প্রবর্তক সংঘের ২ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ইসকনের মামলা

0
13

জসিম তালুকদার বিশেষ প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম):

প্রবর্তক সংঘ ও ইসকনের দ্বন্দ্ব এবার নতুন মোড় নিয়েছে। প্রবর্তক সংঘের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানহানির মামলা করেছে ইসকন।

বুধবার (১৪ জুলাই) রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি দায়ের করেন ইসকনের সেবাদাস জুয়েল শীল।

মামলায় প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী ও সহ-সভাপতি রণজিৎ কুমার দে-সহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বিবাদী প্রবর্তক সংঘের নেতাদের বিরুদ্ধে ইসকনকে ‘জঙ্গি’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তোলা হয়।

জানতে চাইলে ইসকনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভাশিষ শর্মা গণমাধ্যমকে বলেন, গত ২৬ জুন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবর্তক সংঘের নেতারা ইসকনকে ‘জঙ্গি’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, প্রবর্তক সংঘের নেতাদের অপপ্রচারে মানহানির অভিযোগে আমার মক্কেল জুয়েল শীল পাঁচলাইশ থানায় ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী, সহ-সভাপতি রণজিৎ কুমার দে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয় বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে মামলার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রবর্তক সংঘের সদস্য অ্যাডভোকেট স্বভূপ্রসাদ বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, মামলায় যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। আমরা আইনগতভাবে এর মোকাবেলা করবো।

এর আগে বেআইনি ভাবে প্রবর্তক সংঘের ভূমি আত্মসাৎ, মন্দিরের দানের অর্থ লোপাটসহ বিভিন্ন ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’র কারণে ইসকনের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় প্রবর্তক সংঘ।

গত ২৬ জুন সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হল মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, উভয়পক্ষের মৌখিক আবেদনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত ঢাকায় গত ২ এপ্রিল সমঝোতার চেষ্টায় ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক আহ্বান করেন। কিন্তু বৈঠকে ইসকন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত হয়নি।

সেই সংবাদ সম্মেলনে যত অভিযোগ:

মে মাসে ইসকন নবনির্মিত প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের উদ্বোধন করেছে প্রবর্তক সংঘের অংশগ্রহণ ছাড়াই। সংঘের কোনো সদস্য বাধার কারণে মন্দিরে যেতে পারে না। প্রবর্তক সংঘ থেকে মন্দিরে ওঠার জন্য ভেতরের সিঁড়িটি ইসকন নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। ইসকনের সঙ্গে করা চুক্তি বহির্ভূত জায়গায় তারা অনুপ্রবেশ করেছে।

ইসকন নাম ব্যবহার করে প্রবর্তক সংঘের কোনোরকম অনুমতি ছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ, কর্ণফুলী গ্যাস ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা ও জাল দলিলের মাধ্যমে সংযোগ নেওয়া হয়েছে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সব প্রতিষ্ঠানে আবেদনসহ দুদকে গত ১৬ জুন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে গত ৮ জুন ইসকনের কয়েকজনকে আসামি করে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

প্রবর্তক সংঘের গাছ কেটে বিক্রি, ইচ্ছেমতো মন্দির প্রাঙ্গণের আকৃতি এবং প্রকৃতি পরিবর্তন, পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রবর্তক ভূমি দখলের অপচেষ্টায় বহিরাগতদের মন্দিরে জমায়েত করে অপ্রীতিকর ঘটনা সাজিয়ে দায়ভার চাপানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এই আশঙ্কায় প্রবর্তক সংঘের পক্ষ থেকে ইসকনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুন থানায় জিডি করা হয়েছে এবং প্রবর্তকের ভূমি রক্ষা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে।