advertisement

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করল জুবফ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) বিসিএস কর্মকর্তা ফোরাম (জুবফ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে।

এ উপলক্ষে জুবফ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে নাটক মঞ্চায়ন ও আলোচনাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি একেএম এনামুল হক শামীম।

জাবির প্রাক্তন ছাত্র সাবেক সচিব মনোয়ার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাবির প্রাক্তন ছাত্র জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের লিখিত বার্তা পাঠ করা হয়।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকালে শহরে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে আমি আমার বাসা থেকে বেড়িয়ে আসি। আমাদের বাসার পাশে রক্ষীবাহিনীর সদরদফতরে গিয়ে দেখি সেখানে দুটি ট্যাঙ্ক অবস্থান নিচ্ছে। রক্ষীবাহিনী জানতো না যে ট্যাংকগুলোতে কোনো গোলা ছিল না। জানি না তারা এটা জানলে কী হতো। কেন সেদিন সবাই বিহ্বল হয়ে পড়েছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্র অনেক গভীরে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি স্পষ্ট করতে ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের কথা স্মরণ করব, জিয়াউর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার পর সম্মেলন কক্ষ থেকে বেড়িয়ে আসেন, তখন আমি বকুলতলায় বাদাম খাচ্ছিলাম। তিনি (জিয়াউর রহমান) যখন বকুল তলায় আসেন, তখন সেখানে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন, তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আপনি (জিয়া) সিএনসি পদের যোগ্য। আমরা ভাবছিলাম আপনি পাবেন।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জিয়াউর রহমান সব শুনছিলেন এবং গাড়ির দরোজা বন্ধ করার সময় জবাবে বলেন, ‘অপেক্ষা করুন এবং দেখুন।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর রাজাকাররা দেশের রাজনীতিতে ফিরে আসে এবং তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়ে।

তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করার আশা নিয়ে দেশে ফেরেন। অবশেষে এ বিচারকাজ শেষ হয়। আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসি দিয়েছি। আর যারা এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি দেয়ার চেষ্টা করছি।

একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন।

বর্তমান সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন ১ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে শিক্ষা বান্ধব প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে শামীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বরং দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের উত্তরসূরিদের কল্যাণে আমাদের কাজ করা উচিত। তিনি এ প্রেক্ষিতে জুবফ বৃত্তি চালুর প্রস্তাব করেন।

অনুষ্ঠানে জুবফ সভাপতি ও বাংলাদেশ পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. কে এইচ মাহিদ উদ্দিন স্বপন এবং কোষাধ্যক্ষ রশিদ উদ্দিন ভুঁইয়া বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে জুবফ সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডেপুটি কমিশনার আবদুল আহাদ স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া, অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সেক্রেটারি-১ এমএম ইমরুল কায়েস উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার অনুষ্ঠানের আগে ইমরুল কায়েসের তত্ত্বাবধানে ‘বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে প্রকাশিত স্যুভেনিয়র এবং ‘৫০ বছরের গর্ব ও ঐতিহ্য’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকাশনা মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এর আগে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ পুলিশ নাট্যদল ‘কার্সড আগস্ট’ শিরোনামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করে। নাটকটির নাট্যকার ও পরিচালক নায়াণগঞ্জ জেলার পুলিশ পরিদর্শক এমডি জাহিদুর রহমান এবং এটির পরিকল্পনায় ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -spot_img

সর্বাধিক পঠিত