পিরোজপুরে শীতের সকালে মিষ্টি সুবাস ছড়াচ্ছে খেজুর রস

 

এস এম-নুর
পিরোজপুর প্রতিনিধি:-

 

সারা দেশের ন্যায় পিরোজপুরেও জেঁকে বসেছে শীত।
কনকনে ঠান্ডায় যখন স্থবির জনজীবন ঠিক সেই সময় বাতাসে মিষ্টি সুবাস ছড়াচ্ছে খেজুরের রস। শীতে শহর ও গ্রামের বাড়িতে বসে গৃহবধূরা ব্যস্ত হয়ে
পড়েছে পিঠা-পুলি বানানোর উৎসবে।
আর পিঠা-পুলির সঙ্গে খেজুরের রস থাকলে তো কথাই নেই! যার ফলে কনকনে শীতের সঙ্গে বেড়েছে খেজুর রসের কদর। শীতের আগমন
থেকে এ পর্যন্ত খেজুর গাছ থেকে সুমিষ্ট রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছীরা।

আবার অনেকে সেই রস দিয়ে সুমিষ্ট গুড় বানাতে ব্যস্ত হয়ে
পড়েছেন। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে প্রায় ফেব্রয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত
খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা যায়। এ রস দিয়ে তৈরি হওয়া সুমিষ্ট ও
সুস্বাদু গুড় যা পুরানো দিনের ঐতিহ্য বহন করে। গ্রাম্যাঞ্চেলে কাক ডাকা
ভোরে খেজুরের রস দিয়ে মুড়ি খাওয়া যেনো ঐতিহ্যের একটি অংশ এছাড়াও
সন্ধ্যাকালীন সময়ে জ্বাল দিয়ে গরম করা খেজুর রস দিয়ে নানা ধরনের পিঠা
খাওয়া যেনো অমৃততুল্য। জেলার বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে গেলেই চোখে পড়ে
দৃষ্টিনন্দন খেজুর গাছ। সারা বছর এসব গাছের পরিচর্যা না করলেও কদর বাড়ে
শীত মৌসুমে । বিশেষ করে গ্রামেগঞ্জে বেশি দেখা যায় খেজুর গাছ। বর্তমানে এ
জেলার প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খেজুর রস সংগ্রহে বেশ ব্যস্ততা
লক্ষ্য করা গেছে গাছীদের মধ্যে। খেজুর গাছের মালিকরা অনেক সময় নিজেদের
গাছ থেকে নিজেরাই রস সংগ্রহ করে থাকে। তবে বেশির ভাগ লোক ভালো গাছীদের
চুক্তি দিয়ে খেজুর রস সংগ্রহ করায়। অনেক গাছী আছেন যারা মালিকের কাছ থেকে
সারা বছরের জন্য গাছ লিজ নিয়ে থাকেন। এসব লিজ হয় নির্দিষ্ট চুক্তির
মাধ্যমে। তবে বেশির ভাগ আদি ভাগে চুক্তি সম্পন্ন হয় বলে যানা গেছে।
বংশ পরম্পরায় এ পেশায় তরুনেরাও ঝুঁকছেন অনেকে।
আল আমিন শেখ নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী তরুন গাছী জানান, তার দাদা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে আমার বাবাও রস সংগ্রহ করতেনে। আমি আমার
বাবার কাছ থেকে এ কাজ শিখেছি।
গাছ মালিক ও গাছী কাজী মাহাবুব জানান, আমার নিজের গাছের সঙ্গে কিছু গাছ আদি ভাগে লিজ নেওয়া। তা থেকে যে রস পাই সেটা স্থানীয়দের মাঝে বিক্রি করি
বাকি অংশ দিয়ে গুড় তৈরি করি। দিনে প্রায় ১২০০-১৫০০ টাকার মত আমার আয় হয়।
বয়স্ক খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছী মোঃ লিয়াকত হাওলাদার বলেন, আমি প্রতি বছর
৩’শ থেকে ৪’শত গাছ আদি লিজে নিয়ে থাকি। সংগৃহীত খেজুর রস আমার ভাগেরটা
বিক্রি করি আবার বেশির ভাগ সময় সেই রস দিয়ে গুড় তৈরি করি।
খেজুর গুড় সুমিষ্ট ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বেশি। প্রতি কেজি
খেজুরের গুড় বিক্রি হয় ১৮০-২০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও খেজুর রস ফেরি করে
বিক্রি করা হয় গ্রাম-গঞ্জে ও শহরে। যা লিটার ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি
হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, খেজুর রস সংগ্রহকারী গাছীদের মধ্যে শীতে মৌসুমে ফিরে
আসে প্রাণচাঞ্চল্য। তারা রস সংগ্রহ করে লালি গুড়, পাটালী গুড় তৈরি করেন।
আর শীত মেীসুমে খেজুর গুড়ের পিঠা বানিয়ে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি পাঠাতেও
পছন্দ করে এলাকার মানুষ। খেজুর রস যেমন আকৃষ্ট করে মানুষকে তেমনি খেজুর
রস হতে তৈরি খেজুর গুড়ের মিষ্টি ঘ্রানও আকৃষ্ট করে। যার ফলে গ্রামীন এ
ঐতিহ্য ধরে রাখতে খেজুর গাছ নিধন বন্ধ ও নতুন গাছ লাগাতে উৎসাহ প্রদান
করছেন এলাকার সতেচন মহল।

 

পিরোজপুর সংবাদদাতা:-

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -