বিশ্ব ধরণী দিবস: আমরা ধ্বংস করে ফেলছি পার্বত্য অঞ্চলের ইকোসিস্টেম

সালেহীন আরশাদী

আমাদের জন্য ‘আর্থ ডে’ উদযাপনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ছবি বোধ হয় এটাই—বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার এক পাহাড়ি গ্রামে এভাবেই খাবার পানি সংগ্রহের জন্য রাত থেকে কলসের সিরিয়াল দেয়া হয়েছে। পাড়ার পাশ দিয়ে যে ঝিরি বয়ে যেত, সেটি মরে গেছে। সেই ঝিরিতে এখন আর পানি বয়ে যায় না। শুকনো খটখটে ঝিরিতে এখন একটি গর্ত করা হয়েছে। অল্প অল্প করে চুইয়ে আসা পানি গর্তে জমা হলে সিরিয়াল দেয়া কলসগুলো ভরার সুযোগ পায় পাড়াবাসী। মাটির নিচের একুয়াফিয়ার খালি হয়ে গেলে এই পানিটুকুও আর মিলবে না। তখন এই পাড়ার স্থান পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

ছবি: সালেহীন আরশাদী
আজ বিশ্ব ধরণী দিবস। এই দিন উপলক্ষ্যে গুগল দেখলাম বিশেষ ডুডল বের করেছে। ক্লাইমেট চেইঞ্জের টাইমলাইন দেখাচ্ছে। তবে আমাদের জন্য ‘আর্থ ডে’ উদযাপনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ছবি বোধ হয় এটাই—বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার এক পাহাড়ি গ্রামে এভাবেই খাবার পানি সংগ্রহের জন্য রাত থেকে কলসের সিরিয়াল দেয়া হয়েছে। পাড়ার পাশ দিয়ে যে ঝিরি বয়ে যেত, সেটি মরে গেছে। সেই ঝিরিতে এখন আর পানি বয়ে যায় না। শুকনো খটখটে ঝিরিতে এখন একটি গর্ত করা হয়েছে। অল্প অল্প করে চুইয়ে আসা পানি গর্তে জমা হলে সিরিয়াল দেয়া কলসগুলো ভরার সুযোগ পায় পাড়াবাসী। মাটির নিচের একুয়াফিয়ার খালি হয়ে গেলে এই পানিটুকুও আর মিলবে না। তখন এই পাড়ার স্থান পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

আমাদের ইকোসিস্টেম অনেক জটিল একটি প্রক্রিয়া, যার কোনো একটি এলিমেন্ট এদিক-সেদিক হলেই পুরো সিস্টেমের উপর তার প্রভাব পড়ে। আমাদের পাহাড়গুলো কীভাবে পানিশূন্য হয়ে যাচ্ছে সেটি জানার জন্য একটু সচেতনতাই যথেষ্ট। পাহাড়ের ঝিরিগুলো থেকে সাম্প্রতিককালে ব্যাপকহারে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। সেই পাথর দিয়ে পুরো বান্দরবান জুড়েই রোডনেটওয়ার্ক বানানো হচ্ছে। এখন ঝিরিতে নিশ্চল পাথরগুলো খামোখা পড়ে নেই। আমরা পাথরগুলোর একটি বাজারমূল্য বের করে ফেলেছি।

কিন্তু একইসাথে ভুলে গেছি আমাদের প্রাকৃতিক সিস্টেমে এই নিশ্চল পাথরেরও একটি ভূমিকা আছে। ঝিরিগুলোতে এরা ন্যাচারাল ড্যাম হিসেবে কাজ করে। পানির গতি কমিয়ে দেয়। পানি তখন রিভার বেড দিয়ে মাটি চুইয়ে নিচের একুয়াফিয়ারে জমা হবার পর্যাপ্ত সময় পায়। ঝিরিতে যদি পাথর না থাকে তাহলে বৃষ্টির পানি দ্রুত গড়িয়ে ঢলের মত নেমে যায়, মাটির নিচে আর পানি যেতে পারে না।

এছাড়া নির্বিচারে বনভূমির গাছ কাটা, বনায়নের নামে বাণিজ্যিক গাছ লাগানো, কীটনাশক মেরে রাস্তার দুপাশের সব ভেজিটেশন মেরে ফেলা, জুম চাষ, বাণিজ্যিক ফলবাগান সবই এই পানি নাই হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী।

নিজের একটা গল্প বলি। মদকের রিজ লাইন ধরে উত্তর থেকে দক্ষিণে যাচ্ছি। মাথার উপর চড়া রোদ। রিজের উপর বড় গাছপালার ঘনত্ব স্বভাবতই কম থাকে। এদিকটা খুব খাড়া বলে স্বাভাবিকের চাইতেও গাছপালা একটু কম। শুধু একটু পরপর বাঁশঝাড় আছে বলেই যা রক্ষা। এদিকে প্রচণ্ড গরম আর আদ্রর্তার কারণে আমাদের সাথে থাকা পানিও প্রায় শেষ। এক পর্যায়ে গলা ভেজানোর জন্য এক ফোঁটা পানির জন্যই শুধু একটা খাঁজ ধরে আমরা নিচে নেমে যেতে থাকি।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -