advertisement

নকলায় মেয়রের সংবাদ সম্মেলন

শেরপুর প্রতিনিধিঃ-

সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট খবর প্রকাশ করা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচাররের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) নকলা পৌরসভার মিলনায়তন কক্ষে অনুষ্ঠিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংদেশ আওয়ামীলীগ নকলা উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন।

সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটনের সাক্ষরিত লিখিত ও পঠিত বক্তব্যে তিনি বলেন,

“গত রবিবার (২৮ নভেম্বর) নকলা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচন চলাকালে ৪নং গৌড়দ্বার ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পাইস্কা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শেরপুরের জুবাইদুল ইসলাম নামে এক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালনকালের একপর্যায়ে স্থানীয় সাধারণ ভোটার সাংবাদিক জুবাইদুলের মধ্যে তর্কতর্কি শুরু হয়। ঘটনার একপর্যায়ে স্থানীয় সাধারণ জনগন সাংবাদিক জুবাইদুলের উপর চড়াও হয় এবং শত শত ভোটার তাকে ঘিরে ধরে । এসময় আমি ওই নির্বাচনী কেন্দ্রের পাশ দিয়ে পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলার বাঁশাটি এলাকার একটি ইটভাটায় যাচ্ছিলাম। নির্বাচনী কেন্দ্রে জনগনের উচ্চবাচ্য চিল্লাচিল্লি ও হইহুল্লোর শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই।

পরে স্থানীয় ভোটাররা অভিযোগ করে জানায় , নির্বাচনের আগেরদিন থেকে ওই সাংবাদিক তার এক আত্নীয় ইউপি সদস্য প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে ভোট প্রার্থনা করেছেন। তাছাড়া ভোট গ্রহন চলাকালেও নাকি সে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনাসহ বিভিন্ন ভাবে প্ররোচনা দিচ্ছিলেন। এ ঘটনা দেখে সাধারন ভোটাররা সেই সাংবাদিককে ভোট চাইতে নিষেধ করেন ফলে সাংবাদিকের সাথে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চিল্লাচিল্লি ও তর্কতর্কির সূত্রপাত হয়।

আমি তখন উক্ত বিশৃঙ্খল ঘটনা দ্রুত সামাল দিতে ও জনগনকে শান্ত করতে আপ্রান চেষ্টা করি। তারপরও জনগন শান্ত না হওয়ায় সাংবাদিক জুবাইদুলকে সেখান থেকে দ্রুত আপাতত অন্যত্র সরে যেতে বলি।

উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার করা হয়। যা নিতান্তই মিথ্যা,বানোয়াট,ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে আমি মনে করছি।

এছাড়াও যেসকল সাংবাদিকগন তাদের পত্রিকায় ও টিভিতে আমাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন তাদের অধিকাংশই তখন ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং প্রকৃত ঘটনার কিছুই তারা জানেন না। আত্নীয়ের পক্ষ নিয়ে শেরপুর থেকে নকলায় আসা সাংবাদিক জুবাইদুলের কাছে শুনে যাচাই ছাড়াই তারা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেন। এছাড়া আমি লক্ষ করেছি প্রায় খবরেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমাকে এ ঘটনার সাথে জড়িত করে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তাছাড়া উক্ত সংবাদ গুলো দ্বারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সুষ্ঠুতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারা করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি।

উক্ত ঘটনা ও মিথ্যা সংবাদের প্রেক্ষিতে উপস্থিত সাংবাদিক ভাইদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ লেখনির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সবার সামনে তুলে ধরার অনুরোধ করছি। আপনাদের নিজ নিজ সংবাদ মাধ্যমে সত্য ঘটনাটি প্রচার করে জনগনের সামনে সত্য তুলে ধরবেন বলে আশা করছি”।

লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নকলা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ নকলা শাখার সভাপতি মজিবর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নকলা শাখার সদস্য ইন্দ্রজিৎ ধর সুভাষ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলন শেষে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজকের পত্রিকার নকলা উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসাইন আহাম্মেদ, কালের কন্ঠের প্রতিনিধি মোশারফ হোসাইন সরকার বাবু, নকলা টিভি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান টিভি প্রতিনিধি খন্দকার জসিমউদ্দীন মিন্টু, টিভি আইয়ের শেরপুর প্রতিনিধি হাকিম বাবুল, দৈনিক আজকের বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউজ্জামান রানা।

এছাড়াও উক্ত সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম লাভলু, সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি দেবাশীষ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বা.স.স) প্রতিনিধি সঞ্জিব চন্দ্র বিল্টু, বিজয় টিভির প্রতিনিধি ইউসুফ আলী মন্ডল, বাংলার কাগজ পত্রিকার সম্পাদক মনির হোসেন, শেরপুর টাইমসের বার্তা সম্পাদক সুরুজ্জামান ও সাংবাদিক আবুল কাশেম সহ জেলা উপজেলায় কর্মরত আরও ২০-২৫ জন গনমাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -spot_img

সর্বাধিক পঠিত