বাংলাদেশীদের জন্য আবারো খুলল মালয়েশিয়ার শ্রম দুয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবারো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে দ্রুতই একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এমওইউ সই হলে দ্রুতই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া শুরু হবে।

সারাভানান জানান, অতীতে বৃক্ষরোপণ খাতেই বিদেশী শ্রমিক নিয়োগে মন্ত্রিসভা সম্মতি দিলেও এবার সব খাতেই বিদেশী শ্রমিক নিয়োগে সম্মতি এসেছে। বিজ্ঞপ্তিতে গৃহকর্মী, বাগান, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি ও খনন এবং নির্মাণ খাতের কথা উল্লেখ রয়েছে।

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিদেশী শ্রমিকদের নেয়ার ক্ষেত্রে বিধিবিধান তথা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) কী হবে তা নিয়ে কাজ করবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে শ্রমিকদের কোয়ারেন্টিনে থাকা ও এ ব্যাপারে ছাড় না দেয়ার মতো বিষয় যুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত মাল্টি টিয়ার লেভি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তও হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন এম সারাভানান।

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে প্রায় দুই বছর বিদেশী কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ রাখে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশীদের জন্য এ বাজার বন্ধ ছিল তিন বছরের বেশি সময় ধরে। এখন যেহেতু নতুন করে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এমওইউ স্বাক্ষর হচ্ছে, ফলে আগামী বছর থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোয় আর কোনো বাধা থাকবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোসংক্রান্ত এমওইউ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াটি প্রায় চূড়ান্ত বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। সূত্রটি আরো জানায়, দেশটিতে শ্রম ভিসায় যেতে ইচ্ছুক এমন কর্মীদের ডাটাবেজ রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে। সেই ডাটাবেজের ভিত্তিতে কর্মী পাঠানো যায় কিনা, সেটিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একাধিক বৈঠকও হয় দুই দেশের মধ্যে।

অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পর বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। জানা গেছে, যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে, তাতে ওই সমস্যাগুলোর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য এমওইউতে সুস্পষ্টভাবে সব থাকবে। যাতে পরবর্তী সময়ে আইনি প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি না হয়।

চলতি বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খোলার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। বৈঠকের আলোচনায় মোট চারটি এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যার একটি ছিল রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা নির্ধারণ। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। তবে কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং কর্মী পাঠাতে পাঁচ বছরের জন্য এমওইউ স্বাক্ষর করা হয়েছিল বৈঠকে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ৯৯ হাজার ৭৮৭ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যান। ২০১৮ সালে যান প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার। অভিযোগ ওঠে, কর্মী রফতানির নামে দুদেশের মধ্যে ১০ রিক্রুটিং এজেন্সি গঠিত একটি চক্র গড়ে ওঠে, যারা হাতিয়ে নেয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। ফলে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশী কর্মী নেয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। এরপর ২০১৯ সালে মালয়েশিয়ায় যান মাত্র ৫৪৫ কর্মী। পুনরায় কর্মী রফতানি শুরু করতে বিগত বছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়। কিন্তু প্রতিটি বৈঠক শেষ হয় বিনা সিদ্ধান্তে।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -