প্রধান শিক্ষকঃ টাকা দিলে পাস,না দিলে ফেল করিয়ে দেন

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি!

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিদ্যাধর-ব্রাহ্মণ জাটিগ্রাম সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তহমিনা খানমের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ এনেছেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও এলাকাবাসী।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত করে ওই এলাকার প্রায় অর্ধশত ব্যক্তির মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোমিন উদ্দিন।

প্রধান শিক্ষকঃ টাকা দিলে পাস,না দিলে ফেল করিয়ে দেন !
প্রধান শিক্ষকঃ টাকা দিলে পাস,না দিলে ফেল করিয়ে দেন !

অভিযোগপত্রে এলাকার ৮৯ জনের সই রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালটিতে মোট চারজন শিক্ষক কর্মরত।

এরমধ্যে তহমিনা খানম বিদ্যালয়প্রধানের দায়িত্বে থাকলেও বেশিরভাগ সময় মিটিংয়ের কথা বলে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকেন।

বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের কথা বলে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন। মাস শেষে নিজ মনগড়া রেজুলেশন তৈরি করে পরিচালনা কমিটির সই জাল করেন।

‘শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ কম্পিউটার ও প্রজেক্টর প্রধান শিক্ষক বাড়িতে নিয়ে নিজ কাজে ব্যবহার করছেন।

পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ
থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে পাস করিয়ে দেন। যারা টাকা দিতে পারে না তাদের পরীক্ষায় ফেলের ভয় দেখানো হয়।

প্রধান শিক্ষকের ছত্রচ্ছায়ায় এক শিক্ষক অন্য শিক্ষকের চরিত্র নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। কখনো কখনো শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের জানালা-দরজা না আটকিয়ে শিক্ষকরা বাড়িতে চলে যান। কর্মদিবস পার হয়ে গেলেও রাত ৮টার সময় বিদ্যালয়ের পতাকা উড়তে দেখা যায়।

কেউ কিছু বলতে গেলেই প্রধান শিক্ষক পরের দিন ওই ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে সম্পূর্ণভাবে বারণ করেন।

বিদ্যালয়ের রেজুলেশন খাতায় যেসব খাতে তিনি বরাদ্দ নিয়েছেন সেসব খাতের অনেক উপকরণ বিদ্যালয়ে নেই।

সম্প্রতি এসব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে এলাকার ৮৯ জনের সই সম্বলিত একটি অভিযোগপত্র উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দিদারুল আলম।

গত ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত করে এলাকার প্রায় অর্ধশত ব্যক্তির মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোমিন উদ্দিন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তহমিনা খানম স্বাধীন নিউজকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোমিন উদ্দিন স্বাধীন নিউজকে বলেন, অভিযোগের তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্য-মিথ্যা জানানো যাবে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রীতিকণা বিশ্বাস স্বাধীন নিউজকে বলেন, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করা হয়েছে।

দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। তিনিই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

 

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -