নোয়াখালীতে ইউপি সদস্যকে হত্যার অভিযোগে ইউপি সদস্যসহ ২জন গ্রেপ্তার

0
24

এম.এস আরমান,নোয়াখালী।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ইউপি সদস্য রবীন্দ্র চন্দ্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরের দিকে নিহেতের ছেলে বিটেল চন্দ্র বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে ইউপি সদস্যসহ ২জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো, উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুমন চন্দ্র দাস (৪০)। সে একই এলাকার মৃত নরত্তোম দাসের ছেলে। চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের গামছা খালি গ্রামের আনাজল হকের ছেলে আমজাদ (৩৪)।

থানা সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য রবীন্দ্রকে হত্যার ঘটনায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০জনকে আসামী করে নিহতের ছেলে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে চরঈশ্বর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আশ্রাফুল হক (২৮) ও মামলায় ১০নং আসামী করা হয়েছে তার কাকা চরঈশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল হালীম আজাদকে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরো জানান, দুই আসামীকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড থেকে আটক করা হয়। আটককৃত আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এবং পর্ব শক্রতার জের ধরে গত বুধবার (৯জুন) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের নন্দ রোডে ইউপি সদস্য ও উপজেলা আথলীগের সদস্য ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি রবীন্দ্র চন্দ্র দাসকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। সে একই এলাকার তালুকদার গ্রামের সতিশ মহাজনের ছেলে।
নিহতের ভগ্নিপতি নৃত্য লাল দাস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য রবীন্দ্র চর ঈশ্বর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। আসন্ন ইউপি নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। আগামী (২১ জুন) ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় বাংলাবাজারে ক্লোস্টোরে রেখে মাছের ব্যবসা করতেন। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আল আমিনসহ মোটরসাইকেল যোগে হাতিয়া পৌরসভার ওছখালী এলাকার মাস্টার পাড়ায় তার বাসায় যাচ্ছিলেন। যাত্রা পথে তাদের মোটরসাইকেলটি চরঈশ্বর প্রধান সড়কের খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নন্দ রোডে পৌঁছলে একদল দূর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য কর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে তাদের গতিরোধ করে।
এসময় মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা আল আমিন দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও হামলাকারীদের হাতে আটকা পড়ে রবীদ্র। হামলাকারীরা প্রথমে রবীন্দ্রকে গুলি ও পরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে এবং তার হাতের কব্জি ও পায়ের রগ কেটে ফেলে যায়। পরে একদল টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবীন্দ্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।