বাল্যবিবাহ রোধে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

0
22

এম.এস আরমান,নোয়াখালী।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যোগে বাল্যবিবাহ রোধ ও মাদক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে প্রশিক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (৭ জুন) সকাল ১১ টায় উপজেলা মিলনায়তনে বাল্যবিবাহ রোধ ও মাদক প্রতিরোধে জনসচেতনতা প্রশিক্ষণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর বলেন,দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাল্যবিবাহ অত্যন্ত ভয়াবহ একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুসারে বাল্যবিবাহ বলতে বাল্যকাল বা নাবালক বয়সে ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিবাহকে বোঝায়। এ ছাড়া বর-কনে উভয়ের বা একজনের বয়স বিয়ের দ্বারা নির্ধারিত বয়সের চেয়ে কম বয়সে হলে তা আইনে বাল্যবিবাহ বলে চিহ্নিত। জনসংখ্যাতত্ত্বের দিক দিয়ে অপেক্ষাকৃত প্রাপ্তবয়সে বিবাহ সুবিধাজনক। ভবিষ্যতে সন্তানের মা যিনি হবেন, তাঁকে অবশ্যই পরিপক্ব হতে হবে। কম বয়সী ছেলেমেয়ের মধ্যে বাল্যবিবাহের কাজ সম্পন্ন হলে পবিত্র কোরআনে যে শান্তি ও সুষমার কথা বলা হয়েছে, তা বিপর্যস্ত হতে পারে।

তিনি আরো বলেন,শারীরিক গঠন পূর্ণাঙ্গ হওয়ার আগেই বিয়ে অতঃপর সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে বাল্যবধূরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। অপুষ্টির মধ্যে শারীরিক নানা উপসর্গ দেখা দেওয়া সত্ত্বেও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে গর্ভবতী হয় সে। তা ছাড়া গর্ভধারণের বয়সে উন্নীত হওয়ার আগেই অল্প বয়সী বালিকাদের বিয়ে দিলে পরবর্তী সময়ে যে গর্ভসঞ্চার হয়, তা নবজাতক ও মা উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সু-প্রভাত চাকমা বলেন,অশিক্ষিত পরিবারে কন্যাসন্তানকে বোঝা মনে করা হয়। এটা দূর করতে সহজ উপায় হিসেবে মেয়েকে অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়া হয়। বাল্য বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে মেয়েরা পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় বিবাহিত কিশোরীরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক সমস্যার কবলেও পড়ে। কিশোরী বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এসব নারী মানসিক, শারীরিক ও যৌনজীবনে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এসব নারী পরবর্তী সময়ে জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন না। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশ ও জাতি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বাল্যবিবাহের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সমাজের সর্বস্তরে প্রতিফলিত। মানবসমাজে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে যেসব ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে, বাল্যবিবাহ তার মধ্যে অন্যতম। একটি মেয়ে তার স্কুলজীবন পেরোনোর আগেই বউ হচ্ছে, মা হচ্ছে। জীবন সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়ার আগেই সে সংসার-জীবনে প্রবেশ করেছে। অথচ সমাজের অন্য মেয়েদের মতো শিক্ষিত, স্বাবলম্বী কিংবা সুন্দর জীবনযাপনের ন্যূনতম ধারণার অধিকারী সে হতে পারত। বাল্যবিবাহের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হলো, অপরিণত গর্ভধারণ ও অকালমাতৃত্ব। প্রতিবছর গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবকালীন সমস্যার কারণে কমপক্ষে ৬০ হাজার বাল্যবধূ মারাও যায়। বাল্যবিবাহের পরিণতিতে শুধু শিশু, অল্প বয়সী নারী বা তার পরিবারই আক্রান্ত হয় না, এতে দেশ হয় অপুষ্টি ও দুর্বল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উত্তরাধিকারী।

তিনি আরো বলেন,সামাজিক সচেতনতা আর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কেবল বাল্যবিবাহ রোধ করে একটি কন্যাশিশুকে অধিকারসচেতন নারী কিংবা দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী নিজেই সচেতন হয়ে উঠেছেন। নারী নিজেই যখন বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠবেন, তখন এ ঘৃণ্য অভিশাপ থেকে নিশ্চিতভাবে কন্যাশিশুরা মুক্তি লাভ করবে। যখন দেশ, জাতি, রাষ্ট্র ও সমাজ এ বিষয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, তখন বাল্যবিবাহের আড়ষ্টতা থেকে নারীরা বেরিয়ে আসবেন—এ প্রত্যাশায় বাল্যবিবাহ রোধে গণমাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

উক্ত প্রশিক্ষণ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মাহফুজুল হকসহ উপজেলা বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।