ফিলিস্তিনের আর্তনাদ : প্রয়োজন একজন সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর

0
110

প্রবাস ডেস্ক

ছবি-সংগৃহীত

জিসান মাহমুদ, কুয়েত থেকে

ফিলিস্তিন! অসংখ্য নবী-রাসুলের পুণ্যভূমি। দেশটিতে রয়েছে মুসলমানদের পবিত্রভূমি ‘আল আকসা’। রাসুল (সাঃ) নবুয়ত প্রাপ্তির পর থেকে টানা ১৪ বছর আল আকসা মসজিদ ছিল মুসলমানদের প্রথম কেবলা। মক্কা মদিনার পরে যার স্থান। যেখানে ১ রাকাত নামাজ পড়লে ২৫০ মতান্তরে ৫০০ রাকাতের সওয়াব পাওয়া যায়।

রাসুল (সাঃ) ঐতিহাসিক মেরাজের রাতে মসজিদুল হারাম তথা কাবা শরিফ থেকে মসজিদুল আকসা তথা এ বায়তুল মুকাদ্দাসেই প্রথম সফর করেন। কুরআনুল কারিমে সূরা বনি-ইসরাঈলে এসেছে ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে (মুহাম্মাদ সা.) রাতের বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত ভ্রমণ করিয়েছিলেন। যার চারদিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।’

মেরাজের রাতে রাসুল (সাঃ) এই পবিত্র মসজিদে ইমামতি করে। তার পেছনে অসংখ্য ফেরেশতা ও নবী-রাসুলরা নামাজ পড়েছিলেন। যার কারণেই তিনি ‘ইমামুল আম্বিয়া’ সব নবীদের ইমাম ও ‘সায়্যিদুল মুরসালিন’ সব রাসুলদের নেতা হিসেবে স্বীকৃত হন। এই মসজিদ থেকেই বোরাকে করে ৭ আসমান পেরিয়ে মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে যান।

মসজিদুল আকসা বহুকাল ধরে ইসলামের প্রাণকেন্দ্র ছিল। হযরত ওমর (রাঃ) এর খেলাফাতের সময় ৬৩৮ সালে বায়তুল মুকাদ্দাস, জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিন পুরোপুরি মুসলমানদের দখলে আসে। কালের পরিক্রমায় ১০৯৯ সালের ৭ জুন খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা বায়তুল মুকাদ্দাস অবরোধ করেন।

১৫ জুলাই ১০৯৯ সালে খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা সমগ্র সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও জেরুজালেম দখল করে। এরপর তারা বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। সেদিন মুসলমানদের রক্তে প্লাবিত হয়েছিল পবিত্র আল আকসার ভেতর ও বাহির। প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তারা হত্যা করে। এরপর মসজিদকে একটি প্রাসাদ ও মসজিদের প্রাঙ্গণে অবস্থিত কুব্বাতুস সাখরাকে গির্জা হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।

আল-আকসা দখলের পর মুসলমানদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন চালাতে থাকে খ্রিস্টানরা। যেমনটা এখন ইহুদীরা ফিলিস্তিনের মুসলমানদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। এমন কঠিন মুহূর্তে মুসলমানদের প্রয়োজন ছিল একজন মুক্তিরদূতের। যিনি ইসলামের পবিত্রভূমিকে আবার মুসলমানদের কাছে ফিরিয়ে দেবেন।

সেই সময় বাগদাদ শহরে এক কাঠমিস্ত্রি থাকতেন। তিনি খুব সুন্দর করে একটি মিম্বার বানালেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সবাই মিম্বারটি দেখার জন্য ছুটে আসত। অনেকে কিনতে চাইতো, কিন্তু কাঠমিস্ত্রির ইচ্ছা ছিল এটা মসজিদুল আকসার জন্য রেখে দেবে। যেদিন মসজিদুল আকসা পুনরায় মুসলমানদের দখলে আসবে সেদিন তার বানানো এই মিম্বারটি মসজিদুল আকসায় দিয়ে দেবেন।

একদিন একটা ছোট ছেলে তার বাবার সাথে ওই মিম্বারটি দেখতে আসে। তখন ছেলেটি কাঠমিস্ত্রির কথা শুনলেন এবং মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন একদিন কাঠমিস্ত্রির স্বপ্ন পূরণ করবেন। তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। যার নেতৃত্বে ১১৮৭ সালে ২০ সেপ্টেম্বর জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিন মুসলমানদের দখলে আসে।

১১৮৭ সালের জুলাই মাসে মিশর ও সিরিয়ার প্রথম সুলতান এবং আইয়ুবীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান সালাহউদ্দিন জেরুজালেম রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেন। ১১৮৭ সালের ৪ জুলাই হাত্তিনের যুদ্ধে জেরুজালেমের রাজা গাই অব লুসিগনান ও তৃতীয় রেমন্ডের সম্মিলিত বাহিনীর সঙ্গে সালাহউদ্দিনের বাহিনী মুখোমুখি হয়। যুদ্ধে খ্রিস্টান ক্রুসেডার সেনাবাহিনী প্রায় সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। অবশেষে ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর বিজয়ীর বেশে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী মসজিদুল আকসায় প্রবেশ করেন।

মসজিদুল আকসা অভিযানের পেছনে সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল। তা হলো, ফিলিস্তিনের হজযাত্রীদের চলাচলের পথ নিরাপদ করা। মুসলমানরা বায়তুল মোকাদ্দাসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ১১৮৭ সালে খ্রিস্টান ক্রুসেডার কর্তৃক এক দল হজযাত্রীর ওপর হামলা ও লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটে।

আক্রান্ত মুসলিমরা সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর কাছে এই পথের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি লেখেন। অন্যদিকে বায়তুল মোকাদ্দাসের শাসক বেলিয়ান ডিইবিলিন বায়তুল মোকাদ্দাসে অবস্থানরত মুসলিমদের হত্যা করার হুমকি দেন। মুসলিম হজযাত্রীদের আবেদন এবং খ্রিস্টান শাসকের হুমকির কয়েক মাসের মধ্যে সালাহউদ্দিন আইয়ুবী এই অভিযান পরিচালনা করেন এবং হাতিনের যুদ্ধে বায়তুল মোকাদ্দাসের জয় নিশ্চিত করেন। তবে বায়তুল মোকাদ্দাস বিজয়ের পর তিনি রক্তপাত এড়িয়ে যান। মুসলিম ও অমুসলিমদের সব অধিবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর মৃত্যুর পর বায়তুল মোকাদ্দাস আবারও মুসলিমদের হাতছাড়া হয়। তবে ১১ বছর পর সুলতান নাজমুদ্দিন আইয়ুব ১২৪৪ সালে তা পুনরুদ্ধার করেন। ১২৪৪ সাল থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত বায়তুল মোকাদ্দাস মুসলিম শাসকদের অধীনেই ছিল। ১৯১৭ সালে থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ভূমি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের সেনাদের হাত থেকে জেরুজালেম দখল করে ব্রিটেন। তখন ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদীদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য সহায়তা করবে। ফিলিস্তিনের গাজা থেকে দুই মাইল উত্তরে কিবুটস নামক এলাকায় তখন ইহুদীরা কৃষিকাজ করতো। ফিলিস্তিনী আরবদের পাশেই ছিল ইহুদীদের বসবাস।

সে সময় মুসলমান এবং ইহুদীদের মধ্যে সম্পর্ক মোটামুটি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ১৯৩০’র দশকে ফিলিস্তিনীরা বুঝতে পারলো যে তারা ধীরে-ধীরে জমি হারাচ্ছে। ইহুদীরা দলে-দলে সেখানে আসে এবং জমি ক্রয় করতে থাকে। ইতোমধ্যে জাহাজে করে হাজার হাজার ইহুদী অভিবাসী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আসতে থাকে।

তখন ফিলিস্তিনি আরবরা বুঝতে পারে যে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। ফিলিস্তিনি আরবরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিদ্রোহ করে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল ব্রিটিশ সৈন্য এবং ইহুদী নাগরিকরা। কিন্তু আরবদের সে বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করেছে ব্রিটিশ সৈন্যরা।

১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে দু’টি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ। একটি ইহুদীদের জন্য এবং অন্যটি ফিলিস্তিনীদের জন্য। ইহুদীরা মোট ভূখণ্ডের ১০ শতাংশের মালিক হলেও তাদের দেয়া হয় মোট জমির অর্ধেক। ফিলিস্তিনীরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। তারা জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়।

কিন্তু ফিলিস্তিনীদের ভূখণ্ডে তখন ইহুদীরা বিজয় উল্লাস করতে থাকে। এরপর ইহুদীদের সশস্ত্র দলগুলো প্রকাশ্যে আসা শুরু করে। তাদের গোপন অস্ত্র কারখানাও ছিল। আর ইহুদীদের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল তাদের বিচক্ষণ নেতৃত্ব। এর বিপরীতে ফিলিস্তিনীদের কোন নেতৃত্ব ছিল না। ইহুদীরা বুঝতে পেরেছিল যে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পর আরবরা তাদের ছেড়ে কথা বলবে না।

সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই তৈরি ছিল ইহুদীরা। ইহুদীদের আক্রমণে বহু ফিলিস্তিনি আরবরা তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। ইহুদী সশস্ত্র বাহিনীর নৃশংসতা আরবদের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র দলগুলো ইহুদিদের উপর কয়েকটি আক্রমণ চালালেও ইহুদীদের জোরালো হামলার মুখে ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে ফিলিস্তিনিরা।

১৯৪৮ সালের ১৪ মে ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যায় ব্রিটেন। একই দিন তৎকালীন ইহুদী নেতারা ঘোষণা করেন যে সেদিন রাতেই ইহুদী রাষ্ট্রের জন্ম হবে। আর এভাবেই ১৯৪৮ সালে বিশ্ব মোড়লদের চক্রান্তে মধ্যপ্রাচ্যের বিশফোড়া অভিশপ্ত ইসরাইল নামক ইহুদী রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তখন থেকেই ফিলিস্তিনের মুসলমানদের উপর চলতে থাকে নির্যাতন-নিপীড়ন।

অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে ‘মসজিদে আকসা’ জোরপূর্বক দখল করে নেয়। সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর বিজয় করা মসজিদুল আকসা হাতছাড়া হয়। এরপর থেকে সেখানকার মুসলিম জনগণ মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জায়ানবাদী ইসরায়েল একের পর এক মুসলিম–অধ্যুষিত এলাকা জোরপূর্বক দখল করে ইয়াহুদী বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখে।

বর্তমানে মসজিদুল আকসা ও জেরুজালেম নগরী দখলদার ইসরায়েলিদের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে মুসলিমরা নির্যাতিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ইহুদীরা ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখল করে নিচ্ছে। এমনকি মসজিদুল আকসায় শুধুমাত্র ইসরাইলের মুসলিম বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। তাও অনেক বিধিনিষেধের মাধ্যমে। রমজান আসলেই যেন ফিলিস্তিনের মুসলমানদের উপর সন্ত্রাসী ইহুদীরা বর্বরোচিত হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

জায়নবাদী সন্ত্রাসীরা মুসলমানদের পবিত্রভূমিতে আগুন দেবে। কিন্তু ফিলিস্তিনরা তার প্রতিবাদ করলে নাম দেবে ‘সন্ত্রাস’। শুধুমাত্র এই কয়েকদিনে গাজায় নিহত হয়েছে ৫২ জন শিশুসহ ১৮১ জন ফিলিস্তিনি। নারী-শিশুসহ নিরীহ মানুষ হত্যার জবাবে গাজা থেকে রকেট ছোড়া হলে শহরটার ওপর লাগাতার বোমাবর্ষণ করে নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার বলে চালিয়ে দিচ্ছে ইসরাইল।

ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে দিনকে দিন। তাদের মূল লক্ষ্য জেরুজালেম থেকে সব ফিলিস্তিনিকে তাড়িয়ে দেয়া। ফিলিস্তিনের বৈধ রাজধানীকে নিজেদের রাজধানী বলে ঘোষণা করা। হয়তো নিজ চোখে না দেখলে কেউ কখনো বিশ্বাস করবে না কী পরিমাণ দমন-পীড়নের মাঝে ফিলিস্তিনিদের রাখা হয় নিজ ভূমিতে!

ইসরাইল সেই ১৯৪৮ সাল থেকেই ফিলিস্তিনিদের ওপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। বিরামহীনভাবে চলছে সেই হামলা নির্যাতন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ফিলিস্তিনীকে ঘর থেকে বের করে তার ঘরবাড়ি উড়িয়ে দিচ্ছে। কারো ভিটে মাটি কারো বা ফসলের জমি কেড়ে নিচ্ছে। আর যে কজনও নিজেদের ভিটে-মাটিতে বাস করছেন তাদের বসতবাড়ির চারদিকে বিশাল উঁচু দেয়াল তৈরি করে সেগুলোকে এক রকম বন্দিশালায় পরিণত করে রেখেছে।

আরব দেশগুলোর মাঝে অনৈক্যের কারণে ইহুদীদের হাতে বারবার মুসলমারা নির্যাতিত হচ্ছে। আরব বন্ধুত্ব ও মেহমানদারির কথা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে তাদের অনেকের বিশ্বাসঘাতক চরিত্র। একের পর এক আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়ে ফিলিস্তিনের সঙ্গে বেইমানি করছে। হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে ফিলিস্তিনিদের আর বাড়াচ্ছে অনৈক্য।

মুসলিম বিশ্বের সর্ব বৃহৎ সংস্থা ওআইসি। এটি তো একটি নাম সর্বস্ব সংগঠন। যেটাকে এখন বলা যেতে পারে ‘ওহ আই সি’ মানে আমি দেখছি। তাদের দেখতে দেখতে সময় চলে যায়। যে ওআইসির জন্মই হয়েছিল মসজিদে আকসা এবং ফিলিস্তিনের জন্য সেই প্রতিষ্ঠানটি গত ৫২ বছরে ফিলিস্তিনের জন্য কিছুই করতে পারলো না। অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের আটটি দেশ নিয়ে ডি-এইট নামক সংস্থাটিরও একই অবস্থা। শুধুমাত্র কিছু মিটিং আর বিবৃতিতে দায় শেষ।

মুসলমানদের পুণ্যভূমি আল আকসা সহ ফিলিস্তিনি মুসলমানদের বিজয় চিনিয়ে আনতে বর্তমানে একজন সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর খুবই প্রয়োজন। যার সুদৃঢ় নেতৃত্বে ইসরায়েলি সন্ত্রাসী বাহিনী থেকে ফিলিস্তিন রক্ষা পাবে। এজন্য প্রয়োজন মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

কারণ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা মানে বড় বড় পারমাণবিক অস্ত্রধারী আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। ফিলিস্তিন ইস্যুতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন জানিয়ে সরাসরি বিবৃতি দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, গাজা থেকে হামাস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী পক্ষের রকেট হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। আর এই অধিকারের প্রতি তার (বাইডেন) একনিষ্ঠ সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তাই শুধুমাত্র তুরস্ক আর ইরান চাইলেই ইসরাইলকে উৎখাত করা সম্ভব না। এজন্য একজন সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর নেতৃত্বে ইসরাইলের প্রতিবেশী দেশ জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, মিসরসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো এগিয়ে আসতে হবে।