advertisement

বিশ্বের সবচেয়ে বড় হোটেল সৌদির আবরাজ কুদাই

তৃষা বড়ুয়া

হজে আসা মুসল্লিদের জন্য বিশাল এলাকাজুড়ে হোটেল নির্মাণ করছে সৌদি আরব। হোটেল না বলে এটিকে ছোটখাটো শহর বলাই ভালো, কারণ এর ১০ হাজার কক্ষে ৩০ হাজার অতিথি থাকতে পারবেন। হোটেলটির নাম রাখা হয়েছে আবরাজ কুদাই। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

আবরাজ কুদাই

কাবা শরিফের প্রসঙ্গ উঠলে চোখের সামনে ভাসে মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) জন্মভূমি ও মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কার ছবি।

প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এখানে হজ ও ওমরাহ পালনে জড়ো হন। হজের সময় মক্কায় ভিড় করা বিপুল সংখ্যক মুসল্লিকে জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হয় সৌদি আরবকে। স্থানাভাব কখনো কখনো প্রকট আকার ধারণ করে। এ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে মক্কার বিস্তীর্ণ মরু অঞ্চলজুড়ে তাই সুবিশাল এক হোটেল নির্মাণে হাত দিয়েছে সৌদি সরকার। বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান দার আল-হানদাসাহর নকশায় ১৪ লাখ বর্গমিটার এলাকায় নির্মাণাধীন আবরাজ কুদাই নামের ওই হোটেলটি মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড হোটেলের চেয়েও বড়। এটি তৈরিতে সৌদি সরকারের খরচ পড়ছে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। মক্কার কেন্দ্রস্থল মানাফিয়া এলাকায় নির্মিত হচ্ছে এটি। ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩০ বর্গফুট আয়তনের হোটেল কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক শপিং মল, হেলিপ্যাড, রেস্তোরাঁ, ফুড কোর্ট, বাস স্টেশন, বলরুম ও কনভেনশন সেন্টার থাকবে।
নির্মাণযজ্ঞ

বিশ্বের বৃহত্তম হোটেল হতে যাওয়া আবরাজ কুদাই প্রকল্প সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে।

পুরো হোটেলের নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও তহবিল ব্যবস্থার দায়িত্ব এই মন্ত্রণালয় পালন করছে। পবিত্র কাবা শরিফ থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই হোটেল ২০১৭ সালে অতিথিদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ২০১৫ সালে এর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফের কাজ শুরু হলে ধারণা করা হয়েছিল, ২০১৯ বা ২০২০ সালের দিকে মক্কায় গিয়ে আবরাজ কুদাইয়ে থাকার সৌভাগ্য হবে বিশ্ববাসীর। তবে গত বছর করোনাভাইরাস মহামারীর আঘাতে আবার থেমে যায় প্রকল্পের কাজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সৌদি আরবও করোনার ছোবলে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পরপর দুই বছর হজ ও ওমরাহ সীমিত আকারে আয়োজন করতে বাধ্য হয় সৌদি সরকার। এর প্রভাব পড়ে সৌদি অর্থনীতিতে। এ কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আবরাজ কুদাইয়ের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজ চলছে।
নকশা

আবরাজ কুদাই হোটেলে থাকছে ১০ হাজার কক্ষ। এসব কক্ষে একসঙ্গে ৩০ হাজার অতিথি থাকতে পারবেন, যা একটি ছোটখাটো শহরের জনগোষ্ঠীর সমান। সেই হিসেবে এটিকে হোটেল না বলে শহর বললে খুব বেশি অত্যুক্তি হবে না। মক্কায় নির্মিতব্য অত্যাধুনিক ভবনগুলোর মধ্যে একটি হতে যাচ্ছে আবরাজ কুদাই। হোটেলের নকশা মনকাড়া করতে কসুর করেনি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দার আল-হানদাসাহ। হোটেলটির নকশা তারা করেছে অনেকটা বিয়ের কেকের মতো, ভবনের নিচের অংশ চওড়া এবং ওপরের দিকটা সরু। আয়তাকার স্তম্ভের রং গোলাপি আর জানলার কাচের রং রাখা হয়েছে নীল। হোটেল ভবনটি দেখলে অনেকটা ওসমানীয় সাম্রাজ্যের স্বাদ পাওয়া যায়। আবরাজ কুদাই প্রকল্প এলাকায় আবাসিক ঘরবাড়িও থাকছে।

আবরাজ কুদাই ভবনের ১২টি সুউচ্চ টাওয়ারে কক্ষগুলো থাকবে। টাওয়ারগুলো কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে যাতে অতিথিরা কক্ষে বসে সহজেই বাইরের নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। ১০টি টাওয়ারে ৩০টি ফ্লোর আর বাকি দুটিতে থাকবে ৪৫টি ফ্লোর। ১২টি টাওয়ারে থাকবে ৭০টির মতো রেস্তোরাঁ, হেলিপ্যাড ও রাজ পরিবারের জন্য নির্ধারিত ফ্লোর। ১২টির মধ্যে দুটি টাওয়ারে পাঁচ তারকা হোটেলের সুযোগ-সুবিধা থাকবে বলে জানিয়েছে দার আল-হানদাসাহ। বাকি ১০টি টাওয়ারে চার তারকা হোটেলের বন্দোবস্ত পাবেন অতিথিরা। হোটেলের অভ্যন্তরীণ নকশা মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হচ্ছে। কাজাখস্তানের বিভিন্ন শহরে সুদৃশ্য ভবনের পাশাপাশি দুবাইয়ে কয়েকটি বিমানবন্দরের নকশা করে বিশ্বব্যাপী নাম কুড়িয়েছে দার আল-হানদাসাহ। প্রতিষ্ঠানটির স্থপতিরা তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন, ‘বিশাল অঞ্চলজুড়ে যে আবরাজ কুদাই নির্মাণ করা হচ্ছে শুধু তাই নয়, টাওয়ারগুলোর উচ্চতার জন্যও এটি মানুষের দৃষ্টি কাড়তে বাধ্য। সৌদি আরবের নিজস্বতার পাশাপাশি ইসলামি সর্বজনীনতার বিষয়টি বিবেচনা করে হোটেলটির আধুনিক সুনিপুণ নকশা করা হয়েছে। ’ হোটেলের বাইরের নকশা দার আল-হানদাসাহ করলেও ভেতরের নকশা করেছে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরিন হসপিটালিটি কোম্পানি। এই হোটেলের সর্বোচ্চ টাওয়ার গম্বুজাকৃতির হবে। এই গম্বুজের চারদিকে চারটি হেলিপ্যাড ফুলের চার পাপড়ির মতো সাজানো থাকবে। এসব টাওয়ারে হজের জন্য আসা মুসল্লিসহ ভ্রমণকারীরা নিরুপদ্রব, নিশ্চিন্ত সময় কাটাতে পারবেন। তাদের নামাজের জন্য হোটেলে থাকবে সুনির্দিষ্ট হল। পর্যটকরা যাতে আবরাজ কুদাই হোটেলে ব্যাপক মুগ্ধতা ও আরাম-আয়েশের মধ্যে সময় কাটাতে পারেন, এজন্য সেখানে রাখা হবে ৭০টির বেশি রেস্তোরাঁ। হোটেল কর্র্তৃপক্ষ আশা করছে, আবরাজ কুদাইয়ের জাঁকজমকপূর্ণ ব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সৌদি রাজপরিবারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের এতে সমাগম ঘটবে। এজন্য তাদের জন্য রাখা হবে আলাদা থাকার ব্যবস্থা। বিশেষ করে সৌদি রাজপরিবার ও তাদের অতিথিদের জন্য থাকছে একটি টাওয়ারের পাঁচটি ফ্লোর। সাধারণ অতিথিদের ওই ফ্লোরগুলো ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না।

গিনেস রেকর্ড

কক্ষের হিসাব অনুযায়ী এ মুহূর্তে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হোটেল মালয়েশিয়ায় অবস্থিত ৭ হাজার ৩৫১ কক্ষবিশিষ্ট ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড হোটেল অ্যান্ড প্লাজা। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাস শহরের দ্য ভেনেশিয়ান রিসোর্ট (৭ হাজার ৯২ কক্ষ)। তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাস ভেগাসের এমজিএম গ্র্যান্ড হোটেল যাতে ৬ হাজার ৮৫২টি কক্ষ রয়েছে। এ ছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে লাস ভেগাসের সিটি সেন্টার (৬ হাজার ৭৯০ কক্ষ) ও মাকাও শহরের দ্য লন্ডনার মাকাও ( ৬ হাজার ২৪৬ কক্ষ)। আবরাজ কুদাইয়ের নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভাঙবে, কারণ এতে কক্ষ সংখ্যা ১০ হাজার!

উদ্দেশ্য

হজের সময় দূর-দূরান্ত থেকে প্রায় ২০ লাখ মুসল্লি জড়ো হন মক্কা শহরে। সে সময় সব মুসল্লিকে থাকার জায়গা দিতে বেগ পেতে হয় সৌদি সরকারকে। মক্কার সব হোটেল ওই সময় পূর্ণ থাকে। এ সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে হোটেল নির্মাণকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হিল্টনকে বছরখানেক আগে কনর‌্যাড মক্কা নামের একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের অনুমতি দেয় সৌদি সরকার। এ ছাড়া আরেক পাঁচ তারকা হোটেল হায়াত রিজেন্সি মক্কাতেও অবস্থান করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া মুসল্লিরা। এসব হোটেল স্থাপন করেও হজ করতে যাওয়া মুসল্লিদের সমস্যা পুরোপুরি লাঘব হয়নি। হোটেলে জায়গা না পেয়ে অনেক মুসল্লি খোলা আকাশের নিচে তাঁবু খাটিয়ে থাকতে বাধ্য হন। এ কারণে মেগা প্রকল্প আবরাজ কুদাই নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব। পুরো প্রকল্পটিই সৌদি সরকারের এবং এর অর্থায়নের ভার পুরোপুরি সৌদি সরকার বহন করছে।

হজ ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময় দুই কোটির বেশি পর্যটকের পবিত্র শহরটিতে বিভিন্ন প্রয়োজনে সমাগম ঘটে। বিয়ে ও কনফারেন্সের জন্য মক্কা এরই মধ্যে জনপ্রিয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ছয় বিলিয়ন পাউন্ড আয় করে সৌদি আরব। ব্যাপক সংখ্যক মুসল্লির থাকার বন্দোবস্ত করতে আবরাজ কুদাই নির্মাণের পাশাপাশি মক্কার পশ্চিমাংশে জাবাল ওমর কমপ্লেক্স গড়ে তুলছে সৌদি কর্র্তৃপক্ষ। এই কমপ্লেক্সে সব মিলে ২৬টি বিলাসবহুল হোটেল থাকবে যেখানে একসঙ্গে এক লাখ অতিথি অবস্থান করতে পারবেন। হোটেল ছাড়াও কমপ্লেক্সটিতে চার হাজার দোকান, পাঁচ শো রেস্তোরাঁ ও ছয় তলাবিশিষ্ট প্রার্থনা হলেরও ব্যবস্থা থাকবে।

সুযোগ-সুবিধা

আবরাজ কুদাই হোটেলের বেজমেন্টে কনভেনশন সেন্টার, শপিং মল, আড়াই হাজারের বেশি গাড়ি রাখার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এ ছাড়া হোটেলে থাকছে একটি বাস স্টপ যেখান থেকে পুরো মক্কা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাবা শরিফে যাতায়াত করা যাবে। অতিথিদের আরাম ও বিনোদনের জন্য সবচেয়ে হালনাগাদ ও বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে হোটেল কর্র্তৃপক্ষ। বিশ্বের অন্যান্য বিলাসবহুল হোটেলের মতো অতিথিদের জন্য আবরাজ কুদাইয়ে থাকছে সর্বোৎকৃষ্ট মানের সুযোগ-সুবিধা। এতে ২৪ ঘণ্টার অভ্যর্থনা সেবা, বেশ কয়েকটি লিফট, এলিভেটর, চার ও পাঁচ তারকা মানের সুবিশাল কক্ষ, ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্যুট কক্ষ, রেন্ট-এ-কার সুবিধা, জিম, বেশ কয়েকটি শপিং সেন্টারসহ অন্যান্য ব্যবস্থা থাকছে। অতিথিদের জন্য বেশ কয়েকটি স্পা রয়েছে আবরাজ কুদাইয়ে। এসব স্পাতে সর্বোচ্চ সেবা দানের দিকে নজর দিয়েছে হোটেল কর্র্তৃপক্ষ। স্পাগুলোতে মাসাজ, ফ্রেশ থার্মাল ওয়াটার বাথ, স্ক্রাব, সনাসহ শরীর সতেজ করার আরও হরেক রকমের সেবা পাবেন কাস্টমাররা। মাসাজ করার সময় তারা হোটেলের বাইরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। আবরাজ কুদাই হোটেল মক্কার অন্যতম সেরা রেস্তোরাঁর কেন্দ্রস্থলে পরিণত হবে বলে আশাবাদী সৌদি আরব। এসব হোটেলে ইতালিয়ান, চাইনিজ, ভারতীয়, থাই, এশীয়সহ অন্যান্য মহাদেশের খাবারের আয়োজন থাকবে। বিভিন্ন দেশের প্রচুর ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিখ্যাত খাবারেরও স্বাদ পাবেন অতিথিরা। আবরাজ কুদাই হোটেল কেবল স্বতন্ত্র, সুরুচিপূর্ণ, পরিশীলিত ও ব্যয়বহুলই নয়, এটির সুযোগ-সুবিধা অতুলনীয় এবং অতিথিদের চাহিদা হোটেল কর্র্তৃপক্ষ পূরণে সক্ষম হবে বলে আশা করছে সৌদি সরকার। তাদের প্রত্যাশা, আবরাজ কুদাই উদ্বোধনের পর বিলাসিতার সংজ্ঞাই পাল্টে যাবে, হোটেল স্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন ট্রেন্ড হাজির হবে।

অতিথিদের জন্য উন্নত মানের সুযোগ-সুবিধা ও সেবার বন্দোবস্ত রাখায় সবার পক্ষে আবরাজ কুদাইয়ে থাকা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগালের বাইরে এ হোটেলের ভাড়া। একটি সিঙ্গেল কক্ষের ভাড়া প্রতি রাতে চার লাখ ৩০ হাজার টাকার বেশি বলে জানা গেছে। উদ্বোধনের পর বুকিংডটকম, এক্সপেডিয়াডটকম, ট্রিপঅ্যাডভাইজারডটকম, অ্যাগোডাডটকমসহ অন্যান্য হোটেল বুকিং সাইট থেকে আবরাজ কুদাইয়ের কক্ষ বুক করা যাবে।

বিতর্ক

মক্কায় একের পর এক নির্মিত হচ্ছে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা। এতে শহরটির অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে স্থানীয়দের। ২০০২ সালে ১ হাজার ৯৭২ ফুট উচ্চতার জমজম টাওয়ারখ্যাত মক্কা রয়্যাল ক্লক টাওয়ার নির্মাণের সময় অষ্টাদশ শতাব্দীর আজইয়াদ কেল্লা ভেঙে ফেলা হয়। এর আগে মসজিদে হারামের সীমানার কাছে বাদশাহর বাড়ি নির্মাণ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এ কারণে মসজিদে হারামের সম্প্রসারণ চারদিকে সমান্তরালভাবে করা সম্ভব হয়নি। রয়্যাল টাওয়ার নির্মাণের আগে এর পাশে নির্মাণ করা হয়েছে, অত্যাধুনিক হোটেল দারুত তাওহিদ, দারে আবইয়াজ। পাশের জাবালে উমরেও নির্মাণ চলছে। এছাড়া মক্কার বিভিন্ন স্থানেও নির্মাণকাজ থেমে নেই। সৌদি আরবের পবিত্র শহরগুলোতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষার পক্ষে প্রচার চালানো যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক হেরিটেজ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইরফান আল-আলাউয়ি এ বিষয়ে বলেন, ‘মক্কা শহরকে একের পর এক আকাশচুম্বী অট্টালিকা গিলে খাচ্ছে। বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণের জন্য সব কিছু ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এতে শহরের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মুসল্লিদের পক্ষে এ শহরের ব্যয় মেটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। ’ বিশ্বের চতুর্থ সবচেয়ে উঁচু ভবন মক্কা রয়্যাল ক্লক টাওয়ার একেবারে কাবা শরিফের পাশে অবস্থিত। এই টাওয়ারে অবস্থিত হোটেলগুলোতে কয়েক হাজার কক্ষ রয়েছে। এসব হোটেলে বসে কাবা শরিফের মনোরম দৃশ্য দেখতে হলে অতিথিদের প্রতি রাতে চার লাখ টাকার বেশি গুনতে হয়। রাতের বেলা চোখ ধাঁধানো সবুজ লেসার রশ্মি ছড়ানো রয়্যাল ক্লক টাওয়ারের উচ্চতা ছয় শো মিটার। আগে এই হোটেলের জায়গায় পাহাড়ের ওপর স্থাপিত ওসমানীয় সাম্রাজ্যের একটি কেল্লা ছিল। হোটেলটি নির্মাণের জন্য ওই কেল্লার পাশাপাশি পাহাড়টিও ধ্বংস করা হয়। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মস্থানের জায়গাটিতে কোনো স্থাপনা নির্মিত না হলেও সৌদি আরবের রাজপরিবার তাদের রাজপ্রাসাদ নির্মাণের কারণে আশপাশের সব কিছু ভেঙে ফেলা হয়েছে। আলাউয়ি বলেন, ‘মক্কার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে। ’

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -spot_img

সর্বাধিক পঠিত