মেয়েকে বাচ্চার বাবার নাম জিজ্ঞেস করলে রফিকুল ইসলামের নাম বলে।আমরা লিভার জনিত সমস্যা মনে করছিলাম এই জন্য কাউকে কিছু বলিনি। আম্বার জানান আমি বাহিরে থাকি তেমন কিছু বলতে পারবো না। মেম্বার ও বাবলু আপোষ করতে চাইছে বলে মাটি দেয়া হয়নি।রফিকুল ইসলামের পিতা খবির মিয়া জানান স্থানীয় লোকমুখে শুনতে পাই আমার ছেলে এমনটা করছে। আম্বারের প্রতিবেশি বড় ভাই ফয়জার রহমান জানান যদি গর্ভের ব্যাপারে কেউ কিছু বলতো তাহলে মেয়ের মা যা-তা বলে মানুষকে গালমন্দ করতো। মেম্বার মোনাফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জয়নাল মেম্বারের সাথে কথা হলে তিনি জানান আমি মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলে মোনাফ সহ ছেলের বাড়িতে যাই আপোষের প্রস্তাব দিলে তারা রাজি হয়।পরে আমি উলিপুরে যাই। বাবলু আমাকে ফোনে বলে অাপোষ হয়েছে ছেলের পরিবারকে কাগজ করে দিতে হবে। এই কথা বলে বাবলু আবারও চেয়ারম্যানের ফোন এসেছে বলে লাপাত্তা হয়ে যায় তারপর থেকে মেয়ের পরিবার এখনো কোনো বার্তা পায়নি। তাই তারা বাচ্চাটিকে নিয়ে এখনো বসে আছেন। এ বিষয় উক্ত মেম্বারের সঙ্গে কথা বললে উনি চমকে উঠার ভান করে । গল্পের বাহানায় সংবাদ কর্মিদের আটকিয়ে তড়িঘড়ি করে বাবলুকে ফোন করে সন্ধায় দাফন করান। মানবাধিকার সংগঠন গুলো বলছেন এটা নেক্ককারজনক ঘটনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন তাই এইটা অাপোষ যোগ্য কোন ঘটনা নয় এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মেম্বাররা যেটা করছে সেটা ক্ষমার অযোগ্য। তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোড় দাবি জানান তারা।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -spot_img

সর্বাধিক পঠিত