নুসরাত-এর মা হওয়ার সংবাদে যা বললেন তসলিমা

0
21

বিনোদন ডেস্ক

সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে একটাই আলোচনা, নুসরাত জাহান মা হতে চলেছেন। নিখিলের সংগে আইনি বিচ্ছেদ এখনও হয়নি নুসরাতের, অন্যদিকে যশ দাশগুপ্তর সংগে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গত কয়েক মাসে বেশ নজর কেড়েছে।

নুসরাত সত্যি অন্তঃসত্ত্বা নাকি অন্য কোনও উপায়ে মা হতে চলেছেন তিনি- সেসব আলোচনায় নুসরাত বা যশ কোনও মন্তব্য করেননি। তবে লেখিকা তসলিমা নাসরিন এই বিষয় নিয়ে দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন।

দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন-‘নুসরাতের খবর বেশ চোখে পড়ছে। তিনি প্রেগনেন্ট। তাঁর স্বামী নিখিল এই ব্যাপারে কিছু জানেন না। দু’জন আলাদা থাকছেন ছ’মাস হলো। তবে যশ নামে এক অভিনেতার সংগে অভিনেত্রী নুসরাত প্রেম করছেন। সন্তানের পিতা, মানুষ অনুমান করছে, যশ; নিখিল নয়। খবরটি খবর না গুজব জানি না।’

তসলিমা প্রশ্ন রেখেছেন, ‘এই যদি পরিস্থিতি হয়, তবে নিখিল আর নুসরাতের ডিভোর্স হয়ে যাওয়াই কি ভালো নয়? অচল কোনও সম্পর্ক বাদুড়ের মতো ঝুলিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না। এতে দু’পক্ষেরই অস্বস্তি।’

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা লিখেছে, বিতর্ক কোনওদিনই পিছু ছাড়েনি তসলিমার। অন্যদিকে নুসরাতও হামেশাই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন, নুসরাত যেমন নিজের শর্তে বাঁচেন, তেমনই তসলিমাও গোটা জীবনটা নিজের সিদ্ধান্তকে এগিয়ে রেখেছেন। পুরুষতন্ত্র বা ধর্ম নিয়ে কথা বলে তসলিমাকে বারবার পড়তে হয়েছে রোষের মুখে।

এদিন ফেসবুক পোস্টে তসলিমা আরও লেখেন, ‘যখন নুসরাত আর নিখিল বিয়ে করলেন, বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম। ঠিক যেমন আনন্দ পেয়েছিলাম, সৃজিত আর মিথিলা যখন বিয়ে করেছিলেন। অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করি বলে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে বিয়ে হলে খুব স্বাভাবিক কারণেই পুলকিত হই।’ তবে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এই ‘চোখ জুড়ানো জুটি’-র পথ চলা থেমে যাওয়ার খবরে মন ভেঙেছে তাঁর, সেকথাও জানিয়েছেন তসলিমা।

ব্রাত্য বসুর ডিকশনারি ছবিতেই শেষবার দেখা গিয়েছে নুসরাত জাহানকে। দাম্পত্য আর পরকীয়ার জালে আটকে থাকা স্মিতার চরিত্রে সেখানে অভিনয় করেছেন নুসরাত।

তসলিমা জানিয়েছেন, নুসরাতের অভিনয় ওই ছবির মধ্যে দিয়েই তিনি প্রথম প্রত্যক্ষ করেন, নুসরাতের অভিনয়ের প্রশংসা করেন তসলিমা। নুসরাতের সৌন্দর্যের তুলনা টানেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সংগে।

তসলিমার ইচ্ছে ‘স্বাধীনচেতা’, ‘আত্মনির্ভর’ নুসরাত যেমন মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তেমনই নিজের সন্তানকে নিজের পরিচয়েই বড় করে তুলুন তিনি। পাশাপাশি তাঁর দাবি, স্বাধীনচেতা নারীর কাঙ্খিত পুরুষ আদতে অলীক কল্পনা মাত্র, সেটা বাস্তবে সম্ভব নয়।

তসলিমা লেখেন, ‘নিজের সন্তানকে নিজের পরিচয়েই বড় করা যায়। পুরুষের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। আসলে নিখিল এবং যশের মধ্যে কী এমন আর পার্থক্য! পুরুষ তো শেষ পর্যন্ত পুরুষই। এক জনকে ত্যাগ করে আরেক জনকে বিয়ে করলে খুব যে সুখময় হয়ে ওঠে জীবন তা তো নয়। দ্বিতীয় বিষময় জীবন থেকে বাঁচতে তাহলে কি আবার আরেকটি বিয়ে করতে হবে? তাহলে এ রেসের শেষ হবে না, কাঙ্খিত পুরুষের দেখাও মিলবে না। স্বাধীনচেতা নারীর কাঙ্খিত পুরুষ কল্পনায় থাকে, বাস্তবে নয়।’