পাবনার সর্ব বৃহৎ পশুর হাটে উপচে পড়া ভীড়, উপেক্ষিত স্বাস্হ্যবিধি

0
9

আব্দুল জব্বার পাবনা
পাবনার বিভিন্ন উপজেলার পশু হাটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে পশু হাট বসেছে। এতে করে করোনা সংক্রমনের ঝুকি বাড়ছে। ঈদকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার (১৩জুলাই) উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সর্ববৃহৎ সাঁথিয়া উপজেলার সিএনবি করমজা চতুর পশুর হাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়। হাট কমিটির পক্ষ থেকে করোনাকাীন স্বাস্থ্যবিধি মানার নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা খুব একটা কাজে আসেনি ফলে করোনার উচ্চ সংক্রমণের এই সময়ে বিষয়টি মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছে, হাটে বাজারে এমন অসচেতন হলে করোনা আরও বাড়বে।

হাট কমিটির লোকজন জানান, হাটে পশুর প্রচুর আমদানি হয়েছো । তবে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে যানবাহন বন্ধ থাকায় দূর থেকে হাটে পশু কম এসেছে।

হাটের গরু ব্যবসায়ীরা জানান,ঈদ সামনে হওয়ায় গরুর দাম কিছুটা বেশি, তবে অন্য বছরের তুলনায় কম, কঠোর লকডাউনের কারনে এমন হয়েছে।

হাটে গরু নিয়ে আসা সাঁথিয়া উপজেলার করমজা গ্রামের আবু সাঈদ বলেন, ‘এক বছর ধইর‌্যা তিনডা গরু পালতেছি। আশা করিছিল্যাম গরু তিনডার দাম কমপক্ষে সারে তিন লাখ টাকা দাম হবি। কিন্তু এর দাম উঠিছে মাত্র দুই লাখ আশি হাজার টাকা।

তবে হাটে ক্রেতা বিক্রেতা স্বাস্থ্য বিধি তো দুরের কথা গাদাগাদি করে একে অপরকে ঘেষে রয়েছে। অনেকেই মুখে মাস্ক পড়েনি। যারা পড়েছে তাদের অনেকেরর নাকের নিচে মাস্ক পড়া রয়েছে।

বেড়া উপজেলার রাকশা গ্রামের সামাদ বলেন, ‘মাস্ক পইড়্যা হাটে আইছিল্যাম। কিন্তু গরমে মুখে মাস্ক রাখা যায় না। তাই পকেটে রাখিছি।আল্লাহ আয়ু রাখলে মরবো না হলে মরবোনা। সব আল্লাহ ইচ্ছা, এ সব মাস্ক পড়ে কোন লাভ নাই।

হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান উকিল বলেন, ‘গরুর হাট বিধিনিষেধের বাইরে। তাই আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা মাস্ক বিনা পয়সায় বিতরণ করেছি। এ ছাড়া স্যানিটাইজার ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।’

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার সাঁথিয়া ও বেড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও দুই থানার ওসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা করমজা পশুর হাট পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা হাটে স্বাস্থ্যবিধি পালন করা হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারটি তদারকি করেন।

সাঁথিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ বলেন, ‘চলমান বিধিনিষেধ অনুযায়ী অস্থায়ী হাট বসায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিয়মিত হাটগুলোর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করার জন্য করমজা হাট কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছি।

উল্লেখ্য গত পহেলা জুলাই থেকে করোনা সংক্রমনের উর্ধগতি ঠেকাতে সরকার কঠোর লকডাউন দেয়।