1. mdsujan458@gmail.com : Habibur Rahman : Habibur Rahman
  2. hridoy@pipilikabd.com : হৃদয় কৃষ্ণ দাস : Hridoy Krisna Das
  3. taspiya12minhaz@gmail.com : Abu Ahmed : Abu Ahmed
  4. md.khairuzzamantaifur@gmail.com : তাইফুর রহমান : Taifur Bhuiyan
  5. admin@swadhinnews.com : নিউজ রুম :
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

বিশ্বনবীর মু’জিযা : নবুওয়াতের জীবন্ত প্রমাণ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ এপ্রিল, ২০২১
  • ১০৯ বার পঠিত

আব্দুল কাদের শাহ নেওয়াজ

কিছুক্ষণ পর রাসূল (সা.) সাহাবীদের নিয়ে গৃহে গমন করলেন। অতঃপর আটার খামির ও গোশতের পাত্রে তাঁর মুখের লালা মিশিয়ে বরকতের দোয়া করলেন।তারপর বললেন, এখন রুটি তৈরি করে সবাইকে দাও এবং গোশতের পাত্র থেকে পেয়ালা ভরে সবার মাঝে গোশত বন্টন করো। অতঃপর তা-ই করা হলো। জাবের (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, তাঁরা সকলেই তৃপ্তি সহকারে আহার করে বাকী খাদ্য রেখে চলে গেলেন। তাঁরা সংখ্যায় ছিল ১০০০ (এক হাজার)। অথচ আমাদের গোশতের পাত্রে তখনও পূর্বপরিমাণ গোশত টগবগ করছিল। আল্লাহু আকবার। (বুখারী: ২/৫৮৯; ৪১০২)
হাতের স্পর্শ ও থুথুর বরকতে পূর্ণ আরোগ্য লাভ : সহীহ বুখারীর বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাসূল (সা.) আব্দুল্লাহ ইবনু আতীককে আমির নিযুক্ত করে তাঁর নেতৃত্বে আনসারদের কয়েকজন সাহাবীকে হিজায ভূমির দূর্গে বসবাসরত ইয়াহুদী নেতা আবু রাফিকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আতীক রাতের আঁধারে আবু রাফিকে হত্যা করে দূর্গ থেকে নামার সময় সিড়ি থেকে পড়ে যান। এতে তার পা ভেঙ্গে যায়। অতঃপর তিনি ফিরে এসে রাসূল (সা.) কে তাঁর পা ভাঙ্গার কথা জানালেন, তখন রাসূল (সা.) তাঁর পায়ে স্বীয় হাত বুলিয়ে দেন। হাতের স্পর্শ পাওয়ার সাথে সাথেই তাঁর পা পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। আব্দুল্লাহ ইবনু আতীক বলেন, আমার পা এমন সুস্থ হয়েছে যেন আমি কোনো আঘাতই পাইনি। (বুখারী:৪০৩৯)
খায়বারের যুদ্ধের সময় আলী (রা.) এর চোখ উঠেছে বা চোখে ভীষণ রোগ দেখা দিয়েছিল। সমস্যার কথা যখন রাসূল (সা.) কে অবগত করা হলো তখন তিনি তাঁর (আলীর) চোখে স্বীয় থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। তাতে তিনি এমন আরোগ্য লাভ করলেন যেন তাঁর চোখে কোনো অসুবিধাই ছিল না। (বুখারী:৩০০৯)
এক পেয়ালা দুধ ৭০ জনের তৃপ্তিসহকারে আহার : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি ক্ষুধার কষ্টে অনেক সময় পেট মাটিতে চেপে ধরে থাকতাম, আবার কখনো পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম। কোনো একদিন ক্ষুধার কষ্টে আমি পথে বসে রইলাম। তখন রাসূল (সা.) আমাকে রাস্তা থেকে তাঁর গৃহে নিয়ে গেলেন এবং এক পেয়ালা দুধ আমার হাতে দিয়ে আহলে সুফফার সবাইকে (যারা সংখ্যায় ছিল ৭০ জন) পান করানোর নির্দেশ দিলেন। রাসূলের আদেশ শুনে আমি নিরাশ হয়ে গেলাম, মনে মনে ভাবলাম এই এক পেয়ালা দুধ আহলে সুফফার কি হবে? অথচ আমি আশা করছিলাম যে, এটুকু পান করতে পারলে আমার জন্য যথেষ্ট হবে। কিন্তু রাসূলের আদেশ পালন করা ব্যতীত কোনো পথও নেই। তাই আমি এক এক করে সকলের নিকট দুধের পেয়ালাটি পরিবেশন করলাম। আহলে সুফফার সবাই (৭০ জন) তা থেকে তৃপ্তিসহকারে দুধ পান করে আবার আমার নিকট পেয়ালাটি ফেরত দিল। তখন রাসূল (সা.) পেয়ালাটি হাতে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, এখন তুমি পান করো। আমি পান করলাম। তিনি আবার বললেন, পান করো। আমি পান করলাম। অবশেষে আমি বলতে বাধ্য হলাম যে, হে আল্লাহর রাসূল! দ আমার পেটে আর জায়গা নেই। তখন রাসূল (সা.) বিসমিল্লাহ বলে অবশিষ্ট দুধ পান করলেন। (তিরমিযী:২৪৭৭)
সমগ্র পৃথিবী ও জান্নাত-জান্নাম অবলোকন : সহীহ মুসলিমের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা আমার জন্য গোটা পৃথিবীকে সংকুচিত করেছেন। অতঃপর আমি এর পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছি। পৃথিবীর যে অংশটুকু আমি অবলোকন করেছি অচিরেই সে পর্যন্ত আমার উম্মতের কর্তৃত্ব পৌঁছবে। (মুসলিম: ২/৩৯০; ৭১৫০)
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা থেকে প্রতিভাত যে, রাসূল (সা.) নামাযরত অবস্থায় জান্নাত-জাহান্নাম অবলোকন করেছেন। জাবের ও আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগল তখন রাসূল (সা.) সাহাবীগণকে নিয়ে নামায আদায় করলেন। নামায শেষে তিনি সাহাবীগণকে সম্বোধন করে বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু ঘটতে দেখবে তখন নামায আদায় করবে।আর তোমাদের কাছে (জান্নাত-জাহান্নামের) যেসব বিষয় সম্পর্কে ওয়াদা করা হয়েছে তার প্রতিটি আমি আমার সালাতের মধ্যে দেখতে পেয়েছি। সালাতরত অবস্থায় আমার সামনে জান্নাত পেশ করা হয়েছিল আমি সেখান থেকে একটি আঙ্গুর ধরতে চেয়েছিলাম এবং আমার সম্মুখে জাহান্নামও পেশ করা হয়েছিল তখন আমি পিছনে সরে এসেছি এর লেলিহান শিখা আমাকে স্পর্শ করার ভয়ে। অবশেষে আমি জাহান্নামে বনী ইসরাঈলের একটি মহিলাকে দেখতে পেলাম যে, তাকে একটা বিড়ালের কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও অন্য এক মহিলাকেও দেখলাম, সে তার নাড়িভুঁড়ি টানাটানি করছে—– (বুখারী: ১/১৬২; ১২১২, মুসলিম: ১৯৮৫, ১৯৮৭)
মৃত খেজুর বৃক্ষের কান্না : মসজিদে নববীতে মিম্বর তৈরী করার পূর্বে রাসূল (সা.) মৃত খেজুর বৃক্ষের একটি কান্ডের উপর দাঁড়িয়ে শুক্রবারে খুতবাহ দিতেন। একদা একজন আনসারী সাহাবী বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য একটি মিম্বার বানিয়ে দিবো? রাসূল (সা.) বললেন, তোমাদের ইচ্ছে হলে দিতে পারো। অতঃপর তারা একটি কাঠের মিম্বার বানিয়ে দিল। পরবর্তী শুক্রবার এলে রাসূল (সা.) কাঠের তৈরী ঐ মিম্বরে খুতবাহ দেয়া শুরু করলেন। তখন খেজুর বৃক্ষের ঐ কান্ডটি রাসূলের জন্য শিশুর মতো চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। তখন রাসূল (সা.)মিম্বর হতে নেমে ওটাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তার উপর হাত বুলিয়ে দিলেন। অতঃপর কান্ডটি কান্না বন্ধ করল এবং শান্ত হলো। (বুখারী: ৩৫৮৫)

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SwadhinNews.com
Design & Developed By : PIPILIKA BD