নামবিহীন কার্ডের মাধ্যমে গরীবের চাল পেলো চেয়ারম্যান সফর উদ্দিনের লোক

0
16

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে ২০২১-২২ অর্থ বছরের ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল বিতরনে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে । পরিষদের চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গরীব দুঃখীদের সাথে প্রতারনা করে নাম বিহীন কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরন করে স্বজনপ্রিতী এবং দলীয় করন করার অভিযোগও উঠে এসেছে। জানা যায়, পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের জন্য ৭.৫৩ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ এসেছে। বরাদ্দকৃত চাল ইউনিয়নের অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের জন্য মাথাপিছু ১০ কেজি করে বিতরন করার কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে তার উল্টো চিত্র। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে শতাধিক নারী পুরুষ। প্রত্যেকের হাতে রয়েছে নামবিহীন ভিজিএফের কার্ড । নামবিহীন ভিজিএফের কার্ডের মাধ্যমে বোঝার কোন উপায় নেই কে গরীব কে বড়লোক। অনেকেই বলছেন চেয়ারম্যানের লোকজন নামবিহীন কার্ডের মাধ্যমে অসহায়দের চাউল সংগ্রহ করছেন। তার মধ্যে কয়েকজন ১০ থেকে ১২ বিঘা সম্পত্তির মালিকও রয়েছে। তারা চেয়ারম্যানের লোক বলে এই ভিজিএফের কার্ড পেয়েছেন। শুধু তাই নয় ওজন বিহীন একটি প্লাস্টিকের বালতি ভড়ে চাল দেওয়ার কারনে ১০ কেজির পরিবর্তে ৭ থেকে ৮ কেজি করে গড়ে চাল পাচ্ছে সাধারন জনগন। ভুক্তভোগী কয়েকজনের সাথে কথা বললে জানা যায় সকাল থেকে প্রায় ৪ শতাধিক মানুষ ভিজিএফের চাল নিয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকেই ৮ কেজি করে চাল পেয়েছে। চাল কমের বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাংবাদিকদের উপস্থিতে বাজারের একটি দোকানে ডিজিটাল ওজন মাপার মেশিনে কয়েকজনের চাল মাপ করলে দেখা যায় প্রত্যেকে গড়ে ৮ কেজি করে চাল পেয়েছে।ভিজিএফের চাল থেকে বঞ্চিত ভুক্তভোগী বৃদ্ধমহিলা খেজুরতলা এলাকার ওসমানের স্ত্রী শহিদা বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘ দিন যাবত অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে রয়েছে। আমার কোন ছেলে সন্তান নাই। আমার বাড়িতে কোন খাবার নেই। আমি চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি জমা দিয়েছি। আজকে আমি এখানে চাল নিতে আসলে চেয়ারম্যান আমার কাছে ভিজিএফের কার্ড চাচ্ছে। চেয়ারম্যান আমাকে ভিজিএফের কোন কার্ড দেয়নাই তাহলে আমি কি চাল পাবোনা। আমি কি অসহায় নয়। এ বিষয়ে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সফর উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, নামবিহীন কার্ড দেওয়াতে কোন সমস্যা নেই। নাম লিখে দিতে হবে এটার কোন নিয়ম লেখা নাই। নাম বিহীন কার্ড যে নিয়ে আসবে তাকেই চাল দেওয়া হবে। এমন উত্তরে প্রতিবেদক প্রশ্ন করে বলে আমি কুষ্টিয়া শহরের বাসিন্দা আমি গরীব অসহায় নয়, আমি নাম বিহীন এই ভিজিএফের কার্ড আপনার যে কোন লোকজনের কাছ থেকে নিয়ে আসলে আমাকেও চাল দিবেন ? এমন প্রশ্নের জবাবের উত্তরে চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন বলেন, আপনি কার্ড নিয়ে আসলে আপনাকেও চাল দিবো। আপনি কুষ্টিয়া শহর থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে তেল খরচ করে আসবেন আপনাকে অবশ্যই চাল দিবো এবং
চাল কম দেওয়া হলে বাচলে আরও মানুষকে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইউএনও সাধন কুমার বিশ্বাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক মৃনাল কান্তি দের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমাদের ব্যাপারটা জানা ছিলোনা আপনাদের কাছ থেকে জানলাম। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।