পঁচাত্তরে ওরা স্বাধীনতাকেই নস্যাৎ করতে চেয়েছিল – নাদেল

0
34

মোঃ হারুন-অর-রশিদ
বারহাট্টা উপজেলা প্রতিনিধি

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখ, রোববার। আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠণিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেছেন, উনিশ’শ পঁচাত্তরে ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা নয়, ওরা দেশের স্বাধীনতাকেই নস্যাৎ করে দিতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর অর্জন দেশের স্বাধীনতা। ওদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে অস্বীকার এবং পাকিস্তানের সাথে একাকার হয়ে যাওয়া। তাদের উদ্দেশ্য সফল হয় নাই। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। নির্বাচন আসছে। নিজেদের মধ্যে সকল দ্বিধা-দ্বন্ধের অবসান ঘটিয়ে জননেত্রীর হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। নেত্রকোণা জেলা পরিষদের বারহাট্টা মাল্টিপারপাজ হলে অনুষ্ঠিত বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমানের সভাপতিত্ব ও সাধারন সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুল ওয়াহেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য রেমন্ড আরেং ও মারুফা আক্তার পপি, নেত্রকোণা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কর্নেল (অবঃ) নূর খান ও গোলাম রসুল তালুকদার, সাধারন সম্পাদক ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু, এমপি, যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায়, যুগ্ম সম্পাদক ও সদর পৌর সভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম সম্পাদক নূর খান মিঠু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান শেফালী, জেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক শাহ মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বারহাট্টা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুল কবীর খোকন ও বর্তমান চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাইনুল হক, বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মোমেন তালুকদার সহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

জানা যায়, বিগত ২০০৩ সালে এক কাউন্সিলের মাধ্যমে বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে নতুন কমিটি গঠণের পদক্ষেপ নেয়া হয়। প্রায় উনিশটি বছর পেরিয়ে যায়। বিভিন্ন কারণে নতুন কমিটি গঠণ সম্ভব হয় নাই। অভ্যন্তরিন দ্বন্ধকেই এ জন্য দায়ি করা হয়। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভা করা হয়। সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা পরস্পর-বিরোধী বক্তব্য রাখেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই দ্বন্ধের অবসান ঘঠিয়ে নতুন কমিটি গঠণের পরিবেশ সৃষ্ঠির উদ্যোগ নিয়েছেন।

মংমনসিংহ বিভাগের সাংগঠণিক দায়িত্ব প্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠণিক সম্পাদক নাদেল বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠণ উপলক্ষে এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ উনিশ বছর নতুন কমিটি হয় নাই। এর দায় জেলা কমিটির। এর দায় কেন্দ্রীয় কমিটির। আমরা সকল দ্বন্ধের অবসান চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যের বিকল্প নেই। আমরা জননেত্রীর হাতকে আরো শক্তিশালী দেখতে চাই। এ জন্য সকলকে একে ওপরের দোষারোপ করা ভুলে যেতে হবে। সকলকে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু, এমপি বলেন, কেন্দ্রীয় নেত্রবৃন্দের উপস্থিতিতে সকলের সামনা সামনি খোলামেলা আলোচনার সুযোগ সৃষ্ঠি হয়েছে। আসুন আজ আমরা সকল দ্বন্ধের অবসান ঘটাই। প্রকাশ্য মতামতের ভিত্তিতে বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি উপহার দেই।