নিভৃতপল্লী ঘুঘুডাঙ্গা দৃষ্টিনন্দন তালসড়কের সৌন্দর্য নষ্টে মেতেছেন এলাকাবাসী,টোকাইদের উৎপাত ও স্থানীয়দের হেনস্তার অভিযোগ দর্শনার্থীদের!

0
61

নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউপির নিভৃতপল্লী ঘুঘুডাঙ্গা দৃষ্টিনন্দন সড়ক বর্তমানে দর্শনীয় স্পট হিসেবে পরিচিত হওয়ায় প্রতিদিনই লক্ষ্য করা যাচ্ছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সামাজিক যোগাযোগের বদলৌতে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বেশ পরিচিত লাভ করে ঘুঘুডাঙ্গা নিভৃতপল্লীর সারি সারি তালগাছ সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন সড়কটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যের ছবি দেখে বিমোহিত হয়ে নিজেকে ক্যামরাবন্দি করতেই দৃষ্টিনন্দন সড়কে ভিড় করছে বিভিন্ন জেলার তরুন/তরুনীসহ নানাবয়সী মানুষ।অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে আসছেন ফটোসেশনের পাশাপাশি গ্রামীন পরিবেশের মুক্ত বাতাসে সৌন্দর্য অবলোকনে।
সড়কটির বিশেষত্ব হচ্ছে ২ কিলোমিটার রাস্তায় রয়েছে কয়েক হাজার তাল গাছ আর সারি সারি লাগানো তালগাছ গুলোর উচ্চতাও প্রায় একই রকম। যা দর্শনার্থীদের মনকে করেছে উচ্ছ্বোসিত। দর্শনার্থীদের আগ্রহ বিবেচনায় নওগাঁ ১ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপির নির্দেশনায় নিয়ামতপুরের ‘ঘুঘুডাঙ্গা তাল গাছ সড়ক’ কে আরও আকর্শনীয় করতে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে কৃতিমতার ছোঁয়া। গত বছরের (২০২০) আগস্ট মাসে নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদ এর অর্থায়নে এলজিইডি এর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ছিল রাস্তার উভয় পার্শ্বে প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বসার বেঞ্চ,তালগাছের গোড়ায় বিভিন্ন রং এর সাজসজ্জা ও আলোকিত সৌর বাতি। প্রকল্প কাজে তদারকির কাজে স্থানটি কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারীয়া পেরেরা। সাথে সফর সঙ্গী ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী নূর-এ-আলম সিদ্দিকী, এসএই মোঃ বজলুর রশীদ এবং হাজীনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।
মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে দৃষ্টিনন্দন রাস্তার সৌন্দর্য নষ্টে মেতেছেন এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন একাধিক দর্শনার্থী।
নিয়ামতপুর সদরের সুমন নামের এক দর্শনার্থী অভিযোগ করে বলেন অধিকাংশ তালগাছের গোড়ায় বসানো হয়েছে কোপ (সম্ভবত কোদাল বা ধারলো কিছু),গাছে টাঙ্গানো হয়েছে সাইনবোর্ড পোস্টার।
গোমস্তাপুরের শহিদুল নামে আরেক দর্শনার্থী অভিযোগ করে বলেন বোরো মৌসুমে রাস্তায় মাড়াই হচ্ছে ধান,শুকানো হচ্ছে খড়।ফলে রাস্তা পার হতে ভোগান্তি হচ্ছে পথচারীদের।
হাজীনগর মাকলাহাটের শহিদুল,ঈদুল আযহা ও তুহিন অভিযোগে বলে গাছে অনেক আঘাতের দাগ ছাড়াও যততত্র ফেলে রাখা হয়েছে খড় যা সৌন্দর্যে অনেকটা ভাটা ফেলেছে।ঘুঘুডাঙ্গা তালসড়ক কতটা জনপরিচিত তা ঈদ মৌসুমে করোনা কে উপেক্ষা করে মানুষের উপচে পড়া ভিড় তা প্রমান করে। তাই সৌন্দর্য ধরে রাখতে উপজেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন।তাছাড়া দর্শনার্থীদের আকর্শন হারাবে স্থানটি।
একাধিক ছবি ও ভিডিও ফুটেজের পাশাপাশি সরজমিনে তালগাছের গোড়ায় দাগ, পোস্টার ও খড় কুটার আবর্জনা লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া অনেকে স্পটে টোকাই/উশৃঙ্খল ছেলেদের উৎপাত বেড়েছে বলে এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা অভিযোগ জানিয়ে আসছে।এলাকার পরিবেশ রক্ষার্থে উশৃঙ্খলতা,ইভটিজার ও অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত না করতে পারার ব্যবস্থা গ্রহনেও সংশ্লিষ্টদের নিকট দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা।এমনকি ঘুরতে এসে স্থানীয়দের হেনস্থার স্বীকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
ঘুঘুডাঙ্গা নিভৃতপল্লী দৃষ্টিনন্দন তালসড়ক নি:সন্ধেহে নিয়ামতপুরের ঐতিহ্য ও জাতীয় সম্পদ।যা রক্ষা করা আমার আপনার সকলের দ্বায়িত্ব। নিয়ামতপুরের ঐতিহ্য রক্ষায় বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্শন করেছে দর্শনার্থীরা।