বাংলাদেশ এখন আর বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর দেশ নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিডিপি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, বাংলাদেশ এখন আর বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর দেশ নয়। যে পরিমাণ বিদেশী ঋণ আমরা পাচ্ছি, তা জিডিপির ২ শতাংশ। অথচ পাকিস্তান এখনো বিদেশী সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ১৯৭২ সালে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিছিয়ে ছিলাম। দ্রুত বিদ্যুৎ খাতের প্রসার ঘটায় গত ১০ বছরে পাকিস্তানের চেয়ে দ্বিগুণ উৎপাদন বেড়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলনে গতকাল প্রথম দিন তিনি এ কথা বলেন। ‘৫০ ইয়ার্স অব বাংলাদেশ: রিট্রোসপেক্ট অ্যান্ড প্রসপেক্ট’ শীর্ষক সম্মেলনে গতকাল দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। আজ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন এবং টুওয়ার্ড এ জাস্ট সোসাইটি শীর্ষক দুটি সেশন।

গতকালের উদ্বোধনী সেশনে অধ্যাপক রেহমান সোবহান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সম্মানিত আলোচক ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক রওনক জাহান, সিডিপির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়া প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ইফতেখার দাদি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, স্বাধীনতার সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য, মাথাপিছু আয়সহ অনেক সূচকে আমরা পাকিস্তানের তুলনায় পিছিয়ে ছিলাম। পরবর্তী ৫০ বছরে সেই অবস্থান থেকে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে গত ২৫ বছরে। তবে লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে গত দশকে।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় পাকিস্তানের চেয়ে ৬১ শতাংশ কম ছিল। জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে মাথাপিছু আয় বাড়তে থাকে এবং ২০২০ সালে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ৬২ শতাংশ বেশি হয়েছে মাথাপিছু আয়। শুধু তা-ই নয়, এ সময়ে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও রফতানির ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে টপকে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পাকিস্তানের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

প্রখ্যাত এ অর্থনীতিবিদ বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। বর্তমানে এক্ষেত্রে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা উন্নতির ফলে আমাদের গড় আয়ু ও পাকিস্তানের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে।

গতকাল দ্বিতীয় সেশনে আলোচনার বিষয় ছিল স্টেট, সোসাইটি, পলিটিকস। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইজিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো ড. মির্জা এম হাসান। বক্তব্য রাখেন জিএআরএফের মহাপরিচালক ড. আহরার আহমেদ, আমেরিকান ইউনিভার্সিটির রিসার্চ অধ্যাপক নওমি হোসেন, ইলিনয়েস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রিয়াজ, জায়েদ ইউনিভার্সিটি অধ্যাপক হাবিবুল হক খন্দকার, ইউনিভার্সিটি অব অসলোর অধ্যাপক আরিল্ড এনগেলসেন রুড, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. ফিলিপ কে ওল্ডেনবার্গ।

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -