পীরগঞ্জে নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার

0
36

মোঃওয়াদুদ হোসেন ঃঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত টাঙ্গন নদীর চোপড়াবাড়ি-শালগড়া এলাকার কোন ব্রীজ না থাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার হচ্ছে। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলে আসলেও নদীটিতে ব্রীজ নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে,বর্ষা মৌসুম নদী প্রায়ই ভরা থাকে। নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার করলেও নদীতে অতিরিক্ত পানি থাকলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন যাত্রীরা। পীরগঞ্জ উপজেলার কোষারাণীগঞ্জ ও খনগাঁও দুটি ইউনিয়ন পাশাপাশি হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই টাঙ্গন নদী।

গত শুক্রবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় নদীতে ব্রিজ না থাকায় নদী পারাপারের মানুষসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত। নদীতে যখন পানি বাড়ে তখন একটি ছোট নৌকায় ২-৩টি মোটরসাইকেলসহ ১০-১২ জন মানুষ নিয়ে নদী পার হওয়া যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। নদীর দুই পাড়েও যাত্রী ওঠানামায় রয়েছে নানা সমস্যা। এ নদীর উপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকেন।

হরেশ রায়, অবিনাস, আশিনাত সহ দুই ইউনিয়নের ভুক্তভোগী এলাকাসীরা জানান, দৈনদিন জীবন জীবিকার তাগিদে কেউ কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়ন থেকে খনগাঁও ইউনিয়নে আবার কেউ খনগাঁও ইউনিয়ন থেকে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নে শ্রমিকের কাজ করতে এবং ছেলে মেয়েদের স্কুল-কলেজ. মাদরাসা যেতে পারাপার হয়ে থাকেন।

স্থানীয়রা বলেন, সারাবছর ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে পারাপার হন এলাকাবাসীরা। নদীর পূর্ব পাড়ের কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের অন্তরভুক্ত চপড়াবাড়ী গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জীবিকার তাগিদে প্রত্যেকদিন পাশ্ববর্তী খনগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কাজ করতে নৌকায় করে পারাপার ওই এলাকার মানুষদের। নদী পারাপারের জন্য প্রতিদিন জন প্রতি গুনতে হয় দশ থেকে বিশ টাকা ভাড়া।
লোকজন ও মালামাল পারাপারের জন্য এখানে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ এলাকাবাসীর প্রানের দাবি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

নৌকার মাঝি ফজলে রাব্বি বলেন, নদী পারাপারে জন্য ঘাটটি লীজ নিয়েছেন তিনি। এ ঘাট থেকে প্রতিদিন ভালই আয় হয়। তবে মানুষের খুব কষ্ট হয় এভাবে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে। এখানে ব্রিজ হোক এটা আমারও দাবি। তাহলে আর দুর্ভোগ থাকবে না।

বিষয়টি নিয়ে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নে ইতিমধ্যে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে সেটি রামদেবপুর-কোষাডাঙ্গীপাড়া এলাকায়। এটি বাস্তবায়ন হলে পরের ধাপে চোপড়াবাড়ী-শালগড়া এলাকায় ব্রিজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় কার্যকম গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান বলেন, এখানে ব্রীজ নির্মানের জন্য ইতোমধ্যে প্রধান প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি এবং ১৮ কোটি টাকার ষ্টিমেট করা হয়েছে. খুব সিগগীরই এটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।